বিজ্ঞাপন

ধর্মবাদী অপশক্তির আস্ফালন রুখতে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান

December 3, 2020 | 9:48 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশজুড়ে ধর্মবাদী অপশক্তির আস্ফালন রুখতে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জনিয়েছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ভাস্কর্য বিতর্কসহ সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানানো হয়।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, একটি বিশেষ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ধর্মবাদীরা ভাস্কর্যের বিরোধিতা করছে। অগণতান্ত্রিক অপশক্তি সবসময়ই ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে। পাকিস্তান আমলে যেমন করেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও করেছে। এবারও ধর্ম বিতর্ককে সামনে আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুসহ সব ভাস্কর্যের বিরোধিতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাহাত্তরের সংবিধান, এমনকি বর্তমান সংবিধানের বিরোধী। তাই ধর্মবাদী অপশক্তিকে রুখে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সকলকে সোচ্চার কণ্ঠেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা লিখিত বক্তব্যে বলেন, হেফাজতসহ ধর্মবাদীদের ভাস্কর্য বিতর্ক তাদের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করার কূট প্রচেষ্টা। বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক যাত্রাপথ থেকে বিচ্যুত করে আবার পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। তাই ধর্মবাদীদের শর্ত মেনে ও আস্ফালনে নয়, বাংলাদেশ পরিচালিত হবে স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের ভিত্তিতে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতার অর্থ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরোধিতা। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলা, টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে নেওয়ার কথা বলাও আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ক্ষেত্রেও কোনো ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। ওয়ার্কার্স পার্টি আশা করে, সরকার এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। রাষ্ট্রযন্ত্র নয়, জনগণের ওপর নির্ভর করেই এই ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এই একই ধর্মবাদী মহল লালন ও সুপ্রিম কোর্টের সামনে ন্যায় বিচারের প্রতীক ভাস্কর্য নিয়ে চূড়ান্ত বিরোধিতা শুরু করেছিল। সেই সময়কার সরকার উভয় ক্ষেত্রেই তাদের বিরোধিতাকে প্রশ্রয় দিয়ে ওইসব ভাস্কর্য স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। ওই সময়ের সাময়িক বিজয়ে সাহসী হয়ে তারা এখন খোদ বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের সংবিধান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এই অপশক্তিকে এখনই রুখে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, ড. সুশান্ত দাস, নূর আহমদ বকুল, আমিনুল ইসলাম গোলাপ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তপন কুমার দত্ত চৌধুরী, হবিবর রহমান, মোস্তফা আলমগীর রতন,  রফিকুল ইসলাম, বিকল্প সদস্য কিশোর রায়, শাহানা ফেরদৌসি লাকী, কাজী মাহমুদুল হক সেনা ও কন্ট্রোল কমিশন সদস্য  আব্দুল হক।

ফাইল ছবি

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন