বিজ্ঞাপন

৩ মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা

October 27, 2020 | 10:31 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) অভিঘাতে দেশের অর্থনীতির চাকা অনেকটাই থেমে ছিল। দেশের অর্থনীতিতে ফের গতি ফিরতে শুরু করলেও চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়সহ সব ধরনের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনকেই কঠিন মনে করা হচ্ছিল। এ কারণে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় কাটছাঁট আনা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

এনবিআর সূত্র বলছে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের হিসাবে এমন সব আশঙ্কারই প্রতিফলন দেখা গেছে। কেবল এই তিন মাসেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর বলছে, রাজস্ব আদায়ের এই ঘাটতির পেছনে মূল কারণ করোনাভাইরাসের অভিঘাত। করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি ফের সচল হতে শুরু করেছে। প্রথম প্রান্তিকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আগামী প্রান্তিকগুলোতে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠাও সম্ভব হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৩ হাজার ৭১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৯ হাজার ৯৮৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এই তিন মাসে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১৩ হাজার ৭২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।

এদিকে, এই তিন মাসে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব এসেছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) তথা ভ্যাট থেকে। এ খাতে তিন মাসের রাজস্ব ১৮ হাজার ১১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আবার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আদায়ে সাফল্য দেখিয়েছে আয়কর ও ভ্রমণ খাত। এই খাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৭১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৯১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ দশমিক ০৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি ও রফতানি পর্যায়ের শুল্ক খাতে ২১ হাজার ৮০৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে ঘাটতি ৫ হাজার ৮৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা সবগুলো খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। এছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৪৭৫ কোটি এবং আমদানি শুল্ক থেকে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার অভিঘাতে অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যেভাবে ঘাটতি দেখা গেছে, তার প্রভাব গোটা অর্থবছরেও কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এনবিআরের পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিভাগের মহাপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে রাজস্ব আহরণ কিছুটা কম হচ্ছে। তবে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমান রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি কিন্তু ভালো। করোনা পরিস্থিতির যত উন্নতি হবে, রাজস্ব আদায়ও তত বাড়বে।

এনবিআরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, রাজস্ব নিয়ে এখনই চিন্তার কিছু নেই। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণে এনবিআর কাজ করছে। সামনে রাজস্ব আয়ের গতি আরও বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ সারাবাংলাকে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। তার ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাব ছিল। ফলে লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতি থাকবেই। করোনার কারণেই সম্ভবত ঘাটতিটা এত বেশি হয়েছে। কারণ অর্থনীতি সচল না থাকলে ভ্যাট আসবে কিভাবে? আবার আমদানি না থাকলে আমদানি শুল্কই বা আসবে কোথা থেকে? এই দুইটি খাতই রাজস্বের সবচেয়ে বড় উৎস। আর করোনার কারণে এই দুইটি খাতেই প্রভাবটাও পড়েছে অনেক।

তবে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করোনার ‘দোহাই’ দিয়ে এনবিআর নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকছে কি না, এ বিষয়টি লক্ষ করার কথা বলেন আব্দুল মজিদ। তিনি বলেন, করোনায় অর্থনীতি অচল হয়ে পড়েছে— এ কথা বলে এনবিআর স্রোতে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে কি না, সেটি দেখার বিষয়। কারণ মার্চ পর্যন্ত অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিপথেই এগোচ্ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শেষের তিন মাস। কিন্তু এর মধ্যেই মানুষের যতটুকু আয় করার, মোটামুটি করে নিয়েছে। ফলে করোনার অভিযানে ভ্যাট বা কাস্টমস ডিউটি থেকে আয় কম হতে পারে। কিন্তু এনবিআর যদি এ ক্ষেত্রে আয়করকে দায়ী করে থাকে, বুঝতে হবে তারা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেনি বা করছে না।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন