বিজ্ঞাপন

হেমন্তে এসেছে শীত, বাড়তে পারে তীব্রতা

December 9, 2020 | 1:03 pm

তুহিন সাইফুল, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পঞ্জিকার পাতায় শীত এখনও আসেনি। চলছে হেমন্তকাল। তবে এই হেমন্তেই সারাদেশে শীতের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। বিকেল থেকেই পথে পথে এসে ভিড় করছে কুয়াশার ঝাঁক। আর তা কোনো কোনোদিন সকাল গড়িয়ে প্রায় দুপুরের কাছাকাছি গিয়ে সূর্যের মুখ দেখতে দিচ্ছে। এছাড়া রাত হলে সাধারণ মানুষজনকে খুঁজতে হচ্ছে লেপ-কাঁথা আর কম্বলের উষ্ণতা। মোড়ে মোড়ে মৌসুমি ফেরিওয়ালারাও বেচতে শুরু করেছেন নানান স্বাদের শীতের পিঠা। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে এ বছর সারাদেশেই ঝেঁকে বসতে পারে শীত।

বিজ্ঞাপন

অগ্রাহায়ণের এই শেষ সপ্তাহের শুরুর দিনটিতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৪ ডিগ্রি। যেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই চিত্রটি ভালোভাবে খেয়াল করলেই বোঝা যায়, শীত কতটা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে এবার। হেমন্তের এই শেষ বেলায় এসে বলতে গেলে সারাদেশেই শীত পড়ে গেছে। উত্তরাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে শীত আবার বেড়েছেও।

ঢাকা থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিশে যাওয়া মহাসড়কগুলো ঢাকা পড়ছে ঘন কুয়াশার চাদরে। শৈত্যপ্রবাহ না হলেও বাড়ছে ঠাণ্ডা। শীতের হিমেল হাওয়া যেন কাপড় ভেদ করে শরীরে গিয়ে লাগছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, পৌষের প্রথম সপ্তাহেই (ডিসেম্বরের ১৪ তারিখের পর) শীত হয়ে উঠবে সর্বগ্রাসী। আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘একটি মৌসুমি লঘুচাপ বর্তমানে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর বাড়তি অংশটি রয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে। যার প্রভাবে দিনের তাপমাত্রা কমছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও ডিসেম্বরের শেষ দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর–পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে এক থেকে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের সময় এসব এলাকাগুলোর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাঁচ থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলেও জানান তিনি।

আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের পরিবেশে মেঘের আধিক্য রয়েছে। যা কিছুদিনের মধ্যেই কমতে শুরু করবে। এতে কমবে কুয়াশাও। তবে শীত আরও বাড়বে। হিমালয়ের কোল ঘেঁষা উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীত থাকবে অনেক বেশি। আর মধ্যঞ্চল ও সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে থাকবে কুয়াশার শাসন।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়া ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার কারণে প্রাণ-পরিবেশ এ বছর বিশুদ্ধ থাকায় বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা ছিল কম। এ কারণে শীতের তীব্রতা স্বাভাবিক হবে; যেটি গত দশ বছরের ‘অল্প শীতের’ অভিজ্ঞাতার তুলনায় আমাদের কাছে মনে হবে বেশি। এমনিতে শৈত্যপ্রবাহের সময় ঢাকা শহরের তাপমাত্রা কখনও কখনও ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যায়। সেক্ষেত্রে এবার এটি নামতে পারে আটে।

আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, ‘এবার ঢাকায় দূষণ ছিল কম। যানবাহন ও কলকারখানা চলেছে কম। এমনকি করোনার ভয়ে মানুষ ধূমপানও কম করছে। ফলে ঢাকার বাতাসও বছরের বেশিরভাগ সময় ছিল বিশুদ্ধ বা প্রায় বিশুদ্ধ। একারণেই মূলত শীতের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। অগ্রাহায়ণের শেষ সময়ে এসে প্রকৃতিও এই বার্তা দিতে শুরু করেছে।’

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকবছর প্রকৃতি অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। তবে এবার করোনার কারণে সারা পৃথিবীতেই ছিল লকডাউন। দূষণে শীর্ষে থাকা শহরগুলোও আটকা ছিল বিশুদ্ধতার বৃত্তে। একারণে এবার শীতের স্বাভাবিকতা থাকবে।’

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় দেশজুড়ে। ৫-৬ জানুয়ারি, ১০-১৬ জানুয়ারি এবং ২৩-৩০ জানুয়ারি। ২০১৫ সালেও তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হয়। এর ব্যাপ্তিকাল ছিল ৬-১৪ জানুয়ারি, ১৮-২৩ জানুয়ারি এবং ২৫-২৭ জানুয়ারি। ২০১৭ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় দুটি। ১৮ সালেও একই পরিস্থিতি ছিল। তবে গেল বছর শীত পড়েছিল ভালোই। শৈত্যপ্রবাহও বয়ে যায় তিনটি। আবহাওয়া অফিস বলছে, এবারও তিনটি শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঠাণ্ডার মাত্রা থাকবে অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। সাধারণত ডিসেম্বরে যদি বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয় তাহলে শীতের তীব্রতা কমে যায়। কারণ সাইক্লোনের কারণে বঙ্গোপসাগরে তাপমাত্রা উষ্ণ হয়ে ওঠে। ফলে আরব মহাসাগর থেকে আসা ঠাণ্ডা বাতাস বাধা পায়। এতে করে কমে যায় শীতের ব্যাপ্তি। ২০১৭ সালেই এমনটা হয়েছে। এ বছর নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোনো ঝড় না হওয়ায় ডিসেম্বরে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা। তবে এমন শঙ্কার কথা উড়িয়ে দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়ার বেসরকারি সূত্রগুলো এমন সম্ভাবনা দেখছেন না।

উল্লেখ্য, শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে চলে যায়। ফলে কমে আসে দিনের তাপমাত্রা। কমতে থাকে দিনের দৈর্ঘ্যও। সবচেয়ে ছোট দিন ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে সূর্য ধীরে ধীরে উত্তর গোলার্ধের দিকে যেতে থাকে। ফেব্রুয়ারির প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। ঢাকায় এই সময়ে শীত পুরোপুরিভাবেই মিলিয়ে যায়। তবে গ্রামে ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মার্চেও পাওয়া যায় শীতের হাওয়া।

সারাবাংলা/টিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন