বিজ্ঞাপন

করোনার সময়েও ডিএসই থেকে রাজস্ব বেড়েছে

November 26, 2020 | 4:54 pm

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনা মহামারির সময়েও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়েছে। চলতি বছরের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৫ মাসে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪১ টাকা। এটি গত বছরের (জুন-১৯ হতে অক্টোবর-১৯) একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি টাকা বেশি। ডিএসই সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

ডিএসই সূত্র জানায়, চলতি ২০২০ সালের করোনাকালীন (জুন থেকে অক্টোবর) এই পাঁচ মাসে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে ৬৮ কোটি ৬৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৮ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে উদ্যোক্তা পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৩ টাকা। ফলে চলতি বছরের করোনাকালীন সর্বশেষ পাঁচ মাসে ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪১ টাকা।

অন্যদিকে ২০১৯ সালের জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে উদ্যোক্তা পরিচালক বা প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি থেকে রাজস্ব আদায় হয় ২৬ কোটি ২৭ লাখ ২১ হাজার ৮৯১ টাকা। ফলে ২০১৯ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় ৬৫ কোটি ৭৮ লাখ ৫৮২ টাকা।ফলে ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালের সর্বশেষ পাঁচ মাসে ডিএসই থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় বেড়েছে ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ টাকা।

বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ ৯ বছর পর চলতি বছরের মে মাসে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)‘র দায়িত্ব দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম।

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়। নতুন চেয়ারম্যানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করে। এতে পুঁজিবাজারে আর্থিক ও শেয়ার লেনদেন বেড়ে যায়। লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিএসইসিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিএসইসিতে চেয়ারম্যানসহ নতুন কমিশন দিয়েছেন। এই কমিশন সাহসিকতার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিএসইসির নানা পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে। এতে অনেক নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। ফলে ডিএসইর লেনদেন আগে যেখানে ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা হতো বর্তমানে তা হাজার কোটি টাকা ছাড়াচ্ছে। লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় এ খাত থেকে সরকারের রাজস্বও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৯০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হলেও আমাদের দেশে ট্রেডারের সংখ্যা বেশি। তাই পুঁজিবাজারে আইনের শাসন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে ২০২১ সালের মধ্যে ডিএসইর লেনদেন দুই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তখন পুঁজিবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় আরও বেড়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য বর্তমানে পুঁজিবাজার থেকে সরকার দুই ধরনের রাজস্ব আদায় করে থাকে। প্রথমটি হচ্ছে- স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের ওপর উৎসে আয়কর বাবদ রাজস্ব আদায়। অন্যটি হলো-পরিচালক, উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার ও প্লেসমেন্ট শেয়ার হোল্ডারধারীদের শেয়ার বিক্রি বাবদ মূলধনী মুনাফা থেকে রাজস্ব আদায় করা হয়। তবে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে মে মাস পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ ছিল। ফলে গত এপ্রিল ও মে মাসে পুঁজিবাজার থেকে কোনো রাজস্ব আদায় হয়নি। গত জুন থেকে পুঁজিবাজারে রাজস্ব আদায় বাড়তে শুরু করে।

সারাবাংলা/জিএস/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন