বিজ্ঞাপন

‘মামুনুল চট্টগ্রামে পা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’

November 26, 2020 | 9:35 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা মামুনুল হক চট্টগ্রামের মাটিতে পা দিলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা। মামুনুলকে চট্টগ্রামে প্রতিহত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত ‘জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ’ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

শুক্রবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের হুমকি দিয়ে আলোচনায় আসা মামুনুল হক, যিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও যুব মজলিসের সভাপতি। এছাড়া নবগঠিত হেফাজতে ইসলামের কমিটিতে তিনি যুগ্ম মহাসচিব পদে আছেন।

বিজ্ঞাপন

মামুনুল চট্টগ্রামে আসার খবরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা ‘জঙ্গিবাদবিরোধী ছাত্র ও যুব ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে সমাবেশের ডাক দেন।

‘মামুনুল চট্টগ্রামে পা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বাঙালি জাতির জনক। মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণের যে ধৃষ্ঠতা দেখিয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা শুধু চট্টগ্রামে নয় বাংলাদেশের কোথাও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে কটূক্তিকারী মামুনুল হককে সভা করতে দেবো না।’

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এম আর আজিম বলেন, ‘মামুনুল হক স্বাধীনতাবিরোধী ধর্ম ব্যবসায়ী। তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা দেশদ্রোহিতার সামিল। এরপর তার নাগরিকত্ব থাকতে পারে না। মামুনুলকে আমরা চট্টগ্রামে ঢুকতে দেবো না। তাকে অবশ্যই প্রতিহত করা হবে। তাকে প্রতিহত না করে আমরা ঘরে ফিরব না।’

বিজ্ঞাপন

হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভুলে যাবেন না— সরকার চাইলে শাপলা চত্বর থেকে হেফাজতের কেউ নিরাপদে ফিরে আসতে পারত না। জামায়াত-বিএনপি, কাসেমী-মামুনুল হক সব একই জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী। এই চট্টগ্রাম মাস্টারদা, প্রীতিলতা, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, জহুর আহম্মদ চৌধুরী, এম এ মান্নান, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চট্টগ্রাম। এখানে জঙ্গিবাদীর ঠাঁই হবে না।’

‘মামুনুল চট্টগ্রামে পা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’

বিজ্ঞাপন

শ্রমিক লীগ নেতা আবুল হোসেন আবু বলেন, ‘পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মা মামুনুল হক এ দেশের যুদ্ধাপরাধীদের দোসর। তারা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেশকে অশান্ত করতে চায়। এই চট্টগ্রামে মামুনুল এবং তার দোসরদের স্থান নেই।’

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, ‘এরা একাত্তরের পরাজিত শক্তি। এরা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, ধর্ম চর্চা করে না। চট্টগ্রাম থেকে বারবার অসাম্প্রদায়িকতাকে প্রতিষ্ঠা করার সংগ্রাম হয়েছে। এই চট্টগ্রাম থেকে গোলাম আজমকে প্রতিহত করা হয়েছে। সাঈদীর মাহফিল বন্ধ করা হয়েছে। সবাই মিলে আমরা জঙ্গিবাদীদের প্রতিহত করব।’

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য মামুনুল হক করেছে, শুধু ধিক্কার জানালে হবে না, তার স্পর্ধা ধ্বংস করে দিতে হবে। মামুনুলকে নিয়ে কোনো সমাবেশ চট্টগ্রামের মাটিতে হবে না।’

নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘আমরা ‍হুঁশিয়ার করে দিতে চাই, মামুনুল হক চট্টগ্রামের মাটিতে পা রাখলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। এই পরিস্থিতির দায় ছাত্রলীগ নেবে না। চট্টগ্রামের মাটি শুধু নয়, মামুনুল হককে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রতিহত করা হবে।’

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিম বলেন, ‘কুলাঙ্গার মামুনুল হককে চট্টগ্রামের মাটিতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। আমরা ছাত্রলীগের কর্মীরা মামুনুলকে প্রতিরোধে প্রস্তুত আছি। এই চট্টগ্রামে যেন তাকে আনা না হয়। চট্টগ্রামে মামুনুল এলে যে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হবে, তার জন্য তাকে যারা চট্টগ্রামে আনবেন তারাই দায়ী থাকবেন।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন, ছাত্রলীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবুল হাসনাত মো. বেলাল, শিবু চৌধুরী, সঞ্জয় ভৌমিক কংকন, আকবর আলি আকাশ, ওসমান গণি, হাবিবুর রহমান তারেক, লিটন মহাজন, আজিজুর রহমান আজিজ, ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু মেজবাহ উদ্দিন মোরশেদ, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ শিবলি, আশিকুন নবী চৌধুরী, আবু সাঈদ সুমন, রাজিব হাসান রাজন, রাজেশ বড়ুয়া ও শওকত আলম, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানবীর হোসেন তুপু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম বোরহান উদ্দিন, নগর ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসান রুমি, নোমান চৌধুরী, ইয়াছিন আরাফাত কচি, একরামুল হক রাসেল, রুমেল বড়ুয়া রাহুল, সৌমেন বড়ুয়া, মইনুল হাসান শিমুল, ফকরুল আহমেদ পাবেল, সুজন বর্মন, গোলাম ছামদানি জনি, খোরশেদ আলম মানিক, হাসানুল আলম সবুজ, মিনহাজুল আবেদীন সানি, ওসমান গনি বাপ্পি, শাহরিয়ার হাসান, কবীর আহমেদ, মোহাম্মদ বিন ফয়সাল, কাজি মাহমুদ রনি, আবু হানিফ রিয়াদ, কাইছার মাহমুদ রাজু, নাদিম উদ্দিন, সাব্বির সাকির, শরীফুল ইসলাম আদনান, এম হাসান আলি, মোহাম্মদ ফয়সাল, মোশরাফুল হক পাভেল, আরাফাত রুবেল, মিজানুর রহমান মিজান, শেখর দাস ও ফয়সাল অভি।

সমাবেশ শেষে মামুনুল হকের একটি কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন