বিজ্ঞাপন

বিদেশি নারীকে বাড়ি উইল, অভিমত জানতে ৪ অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

December 3, 2020 | 9:32 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গুলশানে সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদের ভাই মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের রাজধানীর গুলশানের বাড়ি উইলের আইনগত বিষয়ে মতামত দেওয়ার জন্য চার আইনজীবীকে আদালতের বন্ধু হিসেবে (অ্যামিকাস কিউরি) নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। যাদেরকে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হয়েছে তারা হলেন এ এফ হাসান আরিফ, কামরুল হক সিদ্দিকী, কামাল-উল-আলম ও মো. নুরুল আমিন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুরের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাসুদ আর সোবহান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

বিজ্ঞাপন

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৮৭২ অনুসারে কোনো মুসলিম কোনো হিন্দু নারীকে বিয়ে করতে পারে কিনা এবং স্ত্রী হিসেবে ওই নারীকে দেওয়া জগলুল ওয়াহিদের সম্পূর্ণ বাড়ি উইল করার আইনগত ভিত্তি বিষয়ে মতামত প্রদানের জন্য চারজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগামী ১২ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ঠিক করে সে পর্যন্ত জগলুল হায়দারের দুই মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংকে মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের অ্যাকাউন্ট থাকলে এবং দুইপক্ষ কোনো স্টেটমেন্ট চাইলে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার তা দেবেন। পরে দুইপক্ষ তা আদালতে দাখিল করবেন। এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের ফাইল আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আদালতে আজ শুনানিকালে জগলুল ওয়াহিদের দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুরকে (যিনি ভারতীয় নাগরিক) বিয়ে করা এবং তাকে সম্পত্তি উইল করে দেওয়া আইনগতভাবে যথাযথ হয়েছে কি না সে সব বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরে আদালত আইনগত এসব বিষয় সুরাহার জন্য চারজন অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছেন।’

বিজ্ঞাপন

এ সব বিষয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য শুনবেন আদালত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে হাইকোর্ট ২৬ অক্টোবর বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়েকে নিরাপত্তা দিতে গুলশান থানার ওসিকে আদেশ দেন। আদেশে অনতিবিলম্বে তাদের বাবা মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের গুলশান-২ এর ৯৫ নম্বর সড়কের বাসায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে রাতেই ওই বাড়িতে তাদের প্রবেশ ও অবস্থান নিশ্চিত করার পর রাতেই গুলশান থানার ওসিকে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসারকে টেলিফোনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ওই বাসায় দুই বোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুলশান থানার ওসিসহ ৩ নভেম্বর দুই বোন এবং ওই বাড়িতে থাকা আনজু কাপুরকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়।

এ আদেশের পর ওইদিন রাতেই দুই বোন মুশফিকা মোস্তফা ও মোবাশশারা মোস্তফাকে বাসায় উঠিয়ে দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গুলশান থানা পুলিশ এবং বাড়ির সামনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন।

পরে আদেশ অনুসারে ৩ নভেম্বর দুই মেয়ে ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুর গুলশান থানার ওসিকে নিয়ে হাইকোর্টে হাজির হন। ওইদিন আদালত ওই বাড়ির দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিল করতে পক্ষদের নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেওয়া হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে বাড়িটি প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর। গৃহকর্তার মৃত্যুর পর মালিকানা নিয়ে বিরোধে তার দুই মেয়ে অবস্থান নেন বাড়ির সামনে। ওই দুই বোনের দাবি, বাড়ির দখল বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী আনজু কাপুরের হাতে। তিনি কিছুতেই ওই বাড়িতে তাদের ঢুকতে দিচ্ছেন না।

গত ১০ অক্টোবর মোস্তফা জগলুলের মৃত্যু হয়। মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদ পেশায় পাইলট ছিলেন। ভাইবোনদের মধ্যে শুধু সংগীতশিল্পী ফেরদৌস ওয়াহিদ ছাড়া আর কেউ বাংলাদেশে নেই। দু’দিন ধরে বাড়ির সামনে অবস্থান নেন মোস্তফা জগলুল ওয়াহিদের দুই মেয়ে মুশফিকা ও মোবাশ্বেরা। তারা বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন।

মুশফিকা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ১৯৮৪ সালে তার মাকে নিয়ে বাবা গুলশানের এই বাসাতেই সংসার শুরু করেছিলেন। তাদের জন্ম এই বাড়িতে। ২০০৫ সালে তাদের মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়। পরে আনজু কাপুর নামে এক ভারতীয় নারীকে তাদের বাবা বিয়ে করেন। তিনি একাই এখন এই বাড়ির ভোগদখল করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন