বিজ্ঞাপন

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যুবলীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

December 5, 2020 | 9:00 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, লেখক-সাংবাদিক, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির আদর্শ ধারণ করে যুবলীগকে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে নেতারা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে শহীদ শেখ মনির ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অতিথিরা এসব কথা বলেন।

ওই আয়োজনে তোফায়েল আহমেদ ও শেখ ফজলুল করিম সেলিম তাদের বাসভবন থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।

বিজ্ঞাপন

তার আগে, যুবলীগের পক্ষ থেকে শহীদ শেখ মনির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ শেখ ফজলুল হক মনিসহ সকল শহীদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল, অসহায় দুঃস্থদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন সংগঠনের নেতারা।

দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ভার্চুয়াল আলোচনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ, প্রধান আলোচক হিসবে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সঞ্চালনা করেন-সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও, এমিরেটাস প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলামের কথা নিয়ে একটু ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত করা হয়। তিনি তার ছাত্র শেখ মনিকে নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন।

এদিকে আয়োজনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘শেখ ফজলুল হক মনি ছিলেন অতিরিক্ত সাহসী এবং বিশ্বস্ত। বাংলাদেশের রাজনীতি ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তাই করতেন। আমাদের নেতা। বঙ্গবন্ধু ও অসম্প্রাদায়িকতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। শেখ মনির আদর্শ ধারণ করে যুবলীগকে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।'

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপট পাল্টে গেল। বঙ্গবন্ধু মনিকে ভাইকে হত্যা করে জিয়া-মোশতাক স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ করে দিল। মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু করল।’

সেই পরাজিত শক্তির দোসররা এখনও সক্রিয় আছে দাবি করে শেখ সেলিম বলেন,  ‘এই অপশক্তি এখনও বাংলাদেশকে তাদের দেশ মনে করে না। এখনও এরা ধর্মের দোহাই দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে চায়। ভাস্কর্য হল শ্রদ্ধা ও স্মরণ করার জিনিস। মূর্তি হল পূজো করার জিনিস।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন,  ‘এদের অতীত দেখলে পাওয়া যাবে - একাত্তরে এদের অতীত কি ছিল, এরা বাংলাদেশ কখনও চায় নি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজকে ভাস্কর্য আছে, সৌদি আরব, ইরাকে আছে ইরানে, মিসরে তুরস্কে আছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এমনিক তাদের প্রিয় পাকিস্তানেও ভাস্কর্য আছে কিন্তু সেখানে ইসলাম চলে যায় না। আর ইসলাম সব চলে যায় বাংলাদেশে। এরা সেই শক্তি, যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বানাবার বিরোধীতা করছে। এরা করবে কেন? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই শক্তি যারা পাকিস্তানিদের সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান তো যুদ্ধ করে নাই সে তো পাকিস্তানি এজেন্ট ছিল। আর মোশতাক তো ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলে। এই দুইজন স্বাধীনতাকে হত্যা করেছে। গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতাকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।’

যুবলীগকে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তি যেন বাংলাদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে  এই কথা সবসময় মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এটাই হোক আমাদের শপথ ও প্রতিজ্ঞা। আমরা এই অপশক্তিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বাংলাদেশে আর কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে পারবে না, যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন। আর আমি সরকারকে বলবো, এদের বিরুদ্ধে কোনো দূর্বলতা নাই। অবশ্যই কঠোর হস্তে এদের দমন করতে হবে।

শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেছে, ভোগের রাজনীতি করেন নাই। তোমাদেরও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে হবে এবং আদর্শিক সংগঠন হিসাবে যুবলীগকে গড়ে তোলার আহ্বান জানান সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ সেলিম।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ শেখ মনির বিভিন্ন স্মৃতি চারণ করেন এবং তার রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত হয়তো তিনি তার জীবন দিয়েই তা প্রমাণ করে গেছেন।

বঙ্গন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বঙ্গবন্ধুকে নিরাপদ রাখার জন্য আমার বাবা যুবলীগ গড়ে তুলেছিলেন আপ্রাণ তিনি চেষ্টা করে গেছেন ৭৫’র আগ পযন্ত। শহীদ শেখ মনি আপাদমস্তক একজন বাঙালি ছিলেন সেই দিকটাও তুলে ধরেন তার বড় ছেলে শেখ পরশ। ছোট বেলায় পিতাকে হারানোর স্মৃতিচারণও করেন শেখ পরশ।

শেখ মনির সাথে আমলাতন্ত্রের দুরত্বের একটা দিক তুলে ধরেন শেখ পরশ। স্বাধীনতার পর কি হল শহীদ পরিবারের যে ডিমান্ডস, শহীদ পরিবারদের যে নীডস নেসেসিটি এইটার সাথে আমলতান্ত্রিক জটিলতা এবং আমলাদের একটা দুরত্ব সৃষ্টি হল এবং বাবা সবসময় শহীদ পরিবারদের প্রতি সেনসেটিভ ছিলেন। এখানেই হয়তো ডিসটেন্সের সূত্রপাত বলেন উল্লেখ করেন তিনি।

যুবসমাজকে নিজের দেশকে ওন (ধারণ) করার আহ্বান জানান শেখ পরশ বলেন, বাবার রাজনৈতিক কর্মীরা তার জন্য আজও কাঁদেন। বাবার বন্ধু সহযোদ্ধারা বাবাকে ভালবাসে সম্মান করে। এটাই আসলে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। টাকা পয়সা ধন সম্পদ কী রেখে গেলেন সেটা বড় পাওয়া না। শেখ ফজলুল হক মনির অনুসারি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাকে প্রায় ৪৫ বছর আগে মেরে ফেলা হয়েছে কিন্তু এখনও শেখ মনির ছেলে হিসাবে যেখানেই যাই সেখানেই মানুষজন আমাকে চেনেন, এটলিস্ট দুই-একজন মানুষ তো পাবোই যারা বাবার কথা বলবে, কাধে হাত বোলাবে এবং অশ্রু ফেলবে। এই যে আমাদের পাওয়া এটার কোনো মূল্য হয় না।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মার্ণে অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তে আজ বাংলাদেশ। ঠিক সে সময়ে বাঁধা হয়ে দাঁড়িযেছে মৌলবাদ। সমস্যাকে এড়িয়ে না গিয়ে, ভেতরে যেতে হবে। ভেতরে ঢুকেই সমাধান করতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সকলকে মৌলবাদিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে - বলেন পরশ।

তিনি আরও বলেন, ‘শেখ মনি ঝুঁকি নিতে ভয় পেতেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ততার প্রতীক। তিনি বঙ্গবন্ধুর জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাই করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে নিরাপত্তা দিতেই চারটি মূল লক্ষ্য নিয়ে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় যুবলীগের প্রতিটি কর্মীকে নিবেদিত থাকতে হবে। তাহলেই, কেউ অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে পারবে না।’

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে শেখ পরশের নেতৃত্বে যুবলীগ রাজপথে রয়েছে। মৌলবাদিরা অপচেষ্টা করলে দাঁত ভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির উদ্দিন খসরু, ঢাকা মহানগর উত্তর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা, উত্তর সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এইচ এম রেজাউল করিম রেজাসহ আরও অনেকে।

সারাবাংলা/এনআর/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন