বিজ্ঞাপন

সাজা বাড়লেও থেমে নেই ধর্ষণ, চাই প্রচার-প্রয়োগ

December 4, 2020 | 9:31 am

ফারজানা হক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে মৃত্যুদণ্ড করার পরও থেমে নেই ধর্ষণ। যে অক্টোবর মাসে বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই সাজা কার্যকর করা হয়েছে, ওই মাসেও ঘটেছে বেশকিছু ধর্ষণ। আর পরের মাস নভেম্বরে ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১৫৩টি।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, আইন প্রয়োগ করতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি সব স্তরে আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে। একইসঙ্গে ধষর্ণের ঘটনায় আলামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রচারণা থাকা উচিত বলে মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ৩৫৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন গণধর্ষণসহ ১৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার ও সাতটি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া সাত শিশুসহ ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১৫ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন পাঁচ জন। নারী নির্যাতনের অন্যান্য ঘটনাও এসময়ে থেমে ছিল না।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৭১১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৮৫৮টি, গণধর্ষণ ২০৫টি, ধর্ষণের পর হত্যা ২৪টি। এছাড়া ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন দু’জন, ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৭০ জন। নারী নির্যাতনের অন্যান্য ঘটনাও ছিলই।

এর আগে, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মুখে ধর্ষণের সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড করে সরকার। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের এই সংশোধনী কার্যকর হয়। গত ১৭ নভেম্বর সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে এই সংশোধনী আইনে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে এই সংশোধনীর বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন বাম ছাত্রনেতারা। নারী অধিকার কর্মীরাও বলছিলেন, শুধুমাত্র আইন দিয়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। অধ্যাদেশ ও পরে বিল পাসের মাধ্যমে সাজা বাড়লেও এই সাজা কার্যকরের পরও ধর্ষণ থেমে নেই— অক্টোবরের শেষার্ধ ও নভেম্বরের তথ্য দিয়ে সেটিই আবার বলছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

এ বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী এলিনা খান সারাবাংলাকে বলেন, ‘শুধু আইন দিয়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ করা যাবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগও ঘটাতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের তথ্য সারাদেশে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে। একইভাবে কীভাবে ধর্ষণের বিচার হচ্ছে, কোন প্রক্রিয়ায় হচ্ছে— এসব বিষয় দেখতে হবে। দেখা যায়, মামলা করলেও অনেক সময় অপরাধী ছাড়া পেয়ে যায়। পরে তারা আবার নতুন করে অপরাধ করে। আলামত সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে দুর্বলতা থাকায় তারা এই ছাড় পেয়ে যায়। তাই ধর্ষণের আলামত কিভাবে সংগ্রহ করলে সেটি অপরাধ প্রমাণে সহায়ক হবে, এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শুধু শাস্তি দিয়ে হবে না। কারণ আগেও তো ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিন্তু তাতে ধর্ষণ কমেনি। মূলত ধর্ষণ যে একটি চরম পর্যায়ের অপরাধ, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে সবাইকে মন-মানসিকতার দিক থেকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনে ঘটনা প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতাদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী সালমা আলী। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের ঘটনা রোধ করতে সংস্থাগুলোর প্রচেষ্টা বা আইন যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। আর শুধু আইন পাস করলেই হবে না, প্রয়োগ করতে হবে। কারণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে। এখনই শক্ত হাতে প্রতিরোধ না করলে ভবিষ্যতে এই অপরাধ আরও খারাপ পর্যায় যেতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমাদের সামাজিক অবস্থানে নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হবে, ততদিন ধর্ষণ থামবে না। মনে রাখতে হবে— পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী কোনো ভোগের সামগ্রী নয়।’

তিনি বলেন, একজন আইনজীবী বলতে পারি, ধর্ষণ মামলার বিচারটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব করে ১৮০ দিনের মাঝেই রায় দিতে হবে। এই রায়কে দ্রুত কার্যকর করতে হবে। আর ধর্ষণের শিকার নারীকেও পরিবার থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন