বিজ্ঞাপন

বাবুনগরী ও মামুনলকে গ্রেফতারের দাবিতে ৬০ সংগঠনের মানবন্ধন

December 1, 2020 | 7:21 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান অবমাননার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী এবং যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেফতারসহ ৭ দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে সামাজিক, সাংস্কৃতি ও পেশাজীবীদের ৬০টি সংগঠন। মানবন্ধন থেকে কতিপয় ‘ধর্ম ব্যবসায়ী’দের দ্রুত গ্রেফতাদের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ থেকে মৎস ভবন পর্যন্ত এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, শাহবাগ মোড়, ছবির হাট বিপরীত দিক থেকে ঢাকা ক্লাব ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের বিপরীত দিকের রাস্তা পর্যন্ত এই মানববন্ধন বিস্তৃত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অনেকের হাতে ছিল নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড। দীর্ঘ এই মানবন্ধনে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন। আর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিজ্ঞাপন

বাবুনগরী ও মামুনলকে গ্রেফতারের দাবিতে ৬০ সংগঠনের মানবন্ধন

মানববন্ধনে সূচনা বক্তব্যে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশের আহ্বায়ক সাংবাদিক আবেদ খান। বিভিন্ন সংগঠনের এই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— অবিলম্বে জাতির পিতা এবং বাংলাদেশের সংবিধান অবমাননাকারী মামুনুল-বাবুনগরী গংকে গ্রেফতার করতে হবে এবং করোনা মহামারিকালে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারী সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। আবেদ খান বলেন, ধর্মের পবিত্রতা রক্ষার জন্য ও ধর্মের নামে যাবতীয় হত্যা ও সন্ত্রাস বন্ধের উদ্দেশ্যে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে লেখা সংবিধানে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও তাদের সহযোগীরা ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। আমরা সরকারের নিকট দাবি জানাচ্ছি— অবিলম্বে বাংলাদেশে জামায়াত-হেফাজতের মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক-সন্ত্রাসী রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিল ও খুৎবার নামে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্নমত, নারী এবং ভিন্ন জীবনধারায় বিশ্বাসীদের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচারকারী ‍ও হুমকিদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, চেতনা এবং জাতির পিতার জীবন ও দর্শন পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা অস্বীকারকারীদের শাস্তির জন্য কার্যকর আইন দ্রুত পাসের দাবিও জানানো হয়। পাশাপাশি ১ ডিসেম্বর জাতীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালনের ঘোষণার দাবি করা হয়ছে। এছাড়া অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিক্ষানীতি, নারীনীতি, সংস্কৃতিনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশ, জাতি, সংবিধান ও জাতির পিতার বিরুদ্ধে বিষোদগারকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনগুলো।

বাবুনগরী ও মামুনলকে গ্রেফতারের দাবিতে ৬০ সংগঠনের মানবন্ধন

বিজ্ঞাপন

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবিরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এ কে এম মোজাম্মেল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সংসদ সদস্য শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, জাসদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথ, চিকিৎসক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া ও অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসানসহ আরও অনেকে।

মানবন্ধনে আরও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসীর মামুন, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তসহ আরও অনেকে।

বিজ্ঞাপন

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ছাড়াও এ কর্মসূচিতে অংশ নেয় সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশন, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, প্রজন্ম ’৭১, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ইতিহাস সম্মিলনী, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সম্প্রীতি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, জাতীয় কবিতা পরিষদ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ), জাতীয় যুব জোট, ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ কেন্দ্র।

আরও অংশ নেয় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলন, বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ফর ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ, ’৭২-এর সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন জাতীয় কমিটি, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ কেন্দ্র, মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ), বাংলাদেশ ফার্মাসিস্ট ফোরাম, গৌরব ’৭১, অপরাজেয় বাংলা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, কর্মজীবী নারী, জাতীয় নারী জোট, নারী মুক্তি সংসদ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, শেখ রাসেল ফাউন্ডেশন ইউএসএ (বাংলাদেশ চাপ্টার), জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ মোর্চা, সেক্যুলার ইউনিটি বাংলাদেশ, ইউথ ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঘাসফুল শিশু কিশোর সংগঠন, বাংলাদেশ মানবাধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন