বিজ্ঞাপন

মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পরিচালককে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ

November 18, 2020 | 2:49 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে চিকিৎসার নামে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় গ্রেফতার হওয়া চিকিৎসক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের মুক্তির দাবিতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও জেষ্ঠ্য চিকিৎকদের অবরুদ্ধ করে প্রতিবাদ করেন হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রাজধানীর মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আড়াই ঘণ্টা সব ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষায় থাকতে হয়।

দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের পরে হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখা শুরু হলে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দারসহ কয়েকজন কর্মকর্তা তখনো প্রশাসনিক ব্লকে তাদের কক্ষে অবরুদ্ধ ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের আন্দোলনে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার অবৈধ। গ্রেফতারের যথাযথ ব্যাখ্যা এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সম্মানের সঙ্গে চাকরিতে পুনর্বহাল করা। স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিত হাসপাতালের কর্মীদের নির্ভয়ে কর্মপরিবেশ বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া বিএপি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়শেনের নেতাদের উপস্থিত হয়ে কর্মকর্তাদের কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানান তারা।

এর আগে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিচালকের কক্ষের তালা খুলে দিয়ে তার সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার সুযোগ দেন আন্দোলনকারীরা।

বিজ্ঞাপন

এ সময় হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমাদের কোনো কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হলে আগে আমাকে জানানোর কথা। কিন্তু আমাকে কেউ কিছু জানায়নি। রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুন হাসপাতালের ডরমেটোরিতে থাকতেন।

ডা. মামুনকে ভোর ৪টার সময় উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন বলে জানান অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র রায় পোদ্দার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ডিজি স্যার আমাকে জিডি করার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী আমি থানায় জিডি করি। কিন্তু পরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধ্যমে পুরো বিষয়টা জানতে পারি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের জুনিয়র ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ডা. মামুনের মুক্তির বিষয়ে কী কী পদেক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে আমাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ডা. মামুনকে গ্রেফতারের ঘটনায় সবাই ক্ষুব্ধ। তারা আমার কাছে এসেছেন, আমি তাদের বলেছি, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি প্রোপার চ্যানেলে বিষটি সুরাহা করার। তাদের বলেছি, রোগীদের দুর্ভোগ হয় এমন কিছু না করতে। এ কারণে তারা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেছেন। আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ডা. মামুনের পরামর্শেই আনিসুলকে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে আদাবরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং মাইন্ড এইডে রোগী পাঠানোর জন্য তিনি কমিশন পেতেন।

তবে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের আন্দোলনরত চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না করেই একজন সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বুধবার সকালে হাসপাতালের পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে তাদের কক্ষে অবরুদ্ধ করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক সারাবাংলাকে বলেন, ডা. মামুন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তাকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আইনের ব্যাতিক্রম ঘটানো হয়েছে। যেহেতু তিনি সরকারি কর্মকর্তা তাই তাকে গ্রেফতার করার আগে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা দরকার ছিল। কিন্তু সেটা পুলিশ করেনি। নিয়ম না মেনে একজন চিকিৎসককে গভীর রাতে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আমাদের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটা জানার জন্য আমাদের আজকের আন্দোলন।

তিনি বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট থেকে মাইন্ড এইডে পাঠানোর পরমর্শ দেওয়ার যে কথা বলা হচ্ছে, তা তো সঠিক না। কারণ সেই কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যরাই ডা. মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ চান। সেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিলেন। আমাদের এখানে পর্যবেক্ষণ শেষে সেই পুলিশ কর্মকর্তাকে আউটডোরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রোগীর স্বজনরা কেবিন জোগাড় করে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু কেবিন খালি না থাকায় ডা. মামুন দিতে পারেননি। এরপরে রোগীর স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগেই হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান।

এদিকে হাসপাতালে বিক্ষোভ চলাকালে আউটডোরে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়৷ নবাবগঞ্জ থেকে মো. জসীম তার ১৭ বছর বয়সী ছেলের চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু বহির্বিভাগে টিকেট না পেয়ে আর চিকিৎসা নিতে পারেননি।

সারাবাংলা/এসবি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন