বিজ্ঞাপন

‘সশস্ত্র বাহিনীর এত আধুনিকায়ন আর কোনো সরকার করেনি’

November 21, 2020 | 7:35 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে ও বিদেশে বহুমুখী কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গৌরব বয়ে আনায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বাধীন সরকারই সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাগত দক্ষতায় বলীয়ান হয়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও দেশ গড়ার কাজে সশস্ত্র বাহিনী আরও বেশি অবদান রাখবেন বলেও প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ নভেম্বর) ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০০০’ উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এসময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা এই সরকারপ্রধান।

ভাষণের শুরুতেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এছাড়া জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদ ও নির্যাতনের শিকার ২ লাখ মা-বোনের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তিনি। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণের মুখে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে আজকের এই দিনটি বিশেষ গৌরবময় স্থান দখল করে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ ও বীরত্বগাঁথা জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা প্রর্বতিত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’— এই মূলমন্ত্রে আমাদের বৈদেশিক নীতি পরিচালিত। প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে যেকোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিগত এক দশকে আমরা সশ্রস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র ও উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই— আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে, অতীতে কোনো সময়েই তা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দুইটি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মাসেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এএফএমসি, এমআইএসটি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সামরিক হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতাকে বাড়াতে সেনাবাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর্মি ইনফরমেশন টেকনোলজি সাপোর্ট অর্গানাইজেশন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আইএফএফ প্রস্তুতকরণ প্রকল্প, মাইন-টর্পেডো ডেভেলপমেন্ট, গান ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দ্বারা উন্নত প্রযুক্তির সফট্ওয়্যার তৈরি করে সাইবার নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক ওয়ারফেয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনা আবাসন প্রকল্প, উন্নতমানের রসদ সরবরাহ এবং বহুতল সরকারি পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর শহিদ/মৃত/অবসরপ্রাপ্ত অসহায় বিধবা পত্নীদের দুঃস্থ ভাতা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আরও সুবিধাদির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের ছুটি নগদায়নের অর্থ প্রদান ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। জেসিও ও অন্যান্য পদবীর পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সদস্যদের জন্য মৃত্যুবরণ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনুদানের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিতে আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকারই সর্বপ্রথম সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগ করে। গত বছর হতে সেনাবাহিনীতে পাঁচ জন নারী সদস্য লে. কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে সম্মুখসারির যুদ্ধের ইউনিটগুলোর ইউনিট অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মতো চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগমকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘স্বাধীনতা পদক-২০১৯’-এ ভূষিত করা হয়। আমাদের সরকারের সময়ই প্রথমবারের মতো বিমান বাহিনীতে নারী বিমানসেনা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তিন বাহিনীর সমন্বিত আক্রমণের মুখে পিছু হঠতে শুরু করে পাক বাহিনী। একপর্যায়ে ১৬ ডিসেম্বর তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। গৌরবময় এই দিনটি স্মরণ করতেই স্বাধীনতার পর ২১ নভেম্বরকে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ হিসেবে উদযাপন করে আসা হচ্ছে।

প্রতিবছর এই দিনে সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে এ বছর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সে অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়টিও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাহিনীগুলো নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।

এই দিনটিতে সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করতে পারলেও ভাষণে তিন বাহিনীর সদস্যসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

সারাবাংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন