বিজ্ঞাপন

পাচার হচ্ছিল ৯ কোটি টাকার সাপের বিষ, সিআইডির জালে ধরা

November 26, 2020 | 7:57 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ বাংলাদেশ রুট ব্যবহার করে পাচার করছিল একটি চক্র। এমনি একটি চক্রের দুই সদস্য সাপের বিষসহ সিআইডির জালে ধরা পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার (২৫ নভেম্বর) রাতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সাপের বিষ পাচারকারীর চক্রের মূল হোতা মো. মামুন তালুকদার (৫১) ও সহযোগী মো. মামুনকে (৩৩) গ্রেফতার করে সিআইডি। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বড় লকার, ছয়টি কৌটায় সংরক্ষিত সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যেকেটি বোতলের গায়ে COBRA Snake Poison of France, Red Dragon Company, COBRA CODE No-80975, Made in France লেখা আছে আরেকটিতে ছিল CATALOG BOOK.

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডির সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সাপের বিষ ক্রয় কিংবা বিক্রয়ের কোনো বৈধতা নেই। মূলত সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল পাচারকারীরা।’

অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, ‘গত ১৭ সেপ্টেম্বর সিআইডি ঢাকা মেট্রোর একটি টিম গাজীপুর জেলার বাসন থানা এলাকা থেকে সাপের বিষ ক্রয়-বিক্রয় ও পাচারকারী একটি চক্রের কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘এ রকম পাচারকারী আরও কয়েকটি বড় ধরনের চক্র সক্রিয় রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতরাতে সাপের বিষ পাচারকারীর চক্রের মূলহোতা মামুন তালুকদার এবং সহযোগী মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাপের বিষ লেনদেন হয়। এটির অবশ্যই বৈশ্বিক মার্কেট রয়েছে, তবে বাংলাদেশে এটা বিক্রির কোনো বৈধতা নেই।’

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত ডিআইজি রেজাউল বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে এই সাপের বিষ কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশে এসেছে।‌ দুই তিন হাত ঘুরে হয়ত এ চক্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে পাচার হতো। এ সাপের বিষ ওষুধ তৈরি করার ক্ষেত্রে‌ ব্যবহৃত হয়। তবে বাংলাদেশে ফার্মাসিটিক্যালে এটি ব্যবহার করার জন্য আইনের কোনো বৈধতা নেই। যে কারণে এটি বাংলাদেশের ব্যবহারের সুযোগ নেই। আমরা এখনও নিশ্চিত না যে এটা ঠিক কোনো দেশ থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়েছে। যেহেতু এটি এলসির মাধ্যমে আনা হয়নি। তবে জব্দ করা বিশ্বের কনটেইনার গুলোতে লেখা দেখা গেছে মেড ইন ফ্রান্স লেখা।’

তিনি বলেন, ‘সম্ভবত এই অবৈধ সাপের বিষ পাচারের জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পুরো তদন্ত শেষ হলে এটা স্পষ্ট হবে কে বা কারা কোথা থেকে আমদানির পর এটা আবার পাচার করা হচ্ছিল। এরইমধ্যে ক'টি চালান বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়ার তথ্যও পেয়েছে সিআইডি।’

বিজ্ঞাপন

সিআইডি কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, ‘আমরা এ চক্রের সঙ্গে ৭-৮ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। যেহেতু সাপের বিষ লেনদেন ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার আইনত অপরাধ। সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হবে।’

সারাবাংলা/এসএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন