বিজ্ঞাপন

র‌্যাপিড কিট: হাল ছেড়ে দিয়েছে গণস্বাস্থ্য, ফিরছেন ড. বিজন

December 5, 2020 | 11:08 am

আসাদ জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মানবদেহে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উপস্থিতি শনাক্ত করতে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‌্যাপিড টেস্ট কিট ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ তৈরি করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে এই কিট সরকারি সনদ ও বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন না পাওয়ায় বস্তুত হাল ছেড়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি ও আকাশছোঁয়া স্বপ্ন ভঙের যন্ত্রণা নিয়ে গণস্বাস্থ্য এখন রীতিমতো ধুঁকছে।

বিজ্ঞাপন

তবে এক বুক হতাশা নিয়ে সিঙ্গাপুর চলে যাওয়া ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল শিগগিরই দেশে ফিরছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান গণবিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্যই স্বদেশে ফিরছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে পা রাখবেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) সারাবাংলাকে বলেন, ‘ড. বিজন কুমার শীল এ (ডিসেম্বর) মাসেই বাংলাদেশে আসবেন এবং গণবিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।’

বিজ্ঞাপন

‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার বৃহস্পতিবার সারাবাংলাকে বলেন, ‘ড. বিজন কুমার শীলের নাগরিকত্ব ও ভিসার ব্যাপারে আমাদের কাছে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল, তার সবকিছু আমরা জমা দিয়েছি। আশা করছি উনি শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন।’

কেন ফিরছেন ড. বিজন কুমার শীল?— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘অধ্যাপনা ও গবেষণাই তার মূল লক্ষ্য। উনি এ দেশের জন্য কিছু করতে চান। বিবেকের তাড়নাতেই স্বদেশে ফেরার জন্য উদ্গ্রীব হয়ে আছেন তিনি।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশে ফিরে ড. বিজন কুমার শীল অধ্যাপনা ও গবেষণায় মনোনিবেশ করলেও ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ প্রকল্পের হাল ছেড়ে দিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কারণ, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব শর্ত পূরণ করা গণস্বাস্থ্যের বিজ্ঞানীদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব না। কিটের ভ্যালিডেশনের জন্য যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলা হয়েছে, সেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। কেবল ইউরোপ-আমেরিকার কয়েকটি দেশে এই পরীক্ষা সম্ভব জানিয়ে গণস্বাস্থ্যের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একদিকে যেমন ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার, অন্যদিকে সময়সাপেক্ষও বটে।

এ প্রসঙ্গে ড. মুহিব উল্লাহ খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘তারা (স্বাস্থ্য অধিদফতর) আমাদের যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলেছেন, সেগুলো বিদেশ থেকে করিয়ে আনার মতো আর্থিক সঙ্গতি আমাদের নেই। তাছাড়া আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আনার পরও যে তারা আমদের রেজিস্ট্রেশন দেবে— এমনটি আমরা ভাবতে পারছি না। আমাদেরকে আটকে দেওয়ার জন্য তারা নতুন আইন তৈরি করতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

সূত্রমতে, এরই মধ্যে ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ প্রকল্পের পেছনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড ১০ কোটি টাকা খরচ করে বসে আছে, যা সম্পূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে’র জন্য মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন মোটা অঙ্কের টাকা খরচের পর কিটের রেজিস্ট্রেশন না পাওয়ায় যারপরনাই হতাশ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

এ প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি। আমাদের ১০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু সরকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কিটের অনুমোদন দিলো না। এতে করে আমরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলাম। আর দেশবাসী বড় ধরনের একটা সেবা থেকে বঞ্চিত হলো।’

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ সরকারি রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহারের অনুমোদন না পেলেও ড. বিজন এবার দেশে ফিরছেন আরও তিনটি নতুন কিট নিয়ে গবেষণা করার জন্য। এর আগে ডেঙ্গু ও সার্স ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বস্বীকৃতি আদায় করা ড. বিজন বাংলাদেশের জন্য নতুন আরও তিনটি কিট নিয়ে কাজ করতে চান। অবশ্য কৌশলগত কারণে এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছেন না গণস্বাস্থ্যের বিজ্ঞানীরা।

এ প্রসঙ্গে ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’-এর অনুমোদন পাইনি। আর পাব বলেও মনে হচ্ছে না। তারপরও আমরা আমাদের গবেষণা বন্ধ করে দিচ্ছি না। আরও তিনটি নতুন কিট নিয়ে আমরা কাজ করব।’

‘তবে এ কিট নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না,’— বলেন ডা. মুহিব উল্লাহ খন্দকার।

আরও পড়ুন
‘ব্যবসায়ীদের স্বার্থে’ কিট নেয়নি অধিদফতর, অভিযোগ গণস্বাস্থ্যের
ওয়ার্ক পারমিট জটিলতায় গণস্বাস্থ্য ছাড়তে হচ্ছে ড. বিজনকে
নীতিমালা কঠোরতায় গণস্বাস্থ্যের কিটের খবর মিলছে না আরও ২ মাসেও
অ্যান্টিবডি কিটের সেনসিটিভিটি এখন ৯৭.৭%— দাবি গণস্বাস্থ্যের
ইন্টারনাল ভ্যালিডেশনে কিটের অস্থায়ী নিবন্ধন চায় গণস্বাস্থ্য
কিটের পেছনে চার কোটি টাকা খরচ করে বসে আছে গণস্বাস্থ্য!
কিট নিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের দুর্গন্ধ’ পাচ্ছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র!

 

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন