বিজ্ঞাপন

হদিস নেই দুর্নীতির মামলায় বিদেশে পলাতক অর্ধশতাধিক আসামির

December 2, 2020 | 10:40 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত এক দশক তথা ১০ বছরে দুর্নীতির মামলায় বিদেশে পালিয়েছেন প্রায় অর্ধ শতাধিক আসামি। যাদের অধিকাংশই আত্মসাৎ করেছেন সরকারি টাকা ও ব্যাংকের অর্থ। কিন্তু তাদের হদিস পাচ্ছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এমনকি দুদকের কাছে অধিকাংশের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও নেই। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করলেও তারা রয়েছে দুদকের ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় আসামি হওয়ার পরে কিংবা আগে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এমন অর্ধ শতাধিক আসামি কানাডা-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিয়েছেন। কিন্তু এদের কাউকেই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আর দুদক বলছে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কমিশন থেকে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থাকে বার্তা পাঠিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুদকের বিভিন্ন নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১১ সাল থেকে চলতি ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার অর্ধশতাধিক আসামি দেশ ছেড়েছেন। কেউ অনুসন্ধান চলাকালেই দেশ ত্যাগ করেছেন কেউবা মামলার পরপরই দুদককের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছেন। আর তাদের কেউই আর দেশে ফিরে আসেননি।

বিজ্ঞাপন

যে সব আসামি বিদেশে বলে নথিপত্রভুক্ত হয়েছেন তারা হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) শহীদুল ইসলাম পাপুল, শেয়ার খাতের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল, যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী, বিসমিল্লাহ গ্রুপের এমডি খাজা সোলায়মান আনোয়ার চৌধুরী, সোলায়মানের স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান নওরীন হাবিবসহ সাত আসামি, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম ছাড়াও ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি মোনায়েম খান, জিএম মোহাম্মদ আলীসহ বিশজন আসামি।

আরও রয়েছেন, হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ূন কবিরসহ পাঁচজন, অ্যাপারেল এন্টারপ্রাইজের মালিক শহিদুল ইসলাম, স্টার স্পিনিং মিলসের মালিক আবদুল বাছির, ম্যাক্স স্পিনিং মিলসের মালিক মীর জাকারিয়া, সেঞ্চুরি ইন্টারন্যাশনালের মালিক জিয়াউর রহমান, আনোয়ারা স্পিনিং মিলসের মালিক জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া আলোচিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ৫৬টি মামলারই এক নম্বর আসামি ব্যাংকটির সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম। ২০১৫ সালে মামলার পর তাকে আর দেশে খুঁজেই পায়নি দুদক।

অপরদিকে প্রশান্ত কুমার বা পি কে হালদারকে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তা বিদেশে পাচার করেছেন। আর ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়ায় চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তবে তার আগেই তিনি দেশ থেকে সরে যান। পাড়ি জমান বিদেশে। এমনকি পি কে হালদার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েও আসেননি। তবে পি কে হালদারকে দেশে ফেরত আনতে ইন্টারপোলে চিঠি দিয়েছে দুদক।

বিজ্ঞাপন

তবে দুদক সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে অর্থপাচারসহ পলাতক আসামিদের দেশে ফেরত আনতে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে আইনি সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। তবে এখনও কোনো আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়নি দুদক।

এ বিষয়ে টিআইবি'র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে ইন্টারপোলসহ আইনপ্রয়োগকারীদের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের অবশ্যই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে যত কঠিনই হোক বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনা সেটা অসম্ভব কিছু নই।’

বিজ্ঞাপন

অপরদিকে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি পি কে হালদারকে দেশে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা আইনের বাইরে কিছুই করতে পারব না। আমরা যদি জানি কোনো আসামি দেশে নেই তথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সেটি নিশ্চিত হলে আমরা বিভিন্ন সংস্থার কাছে সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিচ্ছি। আমরা এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই আমাদেরকে কাজ করতে হবে।’

সারাবাংলা/এসজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন