বিজ্ঞাপন

‘করোনাবিধি’ মেনেই নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস

January 1, 2021 | 1:23 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এ বছর করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেও বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে নতুন বই। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর নতুন বই হাতে পাওয়ার এই উপলক্ষে যেন স্কুলগুলোতেও প্রাণ ফিরেছে শিশু-কিশোরদের পদচারণায়। তবে কোভিড সতর্কতার কারণে বই হাতে উচ্ছ্বসিত শিশুদের মুখে ছিল মাস্ক, বই বিতরণও করা হয়েছে সামাজিক দূরত্ব মেনে। স্কুলে স্কুলে ছিল হাত ধোয়ার আয়োজন। সবকিছু ছাপিয়ে নতুন বইয়ের গন্ধে মেতেছে শিশু-কিশোররা।

বিজ্ঞাপন

তবে রাজধানীতেও কিছু কিছু স্কুলে বই বিতরণ হয়নি বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণিগুলোতে বই বিতরণ করা হচ্ছে তিন দিন ধরে। প্রাথমিকের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বদলে অভিভাবকদের উপস্থিত হয়ে বই নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভিড়ভাট্টা ছাড়াই প্রথম দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে নতুন বই।

শুক্রবার (১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

‘করোনাবিধি’ মেনেই নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস

সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকরা সবাই নতুন বই নিয়ে প্রস্তুত। বই নিতে এসেছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাও। যদিও তাদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। দুয়েকজন অভিভাবকও এসেছেন সন্তানদের পক্ষ থেকে বই নিতে। প্রতিটি শ্রেণির জন্য বই বিতরণ করা হচ্ছে আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক ফারজানা রহমান সারাবাংলাকে বলেন, আমরা আগে থেকেই প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ফোন করে জানিয়েছি, তারা আজ যেন এসে বই নিয়ে যান। কেউ কেউ শিশুদের নিয়ে এসেছেন, অনেকেই শিশুদের আনেনি। তবে শিশুরা যারা এসেছে, তারাও মাস্ক পরে এসেছে। তাদের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এই শিক্ষক জানালেন, এমনিতেই বছরের প্রথম দিনে শতভাগ শিক্ষার্থী বই নিতে উপস্থিত হতে পারে না। এ বছর করোনার কারণে প্রথম দিনে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেওয়া যেতে পারে ধারণা করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

‘করোনাবিধি’ মেনেই নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস

সরকারি বিজ্ঞান স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি নয়। স্কুলটিতে আলাদা আলাদা শ্রেণিকক্ষে একেকটি শ্রেণির বই বিতরণ করা হচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ভিড় যেন না হয়, সে কারণে একই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সবাইকেও একসঙ্গে উপস্থিত হতে না তিন দিনে ভাগ করে আসতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে বই নিতে এসেছিল সোহম ইসলাম। কথা হলো তার সঙ্গে। নতুন বই পেয়ে কেবল নয়, অনেকদিন পর স্কুলে আসতে পেরেও খুব খুশি সে। সোহম বলছে— অনেক দিন পর আজ স্কুলে এসেছি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। সবার সঙ্গে দেখা না হলেও অনেকের দেখা পেয়েছি। নতুন বই পেয়েছি। খুব ভালো লাগছে।

এদিকে, রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বছরের প্রথম দিন কোনো বই বিতরণ করা হয়নি শিক্ষার্থীদের মধ্যে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বই বিতরণের দিন-তারিখ পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকরা ফোন করে জানিয়ে দেবেন। একই এলাকায় মতিঝিল আইডিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেবল দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই বিতরণ করা হয়েছে।

‘করোনাবিধি’ মেনেই নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস

অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরের মনিপুরে অবস্থিত মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণের উদ্বোধন করেছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

এ বছর শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে মাধ্যমিকের প্রতিটি শ্রেণির বই বিতরণের জন্য তিন দিন করে সময় দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম পর্যন্ত চারটি শ্রেণিতে সপ্তাহে তিন দিন করে মোট ১২ দিনে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে।

একেকটি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা শ্রেণি নম্বর অনুযায়ী তিন দিনে ভাগে ভাগে গিয়ে বইগুলো নিয়ে যাবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বলে দেওয়া হবে কোন দিন কারা এসে বই সংগ্রহ করবে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এটি করা হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

‘করোনাবিধি’ মেনেই নতুন বই নিয়ে উচ্ছ্বাস

তবে এই নিয়মটি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। তাদের ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বই নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তাদের অভিভাবকরাই স্কুলে গিয়ে বই নিতে পারবেন। প্রয়োজনে বই শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পৌঁছে দিতেও বলা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণলয় থেকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিটি ক্লাসের জন্য বই বিতরণের সময় তিন দিন বরাদ্দ থাকবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে বই বিতরণ করবে। আগের ক্লাসের রোল নম্বর মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন দিনে স্কুলে গিয়ে বই নিতে পারবে।

প্রসঙ্গত, মহামারির ঝুঁকির কারণে দেশে এবার কোনো বই উৎসব হচ্ছে না। তবে নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার পাঠ্যবই বিতরণ অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবছর পহেলা জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ বছর বিনামূল্যে প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থীদের মোট সাড়ে ৩৪ কোটি বই দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য পাঁচটি ভাষায় প্রাক প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার বই দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে প্রায় ৯ হাজার দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বই বিতরণ করা হবে।

সারাবাংলা/টিএস/জিএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন