বিজ্ঞাপন

কলকারখানা অধিদফতরের বৈঠকে উপস্থিত হয়নি গ্রামীণফোন

November 26, 2020 | 8:37 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ১৮০ কর্মীকে কর্মহীন ও গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদকে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে কলকারখানা অধিদফতরের ডাকা ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে উপস্থিত হয়নি গ্রামীণফোন। পরে বৈঠকে উপস্থিত জিপিইইউ প্রতিনিধি দলের বক্তব্য শোনেন অধিদফতরের কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা অধিদফতর বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ও গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে ত্রিপাক্ষিক এই বৈঠক আহ্বান করলেও কেবল জিপিইইউ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জিপিইইউ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাতুজ আলী কাদেরী ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তানভীর তিমির।

বিজ্ঞাপন

কলকারখানা অধিদফতরের বৈঠকে উপস্থিত হয়নি গ্রামীণফোন

জানতে চাইলে অধিদফতরের এক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, আমরা দুই পক্ষকেই বৈঠকে ডেকেছিলাম। জিপিইইউয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকলেও গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত হয়নি। আমরা জিপিইইউয়ের বক্তব্য শুনেছি। পরবর্তী সময়ে আমরা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, কলকারখানা অধিদফতরের আহ্বানে পূর্বনির্ধারিত এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় জিপিইইউ নেতারা এবং গ্রামীণফোনের সাধারণ কর্মীরা শ্রম ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এসময় তারা লিফলেটও বিতরণ করেন।

মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর দেশের ১৪টি নিজস্ব গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বন্ধ করে ৫০ জন ও টেকনোলজি বিভাগের ১৩০ জনসহ মোট ১৮০ জন কর্মীকে কর্মহীন করে রেখেছে গ্রামীণফোন। তাদের কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জিপিইইউ অভ্যন্তরীণভাবে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিল। এই দাবি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন জিপিইইউ জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া মাসুদ।

বিজ্ঞাপন

জিপিইইউ নেতাদের অভিযোগ, ১৮০ কর্মচারীকে কাজে ফেরানোর দাবিতে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণেই গত ২৭ অক্টোবর ইমেইল পাঠিয়ে মিয়া মাসুদকে চাকরিচ্যুত করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। পরদিন থেকেই মিয়া মাসুদকে চাকরিতে পুনর্বহাল ও ১৮০ কর্মীকে কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জিপিইইউ আন্দোলন করে আসছে।

এরই মধ্যে ঢাকায় জিপি হাউজসহ, শ্রম ভবন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, বিটিআরসি ভবন, ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র সরোবর ও শাহবাগে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জিপিইইউ। কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বালনসহ দেশব্যাপী আলোর মিছিল কর্মসূচিও পালন করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও শ্রম ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জিপিইইউয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, জেনারেল সেক্রেটারি মিয়া মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাতুজ আলী কাদেরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তানভীর তিমির, ভারপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক জিয়াউর রহমান এবং জিপিইইউ জিপি হাউজ কমিটির সভাপতি আল ফারাবিসহ জিপিইইউয়ের অন্যান্য আঞ্চলিক পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জিপিইইউ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক বলেন, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের অনৈতিক, অমানবিক ও বেআইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন। ১৮০ কর্মীকে কাজে ফেরানো ও মিয়া মাসুদকে চাকরিতে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের মোকাবিলা করে যাব। এর মধ্যে যদি গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার ডাক দেয়, সেক্ষেত্রে আলোচনাও চলতে পারে।

ফজলুল হক আরও বলেন, আমরা এখনো নমনীয় কর্মসূচি পালন করে আসছি। গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের দাবি অতি সত্বর মেনে না নেয়, তাহলে জিপিইইউ পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবে।

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন