Sarabangla 4th-anniversary Sarabangla 4th-anniversary
বিজ্ঞাপন

একাত্তরের সব স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা ও শহিদদের তালিকা তৈরি করা জরুরি

December 21, 2020 | 12:27 pm

শাহীনূর সরকার, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

ঢাকা: একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা দুলাল ছিলেন সাড়ে তের বছরের কিশোর। শখের তবলা নিয়ে যখন তখন বসে যেতেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের সঙ্গে। শিল্পীর নিজ হাতে বানানো বাঁশির সুরের তালে তবলা বাজাতেন।

বিজ্ঞাপন

মার্চে যখন মিটিং মিছিলে উত্তাল সারাদেশ গোলাম মোস্তফা দুলাল চার সন্তানের জননী তার বড় বোনকে বিধবা হতে দেখেন। বোনের স্বামীকে মিছিলে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানিরা। সেই ঘটনা দেখে হঠাৎ করেই যেন বড় হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার সঙ্গে যোগ হয় বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর মুখে যেন নিজের ভেতরকার আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন তিনি। বুঝতে পারেন প্রতিটি বাঙালির ভেতরে মুক্তির আগুন জ্বলছে। অনুভব করেন দেশকে ‍মুক্ত করাই এখন তার প্রথম কাজ।

এভাবে দেশমাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গোলাম মোস্তফা দুলাল। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন সারাবাংলা ফোকাস অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে গৌরবময় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন যুদ্ধাহত এ বীর যোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা ডটনেটের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানীর সঞ্চালনায় শনিবারের আলোচনায় আরও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক, গবেষক সালেক খোকন। সারাবাংলা ফোকাস অনুষ্ঠানের এ পর্বের বিষয় ছিল ‘একাত্তর: অপারেশন আলমডাঙ্গা।’

অনুষ্ঠানে এদেশের বীর সেনারা চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কীভাবে অপারেশন চালিয়ে মুক্ত করেছিলেন তা তুলে ধরেন গোলাম মোস্তফা। সেখানে যুদ্ধ করতে গিয়েই আহত হয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গোলাম মোস্তফা জানান, একাত্তরে পাকিস্তানি সেনারা লালব্রিজ এলাকায় গণহত্যা চালাতো। সেখানকার একপাশে ছিল আলমডাঙ্গা, আরেকপাশে ছিলো কালীদাসপুর। দুইপাশেই মুক্তিকামী মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল পাকিস্তানিরা। তবে সম্প্রতি আলমডাঙ্গা এলাকায় একটি বধ্যভূমি ও যাদুঘর হলেও কালীদাসপুরের গণহত্যার জায়গাটি সংরক্ষণে এখনও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক, গবেষক সালেক খোকন বলেন ‘কালীদাসপুরসহ সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন বহন করে এমন অনেক স্থান রয়েছে যা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এসব জায়গা সংরক্ষণ হয়নি। এতে করে নতুন প্রজন্ম সেসব ইতিহাসের কথা খুব সহজেই জানতে পারছে না। শুধুমাত্র সরকারিভাবে এ উদ্যোগ নিতে হবে এমনটি নয়, স্থানীয়ভাবেও এ উদ্যোগ নেওয়া যায়।’

বিজ্ঞাপন

সেইসঙ্গে শহিদদের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য তাদের তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সালেক খোকন। এ বিষয়ে এখনই রাষ্ট্রকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এটি পরবর্তী প্রজন্ম ও দেশের ইতিহাসের জন্য খুবই জরুরী বলে উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক এ গবেষক।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে অতিথিরা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তারা। সেইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দেশের সংস্কৃতিগুলো ধরে রাখারও আহ্বান জানানো হয়।’

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, সারাবাংলা ফোকাস সপ্তাহের প্রতি শনি, সোম এবং বুধবার সন্ধ্যা ৭ টা ৩০ মিনিটে সারাবাংলা ডট নেটের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ সম্প্রচারিত হয়।

সারাবাংলা/এসএসএস/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন