বিজ্ঞাপন

প্রতিহতের ডাকের মধ্যেই মামুনুল চট্টগ্রামে, জানালেন ইসলামাবাদী

November 27, 2020 | 3:50 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রতিহতের ঘোষণার মধ্যেই চট্টগ্রামে এসে হাটহাজারীতে অবস্থান করছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের হুমকিদাতা মামুনুল হক, যিনি হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব পদে আছেন। হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী হাটহাজারীতে তার অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

হাটহাজারী উপজেলার পার্বতী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আল আমিন সংস্থা নামে একটি সংগঠনের আয়োজনে তিনদিনব্যাপী তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের সমাপনী দিনে শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মামুনুল হকের। সন্ধ্যায় এশার নামাজের পর তার বক্তব্য রাখার কথা প্রচার করেছে সংস্থাটি।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ ইস্যুতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়ার পর গত (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে মামুনুল হকের চট্টগ্রামে আসা নিয়ে নানাধরনের গুঞ্জন তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মামুনুলের অবস্থান নিয়ে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- মামুনুলকে প্রতিরোধে বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান

এ প্রেক্ষাপটে মামুনুল হকের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আজিজুল হক ইসলামাবাদী সারাবাংলাকে বলেন, ‘উনি (মামুনুল হক) গত (বৃহস্পতিবার) রাতে সড়কপথে ঢাকা থেকে হাটহাজারীতে এসে পৌঁছেছেন। উনার গাড়ি সিটি গেইট দিয়ে ঢুকে চট্টগ্রাম শহর হয়ে হাটহাজারীতে আসে। উনি মাহফিলে বক্তব্য রাখবেন।’

বিজ্ঞাপন

হেফাজত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মামুনুল হক বৃহস্পতিবার গভীর রাত ১টার দিকে হাটহাজারীতে পৌঁছান। তিনি বড় মাদরাসা হিসেবে পরিচিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসায় রাতযাপন করেন। সেখান থেকেই তিনি সরাসরি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে যাবেন।

তবে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, আয়োজক সংগঠন আল আমিন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তকে মামুনুল হকের হাটহাজারীতে অবস্থানের বিষয়ে কেউ তাকে নিশ্চিত করতে পারেননি। এমনকি সর্বশেষ হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর সঙ্গেও কথা বলেন। তিনিও মামুনুল হকের অবস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ‘মামুনুল চট্টগ্রামে পা দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে’

হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মামুনুল হক সাহেব এসেছেন কি না আমাদের জানা নেই। এটি যারা তাকে হাটহাজারীতে আনছেন, তারা জানবেন। তবে হাটহাজারীর পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এক জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ থেকে মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিহতের ঘোষণা দেন নগর ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা।

ঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দীন বাচ্চুর নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী নগরীর পতেঙ্গায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।

এরপর দুপুরে জুমার নামাজের পর ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান নেন হাটহাজারীর প্রবেশমুখ নগরীর অক্সিজেন মোড়ে। সেখানে নগর ছাত্রলীগের সাবেক দফতর সম্পাদক আরশেদুল আলম বাচ্চু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, নগর কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল করিমসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন- জয়ের হুঁশিয়ারি— বুড়িগঙ্গার ধারেকাছে আইসেন, সব কয়টাকে ভাসিয়ে দেবো

সমাবেশে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু বলেন, ‘মামুনুল হকের মতো মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। তাদের আস্ফালন চিরতরের মতো বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জেগে আছি। আমরা মাঠে নামলে মামুনুল হকের মতো ধর্ম ব্যবসায়ীরা পালানোর পথ পাবে না।’

সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর বলেন, ‘আমরা শুনতে পাচ্ছি, ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক রাতের আঁধারে চোরের মতো হাটহাজারীতে পৌঁছেছেন। সেটি সত্যি কি না, আমরা জানি না। তবে যদি সত্যি হয়, তাহলে মামুনুল হক প্রমাণ করেছেন— তিনি একজন জঙ্গি, কাপুরুষ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সন্তানদের মোকাবিলা করার সাহস তার ও তার দোসরদের নেই।’

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ঝাড়ু মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে হাটহাজারী সড়কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

সারাবাংলা/আরডি/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন