বিজ্ঞাপন

শত অভিযোগ, তবুও ‘ক্লিন’ হাজী সেলিম!

October 31, 2020 | 10:54 pm

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সদ্য বহিষ্কৃত ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইরফান সেলিমকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে বইছে আলোচনার ঝড়। ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে। ২৫ অক্টোবর রাতে নৌ-বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর দিনভর অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক এবং অবৈধ ওয়াকিটকি ও ভিভিআইপি সরঞ্জামাদিসহ রাজধানীর চকবাজারের ২৬ নম্বর দাদাবাড়ি থেকে সাংসদপুত্র ইরফানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার পরই অতীতের সব আলোচিত-সমালোচিত ঘটনা নিয়ে দেশবাসীর সামনে ফের আলোচনায় উঠে আসেন দাপুটে সাংসদ হাজী সেলিম। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটাই আলোচনা- ইরফান সেলিম যে কারণে গ্রেফতার হয়েছে, সে অপরাধের দায় এড়াতে পারেন না তার বাবা সাংসদ হাজী সেলিমও। অর্থাৎ ইরফান সেলিমকে অপরাধ জগতের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে দায়ী করা হচ্ছে হাজী সেলিমকে। শুধু তাই নয়, সাংসদ হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয় দেখানোর মতো নানান অভিযোগও গণমাধ্যমে উঠে আসছে। এ ঘটনায় ইরফান সেলিম গ্রেফতার হলে হাজী সেলিম কেন গ্রেফতার হবেন না?- এমন প্রশ্নই ঘুরপাক জনমনে। কিন্তু এই প্রশ্নের আপাতত উত্তর হলো- হাজি সেলিম আইনের চোখে নিরাপরাধ!

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গণমাধ্যমে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসলেও প্রকৃতপক্ষে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো মামলা কিংবা লিখিত অভিযোগ নেই। আবার ইরফান সেলিম যে কারণে গ্রেফতার হয়েছে সে ঘটনায় হাজি সেলিম জড়িত থাকার মতো এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণও মেলেনি। তাই আপাতত হাজি সেলিম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ‘ক্লিন’ হিসেবেই রয়েছেন। তবে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পেলে এবং তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা রয়েছে কি-না?- জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্যারের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ নেই। তবে ম্যাডামের (হাজী সেলিমের স্ত্রী) বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত একটা অভিযোগ রয়েছে।’

তবে লালবাগ বিভাগের কোনো থানায় হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি-না জানতে চাইলে উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমপি হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে লালবাগ বিভাগের কোনো থানায় মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্য হিসেবে হাজী সেলিমের ভবনে অপরাধের যে সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে সে দায় তার ওপরও বর্তায়। আর এজন্য ফৌজদারি অপরাধে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে ব্যবস্থা নিতে পারে। এ জন্য আইনেরর কোনো বাধ্যবাধকতাও নেই বলে মনে করছেন তারা।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

শত অভিযোগ, তবুও ‘ক্লিন’ হাজী সেলিম!

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে যেসব অভিযোগ উঠে আসছে সেসব অভিযোগ ফৌজধারি অপরাধ হিসেবেই গণ্য। জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ এক বিষয়। আর জমি দখল আরেক বিষয়। দখলের বিষয়টি অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ। আবার হাজী সেলিমের বাসায় যেসব অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে এটির পৃষ্টপোষকতার জন্য হাজী সেলিম অবশ্যই দায়ী। কারণ সেটি তার ভবন। সেলিমের তত্ত্ববধানে থাকা ভবনে কীভাবে টর্চার সেল গড়ে উঠলো সে অপরাধের দায় কিন্তু তার উপরেও বর্তায়। এটি ফৌজদারি অপরাধ।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘যদি হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে থানায় কোনো অভিযোগ নাও থাকে তবে তদন্ত করতে গিয়ে যদি তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাতেও তাকে অটোমেটিক্যালি আইনের আওতায় আনা সম্ভব। কিন্তু শঙ্কার জায়গা হচ্ছে, সে সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আছে কি না।’

একই কথা বললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। সারাবাংলাকে তিনি বলেন, ‘হাজী সেলিম ফৌজদারি অপরাধ করেছে কি না সেটা তো বড় কথা নয়। তার চেয়ে বড় কথা নৌ কর্মকর্তাকে মারধর করার কারণেই অভিযান হলো। কিন্তু এতদিন কেন হলো না? এতদিন কি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতো না যে, সেখানে কি হচ্ছে? অভিযানের পরই কেন জানতে হলো? প্রকৃতপক্ষে এ অভিযানের মাধ্যমে শুধুমাত্র একজনের ওপর দায় চাপিয়ে বড় অপরাধীদেরকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে কারণে শুধু হাজী সেলিম কেন, এ দেশে তার মতো এমন অসংখ্য প্রভাবশালী আছে যারা ফৌজধারি অপরাধ করলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার দলের সংসদ সদস্যরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে থেকে নানা রকমের ফৌজদারি অপরাধ করে থাকে। যেটাকে বলা হয় ক্রিমিনালাইজেশন অব পলিটিক্স। অর্থাৎ দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি। কারণ হলো, সরকার এতদিন চায়নি। এখন কোনো একটা ঘটনার উপলক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু এটা আসলে ঠিক নয়। অপরাধ যখনই সংগঠিত হবে তখনই ব্যবস্থা নেওয়াটাই হলো আইনের শাসন। কিন্তু সে আইনের শাসন তো নেই এখন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত, ভবনটি হাজী সেলিমের হলেও সেখানে তারা আলাদা আলাদা ফ্ল্যাটে বসবাস করে। হাজী সেলিম বসবাস করেন দ্বিতীয় তলায়। তার ছেলে বসবাস করেন চতুর্থ ও পঞ্চম তলায়। আমরা যেসব অবৈধ সরঞ্জামাদি পেয়েছি সেগুলো ছিল তার ছেলের বাসায়। সুতরাং ছেলের দায় তো পিতার উপরে চাপাতে পারি না। কারণ, আমরা সেদিনের ঘটনায় এমপি হাজী সেলিমের কোনো স্পৃক্ততা পাইনি।’

তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ কেবল গণমাধ্যমেই উঠে আসছে। কেউ কিন্তু থানায় মামলা করছে না। মামলা না করলে তদন্ত হবে কীভাবে। কেউ যদি থানায় মামলা করেন, তাতে যদি তদন্ত সাপেক্ষে হাজী সেলিমের অপরাধ পাওয়ায় তাহলে অবশ্যই তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।’

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, আপাতত বিশেষ ক্ষমতা আইনে এগুচ্ছে না তারা। আইনের স্বাভাবিক গতিতেই হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে এগিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়া বিষয়টি দুদকও নজর দিয়েছে। দুদক যেহেতু অপরাধ দমনের জন্যই কাজ করছে সেক্ষেত্রে বিষয়টি এখন তাদের ওপর ছেড়ে দিতে চাইছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর দুদক যদি হাজী সেলিম পরিবারের অনিয়মের প্রমাণ পায় সে ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে দুদকই ব্যবস্থা নেবে।

ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে নৌ কর্মকর্তার দায়েরকৃত মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দান পুলিশ (ডিবি)। এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু নৌ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত করা হচ্ছে। সুতরাং এ তদন্তে হাজী সেলিমের বিষয়টি আসছে না। তবে ইরফান সেলিমের কাছ থেকে পাওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ সরঞ্জামাদির বিষয়টি নিয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এটি তাদের এখতিয়ার।’

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. দেলোয়ার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় তদন্তে গণমাধ্যমে উঠে আসা অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যদি কেউ জড়িত থাকে অবশ্যই তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এক্ষেত্রে সাংসদ হাজী সেলিমও যদি অপরাধী হন তবে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।’

গণমাধ্যমে যত অভিযোগ হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে

পুরান ঢাকায় আধিপত্য বিস্তারে কখনও তাণ্ডব চালিয়ে, আবার কখনও জোরপূর্বক, কখনও মামলা-হামলা করে জমি, বাড়ি ও মার্কেট দখল করার অভিযোগ উঠে আসছে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে।

তিব্বত হল দখল: পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলী ওয়াইজঘাট এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হল জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ আছে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ৮ ও ৯ নম্বর জিএল পার্থ লেনের ৮ দশমিক ৮৮৯ কাঠার জমি দখলের পর ২০০১ সালে মার্কেট নির্মাণ করেন হাজী সেলিম। সেই মার্কেট নিজের স্ত্রী গুলশান আরার নামে নামকরণ করা হয়। তবে দখল ঠেকাতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা আন্দোলন করেও হলটি উদ্ধার করতে পারেনি। এক পর্যায়ে হলের জমি নিজস্ব বলে দাবি করেন হাজী সেলিম।

শহীদ আনোয়ার শফিক হল দখল: আরমানিটোলা মাহুতটুলির ১, শরৎচন্দ্র চক্রবর্তী রোডের ৪০ কাঠার হলটিও দখল করে রেখেছেন হাজী সেলিম। পুরানো ভবন ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করে টিন, হার্ডওয়ার ও ফার্নিচারের গোডাউন তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

অগ্রণী ব্যাংকের জায়গা দখল: পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার এলাকায় ১৪ শতক জমি দখলে রেখেছিলেন হাজী সেলিম। অবশেষে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা দখলমুক্ত করে। সেদিন সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা ছাড়াই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজেদের জায়গা বুঝে নেয়।

বধির সমিতির জমি দখল: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের লালবাগ থানা এলাকায় অবস্থিত ঢাকা সরকারি বধির হাইস্কুলের এক একর জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে। জমিটি দখলমুক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জানান, ২০০৫ সালে বধির সমিতিকে জায়গাটি সরকার বরাদ্দ দেয়। এরপর ২০০৭ সালে সেটি দখলে নেন হাজী সেলিম।

সরদার কোল্ড স্টোরেজ: বেড়িবাঁধ এলাকার ১৬/বি হোল্ডিংয়ের ছোটকাটরায় হাজী সেলিমের সরদার কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। এটিও এক ব্যক্তির জমি দখল করে বানানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জায়গাটি দখলে নেওয়ার পর আজও তা উদ্ধার করতে পারেনি ওই পরিবার। বাধ্য হয়ে আদালতে তারা মামলা করে। সেই মামলার পর বিভিন্ন সময় নোটিশ পাঠানো হলেও কোনো তোয়াক্কা করেননি হাজী সেলিম।

মদিনা আশিক টাওয়ার: চকবাজারে অবস্থিত মদিনা আশিক টাওয়ারের জায়গাটিও দখল করেছিলেন হাজী সেলিম। ওই জায়গার মালিকের নামে ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করে পুরো জায়গা দখল করে নেন তিনি। শুধু তাই নয়, আশিক টাওয়ারের জমি দেখিয়ে পূবালী ব্যাংক থেকে হাজী সেলিম ৭০০ কোটি টাকা ঋণ নেন, যা এখনও শোধ করেননি। তারপরও মার্কেটের পজিশন বিক্রি করছেন তিনি।

জিলাপি বিক্রেতার বাড়ি দখল: চকবাজার এলাকায় এক জিলাপি বিক্রেতাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় হাজী সেলিম বাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে জমিটি হাজী সেলিমের নামে লিখে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জিলাপি বিক্রেতার পরিবারকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়।

আরও যত দখল: চকবাজারের মৌলভীবাজারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জায়গা দখল করেছেন হাজী সেলিম। শুধু তাই নয়, ঐতিহ্যবাহী আহসান মঞ্জিলের পাশে নবাব পরিবারের জমি দখল করে সেখানে মার্কেট করেছেন তিনি। চকবাজারের মৌলভীবাজারে গুলমদন টাওয়ারের পাশে বিসমিল্লাহ টাওয়ার মার্কেটটিও দখল করেছে সেলিম বাহিনী। এছাড়া পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের পাশে কামালবাগে খাল দখল করে ড্রামপট্টি তৈরি করেছেন তিনি। যেখান থেকে তার প্রতিমাসে আয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমপি হাজী সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) বেলাল হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমপি মহোদয় একটি মসজিদে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে রয়েছেন। সেজন্য তিনি ব্যস্ত।’

সারাবাংলা/এসএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন