বিজ্ঞাপন

ওষুধ কেলেঙ্কারিতে জামিনে থাকা চিকিৎসক স্ত্রীর মামলায় গ্রেফতার

November 25, 2020 | 2:03 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ওষুধ কেলেঙ্কারির মামলার আসামি ডা. অলোক কুমার মন্ডল (বহিষ্কৃত) এবার নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। ওষুধ কেলেঙ্কারির ঘটনায় দুদকের করা মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) খুলনা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ডা. অলোক কুমার মন্ডল দুই বছর ধরে নিজের ক্লিনিক স্টার ডায়াগনস্টিকের রিসিপশনিস্টের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে স্ত্রী-কন্যা থেকে দূরে থাকতে শুরু করেন অলোক। তার স্ত্রী রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ডা. লিপিকা সারাবাংলাকে জানান, কয়েক মাস আগে তার স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের কথা জানতে পারেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের ঝগড়া হতো। এক পর্যায়ে সে স্ত্রীর গায়ে হাতও তোলে। এদিকে স্বামীকে অবৈধ সম্পর্ক থেকে ফেরাতে ডা. লিপিকা খুলনায় স্বামীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। সেখানে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মেটাতে গিয়ে গত ৪ অক্টোবর ডা. অলোকের প্রেমিকাকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে স্ট্যাম্পে ওই মেয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয় যে, সে আর তার স্বামীর সঙ্গে মিশবে না। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। ধীরে ধীরে তাদের ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।

ডা. লিপিকা জানান, এক পর্যায়ে স্বামীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে খুলনা সদর থানায় তিনি সাধারণ ডায়েরি করেন। কিন্তু তাতেও কোনো সুফল না পাওয়ায় ঢাকায় ফিরে গত ১৩ অক্টোবর রমনা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন তিনি। মামলা হওয়ার পর অলোক পলাতক ছিলেন। অবশেষে তাকে খুলনা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে রমনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘ডা. অলোকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তার স্ত্রী ডা. লিপিকা সরকার মামলা করেন। মামলার এজাহারে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামি গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করবে। সেখানে ডা. অলোক দোষী হলে সেভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

ডা. লিপিকা সরকার জানান, ২০০৪ সালে অলোকের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ডা. অলোক কুমার মন্ডল খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আরএমও পদে যোগদান করেন। ২০১৭ সালে হাসপাতালের সরকারি ওষুধ বিক্রির অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডা. অলোককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সঙ্গে তার সিন্ডিকের আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় ওষুধ বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগের সত্যতা পায় দুদক। ওষুধ কেলেঙ্কারির মামলায় দুই মাস খুলনা জেলে বন্দি থাকেন তিনি। সেখান থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও হাসপাতাল থেকে এখন তাকে সাসপেন্ডে রাখা হয়। পরে তিনি খুলনার স্টার ডায়াগনস্টিকসহ তিটি ডায়াগনস্টিকের শেয়ার নেন। খুলনা জেলার দাকোপ থানার চালনা বাজারের মৃত লক্ষ্মীকান্ত মন্ডল এবং মৃত অসীমা মন্ডলের ছেলে ডা. অলোকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নিয়মিত মদ্যপানের অভিযোগ রয়েছে।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন