বিজ্ঞাপন

কার্যকর আইএমইআই ডাটাবেজ চায় মোবাইল টেকনিশিয়ানরা

October 25, 2020 | 5:10 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মোবাইলে ঘটিত অপরাধ দমনে একটি কার্যকারি আইএমইআই ডাটাবেজ গঠনসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সেলফোন রিপেয়ার টেকিনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি অনিবন্ধিত সংগঠন। একইসঙ্গে সরকারের কাছে দ্রুত সংগঠনটির অনুমোদন দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া মোবাইল টেকনিশিয়ারা কী কী কাজ করতে পারবে তার নীতিমালাও চেয়েছেন তারা। সম্প্রতিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে মোবাইল টেকনিশিয়ানদের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে রোববার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সেল ফোন রিপেয়ার টেকিনিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য আমরা মোবাইল টেকনিশিয়ানরা সংগঠিত হতে চাই। সংগঠনের পক্ষ থেকে মোবাইল চুরি বা এ সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চাই। বর্তমানে যে আইএমএ ডাটবেজ রয়েছে সেটা এসএমএস গেটওয়েতে। সেখানে দেশের সব মোবাইল ফোন নিবন্ধিত নেই। আমরা চাই কার্যকর আইএমএ ডাটাবেজ। যেখানে একটা নির্দিষ্ট ফি দিয়ে দেশে থাকা সব মোবাইল নিবন্ধন করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

কার্যকর আইএমইআই ডাটাবেজ চায় মোবাইল টেকনিশিয়ানরা

এছাড়া বাইরে থেকে দেশের কোন নাগরিক আসলে তিনি যদি চার-পাঁচটি ফোন নিয়ে আসেন, তিনি এয়ারপোর্ট থেকেই ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে আইএমইআই নিবন্ধন করতে পারবে। যদি কোনো কারণে তা না করতে পারে তবেও পরে বিটিআরসিতে ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া বিদেশি কোনো নাগরিক দেশে আসলে তিনিও পাসপোর্ট দেখিয়ে আইএমইআই নিবন্ধন করে নিতে পারবেন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমরা আইনের মাধ্যমে সংগঠিত হতে চাই। সংগঠনের যদি অনুমোদন দেওয়া হয় আমরা সরকারকে মোবাইলে ঘটিত যেকোনো অপরাধ দমনে সার্বিক সহযোগিতা করবো। আমরা কীভাবে কাজ করবো, কী করতে পারবো, কী করতে পারবো না- তার একটি নীতিমালা চাই। সরকার নীতিমালা করে দিলে আমাদের কাজ করতে সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল মেরামতের কাজ দুইভাবে হয়ে থাকে- হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার। বর্তমানে আমরা সফটওয়্যার ঘটিত কোনো কাজ করতে পারছি না। কারণ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা আছে অন্যের ডিভাইসে প্রবেশ নিষিদ্ধ। ফলে টেকনিশিয়ানদের জন্য আলাদা নীতিমালা করে দিলে আমরা কী করতে পারবো, কী করতে পারবো না তা আমাদের জানা থাকবে। এতে আমরা কোনো বিড়ম্বনায় পড়বো না।’

বিজ্ঞাপন

কার্যকর আইএমইআই ডাটাবেজ চায় মোবাইল টেকনিশিয়ানরা

গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে মোবাইল টেকনিশিয়ানরা পাঁচটি দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হল- মোবাইল মেরামত টেকনিশিয়ান পেশাকে স্বাকৃতি প্রদান। পেশাটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকার সমস্যার সামাধান সম্ভব। বাংলাদেশের চলমান আইন সংশোধন ও নতুন কঠোর আইন প্রণয়ন করে এ পেশার সকল অপরাধকে বন্ধ-নিরুৎসাহিত করার করতে হবে। একটি কার্যকারি আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। মোবাইল মেরামতে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার বক্স এর অনুমোদন দিতে হবে। এই সব বক্স বা ডিভাইস বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের মোবাইল মেরামতের পাঠ্যসূচিতে স্বীকৃতি, সেইসাথে এ বক্সগুলো সকল উন্নত রাষ্ট্রে স্বীকৃত।

বিজ্ঞাপন

টেকনিশিয়ানরা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের এ পেশার কোনো অভিভাবক নেই। আমাদের একটি সাংগঠনিক কাঠামো গঠনে সরকারি অনুমোদন দিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত করতে আপনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করছি। এ সংগঠনটি হবে অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও সেবামুলক। যা সরকার ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীকে অপরাধ দমনে থাকবে অঙ্গিকার বদ্ধ। সাংগঠনিক আইন দ্বারা সকল টেকনিশিয়ান পরিচালিত হবে। আমাদের সংগঠনের সদস্যগণ চোরাই পণ্য ব্যবহার ক্রয়-বিক্রয়-স্থাপনে বিরত থাকার অঙ্গীকারপত্রের মাধ্যমে সনদ গ্রহন করবে। সাংগঠনিক সনদ বা সদস্য আইডি ছাড়া কেউ এ পেশার কাজ করতে পারবে না। সাংগঠানিক আইন দ্বারা সকল টেকনিশিয়ান পরিচালিত হবে। সংগঠন গ্রাহক মতামত কপি সরবরাহ করবে, গ্রাহক কপিতে গ্রাহকগণ মতামত ও সেবার মান উল্লেখ করবেন। সংগঠন গ্রাহক মান যাচাই পূর্বক সদস্যকে সনদ লেভেল মানপত্র প্রদান করবেন। যা গ্রাহকদের সুন্দর মান নিশ্চিত করবে। সংগঠনটি মাসিক, ত্রিমাসিক ও বার্ষিক পরিদর্শন দ্বারা এর সদস্যদের কারিগরি মান যাচাই, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ প্রদান, রাষ্ট্রিয় আইন মেনে চলা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ সকল বিষয়ের উপর সনদ প্রদান করবে।’

এছাড়া টেকনিশিয়ানরা বলছেন, সরকারি সহযোগিতায় মোবাইল মেরামত পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষার দ্বারা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট প্রদানে সহযোগিতা দিতে হবে। যা দিয়ে দেশ ও বিদেশ এ পেশার দ্বারা বিভিন্ন কেয়ার সেন্টার এ চাকরির সুযোগ পাবে। একইসঙ্গে শূন্য সুদে ক্ষুদ্র ঋণ পাওয়ার দাবিও রয়েছে তাদের।

প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে টেকনিশিয়ানরা আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা প্রতিটি জায়গায় অবজ্ঞা ও অবহেলা এবং হয়রানির শিকার হয়েছি। আমাদের এ পেশাজীবীদের মাঝে অনেক শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি থাকার পরও আমরা কোন প্রকার স্বীকৃতি বা মূল্যায়ন পাইনি। আপনার একটু সহযোগিতা এনে দিতে পারে এ পেশার উজ্জ্বল ভবিষ্যত। আপনার সহযোগিতা ও স্বীকৃতি পেলে আমরা প্রশিক্ষণ দ্বারা বেকার ছেলে-মেয়েদের প্রশিক্ষিত করে বেকারত্বমুক্ত সমাজ গড়তে সহযোগিতা করতে পারি। অন্যান্য সকল পেশায় স্বীকৃতি আছে, আছে অধিকার। কিন্তু আমাদের পেশায় তা নেই।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন