বিজ্ঞাপন

‘আমেরিকার একলা চলো নীতি বিশ্ব জনমতকে দ্বিধাবিভক্ত করছে’

October 31, 2020 | 10:00 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা যেমন- বর্ণবাদ, চরম ডানপন্থা এবং শ্বেতাঙ্গ চরমপন্থীবাদের উত্থান, ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার আন্দোলন, করোনা সমস্যার অব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আন্দোলন এবং দেশটির বিশ্বায়ন-বিরোধী কর্মকাণ্ড, একলা চলো নীতি, বাণিজ্যযুদ্ধ, অভিবাসনবিরোধী নীতিমালা দেশে ও বিদেশে জনমতকে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় দ্বিধাবিভক্ত করছে।

বিজ্ঞাপন

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইন্সটিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (এসআইপিজি) এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ এবং এশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে বক্তারা এমন মন্তব্য করেন। এই ওয়েবিনারের আলোচ্য বিষয় ছিল মার্কিন নির্বাচন-২০২০ এর গতি-প্রকৃতি, বাংলাদেশ এবং এশিয়া-আমেরিকার সম্পর্কে এবং এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনীতির ওপর এর প্রভাব বিশ্লেষণ করা।

এসআইপিজি’র পরিচালক ও এনএসইউ’র রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শেখ তৌফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হারিছুর রহমান সুচনা বক্তব্যের মাধ্যমে ওয়েবিনারে সবাইকে স্বাগত জানান।

বিজ্ঞাপন

ওয়েবিনারে মার্কিন নির্বাচন সম্পর্কে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপিত হলে, যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে সামাজিক সহিংসতার একটি আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।’

কীভাবে ট্রাম্প আমেরিকায় একধরনের মেরুকরণ করতে সক্ষম হয়েছেন, অভিবাসীদের বিরুদ্ধে মানুষকে খেপিয়ে তুলেছেন, দেশকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছেন এবং শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের দেশের সমাজ-রাজনীতিতে একধরনের গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছেন, তা তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে এশিয়ায় এর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ভূ-রাজনীতির পাশাপাশি এশিয়া ক্রমাগত অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়েছে। সে প্রেক্ষাপটে চীনের উত্থান ট্রাম্প এবং বাইডেন উভয়কেই একটি চিন্তার মধ্যে রেখেছে।’

বিজ্ঞাপন

আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমেরিকা ট্রাম্পের সময়ে যুদ্ধ করেনি ঠিক, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় লোক মেরেছেন। আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ করে তা একটি জঘন্য বিষয়। আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বৈশ্বিক গণতন্ত্রের ধারক যদি না থাকে তাহলে সারা পৃথিবী জুড়ে পপুলিস্ট এবং টোটালিটারিয়ান রেজিম তৈরি হয়।’

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির উপর মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে এনএসইউ’র এসআইপিজি’র সিনিয়র ফেলো ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের জায়গা হলো ভারত। ভারত ও চায়নার মধ্যকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ ভারতকে আরও বেশি যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রীক পলিসি গ্রহণে উৎসাহ যোগাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ মার্কিন নির্বাচন এবং পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, ‘চীনের সম্প্রতিক অর্থনৈতিক আধিপত্যকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্প এবং বাইডেন উভয়ই একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশই মূলত নির্বাচনে জো বাইডেন আসুক সেই প্রত্যাশায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

অপরদিকে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজ কুমার কোঠারি বলেন, ‘জো বাইডেন ক্ষমতায় এলেও ভারত-মার্কিন সম্পর্ক গভীর হবে। কারণ ভারতকে বাদ দিয়ে আমেরিকার পক্ষে এশিয়ায় সু-সম্পর্কের বিস্তৃতি সম্ভব নয়।’

বিজ্ঞাপন

মার্কিন নির্বাচন এবং বাংলাদেশের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, ‘যদিও পৃথিবীর উপর থেকে পুলিশি ব্যবস্থা সরিয়ে নিয়েছে ট্রাম্প-প্রশাসন, কিন্তু ট্রাম্পই প্রথম আমেরিকান রাষ্ট্রপতি যিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন কেবল আমেরিকার জন্যে, পুরো বিশ্বের জন্যে নয়।’

ওয়েবিনারে জো বাইডেনের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও এসআইপিজি, এনএসইউ’র সিনিয়র ফেলো শহীদুল হক উল্লেখ করেন, ‘জো বাইডেন জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে গণতন্ত্র, শরণার্থী ও মানবাধিকারবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এক ধরনের মৌলিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘গণতন্ত্র নিশ্চিত করা, বর্ণবাদ মুক্ত ও ঘৃণা ছড়ানোর প্রবণতা মুক্ত একটি বৈশ্বিক সমাজ গঠনে সঠিক নেতৃত্ব জরুরি। বিশ্বজুড়েই যে পপুলিস্ট রাজনীতির উত্থান, এক ডোনাল্ড ট্রাম্প চলে যাওয়ার মধ্যে যদিও এর সুরাহা হবে না।’ তবে এই প্রেক্ষাপটে জো বাইডেনের ভূমিকা আশাবাঞ্জক হবে বলে মনে করেন তিনি।

সারাবাংলা/জেআইএল/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন