বিজ্ঞাপন

কৌশলে ভাগিয়ে আনা রোগীর অপারেশন করতো ওয়ার্ড বয়!

October 29, 2020 | 2:03 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় নামে-বেনামে গড়ে উঠেছে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক। এগুলো চলে মূলত সরকারি হাসপাতাল থেকে কৌশলে ভাগিয়ে আনা রোগী দিয়ে। আর এই কাজটি করে দালালদের একটি চক্র। বিনিময়ে তারা পায় কমিশন। কিন্তু এই হাসপাতালগুলোতে নেই কোনো ডিগ্রিধারী চিকিৎসক। হাসপাতালের মালিক বা পরিচালকই সিদ্ধান্ত দেন কীভাবে রোগীর চিকিৎসা হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়ের হাতেই হয় গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন। এতে অনেককেই পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকার আল-মদিনা, ক্রিসেন্ট এবং নুরজাহান নামের তিনটি হাসপাতালে র‍্যাবের যৌথ অভিযানের পর বেরিয়ে আসে এসব তথ্য। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহায়তায় অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

অভিযানে র‍্যাব জানতে পারে, হাসপাতালগুলো কমিশনের বিনিময়ে দালাল দিয়ে রোগী এনে তারা উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার কথা বললেও অপরিষ্কার ও ফ্লোরে রক্ত মাখা কাপড় ও ওয়ার্ড বয়কে দিয়ে অপারেশন করায়। এসব অপরাধে হাসপাতালগুলো সিলগালা করাসহ পরিচালক ও ওয়ার্ড বয়দের কারাদণ্ড দিয়েছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিজ্ঞাপন

কৌশলে ভাগিয়ে আনা রোগীর অপারেশন করতো ওয়ার্ড বয়!

অভিযানের প্রসঙ্গে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু সারাবাংলাকে বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে জানতে পারি, যারা এসব হাসপাতাল পরিচালনা করছে তাদের কেউ একেবারেই অশিক্ষিত। আবার কেউ টেনে টুনে এসএসসি পাস করলেও পেরুতে পারেনি এইচএসসির গণ্ডি। তবুও তারা হাসপাতাল বসিয়ে রোগী দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতো। আবার কেউ কেউ প্রাইমারির গণ্ডিই পেরুতে পারেনি। তবুও তারাই করছে অপারেশন। ফলে যারা প্রতারিত হয়ে তাদের কাছে আসছে তারা শেষ পর্যন্ত অঙ্গহানির শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীতে অবস্থিত হাসপাতালগুলোতে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে আসে। এরপর তারা কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। তারা রোগী আনার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া। বিশেষ করে অপারেশনের সিরিয়াল পেতে দেরি হবে, ততদিনে রোগী বাঁচবে না ইত্যাদি। ফলে রোগীর স্বজনরাও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে যায়।’

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন। বয়স ৫০-এর কোঠায়। তার দাবি, তিনি পড়াশুনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। পাসের সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। কিন্তু এই আবুল-ই একাধারে হাসপাতালটির পরিচালক ও রোগীদের ভাঙ্গা হাত-পায়ের এক্সেরে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেন। এছাড়াও ক্রিসেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরও চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

কৌশলে ভাগিয়ে আনা রোগীর অপারেশন করতো ওয়ার্ড বয়!

তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ আসে চিকিৎসা নিতে। যারা বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তারাই মূলত এসব দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘অভিযানের শুরুতেই মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানকার পরিচালক নূর-নবীর কোনো ধরনের চিকিৎসা প্রদানের সনদ বা অনুমোদন নেই। অথচ তিনি তার রুমে বসে রোগী দেখছেন এবং ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছেন। হাত ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন তাদের অপারেশন করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। যা তিনি কোনোভাবেই দিতে পারেন না। এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে নূর-নবীকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ আনোয়ার হোসেন কালু ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদকে ছয় মাস করে সাজা দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।’

পলাশ কুমার বলেন, ‘একই অপরাধে নুরজাহান হাসপাতালের মালিক বাবুল হোসেনকে এক বছর এবং ওয়ার্ড বয় জাহাঙ্গীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে হাসপাতালটি সিলগালা করা হয়েছে।’

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন