বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতির অপেক্ষায় ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’

December 24, 2020 | 8:22 pm

শাহীনূর সরকার, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর

অস্ত্র নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ ছাড়াও একাত্তরে অনেক মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে যুদ্ধ করেছেন। কেউ পায়ে হেঁটে ঢাকা থেকে দিল্লি গেছেন, কেউ সাঁতার কেটেছেন, কেউ ফুটবল দল করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানুষের সমর্থন আদায় করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এমনই একজন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও এই দলের স্বীকৃতি মেলেনি। ‘একাত্তর: স্বীকৃতি মেলেনি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের’, শিরোনামে সারাবাংলার বিশেষ আয়োজন সারাবাংলা ফোকাস অংশ নিয়ে এই আক্ষেপের কথায় বলেন এই বীরযোদ্ধা।

বুধবারের (২৩ ডিসেম্বর) সারাবাংলা’র স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট এমএকে জিলানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখক, গবেষক সালেক খোকন।

বিজ্ঞাপন

আলোচনার শুরুতেই মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্যাটেল পদ্মাসেতুসহ বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধের সার্থকতা তুলে ধরেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই আয়োজনে সাইদুর রহমান স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল প্রতিষ্ঠার সেই সোনালী দিনের কথাগুলো তুলে ধরেন। জানান, দল গঠনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের অসামান্য অবদানের কথা।

ভারতে ১৬টি ম্যাচ খেলেছিলো স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। তবে দু’টি ম্যাচ শেষ করেই বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন তিনি। কেন চলে এসেছিলেন সে গল্প ও আক্ষেপের কথাও সারাবাংলা ফোকাসের মাধ্যমে বাংলার মানুষের সামনে তুলে ধরেন বীর এই মুক্তিযোদ্ধা।

বিজ্ঞাপন

এতবছর পরও দলটির স্বীকৃতি না পাওয়ায় আক্ষেপ জানান সাইদুর রহমান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের স্বীকৃতি চান তিনি।

তাছাড়া দলটি ১৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা মুক্তিযুদ্ধ তহবিলে জমা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে এ তথ্যও বিকৃত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

দলটির স্বীকৃতি কেন মেলেনি এমন প্রশ্ন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সালেক খোকনেরও। বলেন, ‘স্বাধীন হওয়ার পর যখন ক্রান্তিকাল এসেছে তখন রাষ্ট্রকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। তাই দলটির স্বীকৃতি না পাওয়া রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের ব্যর্থতা।’

বিদেশিদের পাশাপাশি যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফুটবল দল করেছে, পায়ে হেটে বা সাঁতার কেটে মুক্তিযুদ্ধে জনমত তৈরি করেছে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাদের তুলে ধরার জন্য রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকদের কাছে আহ্বান জানান তিনি। এটা না করতে পারলে বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করেন সালেক খোকন।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, সারাবাংলা ফোকাস সপ্তাহের প্রতি শনি, সোম এবং বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে সারাবাংলা ডট নেটের ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে লাইভ সম্প্রচারিত হয়।

সারাবাংলা/এসএসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন