বিজ্ঞাপন

নতুন বছরে এই পাঁচ অভ্যাসে জীবন হবে সুন্দর

January 1, 2021 | 8:35 pm

লাইফস্টাইল ডেস্ক

দুঃস্বপ্নের ২০২০ শেষ করে আমরা পা দিলাম নতুন বছরে। গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লক ডাউন দেওয়া হয়। ঘরে আটকা পড়া মানুষ নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। অনেকেই অনেক পুরনো নেতিবাচক অভ্যাস বাদ দিয়ে ইতিবাচক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। আসুন নতুন এই বছরে নিজেকে ভালো রাখার জন্য আমরা কিছু নতুন অভ্যাস গড়ে তুলি। দেখে নেই সেগুলো কী-

বিজ্ঞাপন

১. নিজের যত্নে গুরুত্ব দিন
আপনি ভালো না থাকলে আপনার জীবনের কোনকিছুই ঠিকমত চলবে না। তাছাড়া গত বছর কিছুটা মানসিক অস্থিরতার মধ্যেই কাটিয়েছি আমরা। সেই পরিস্থিতি থেকে নিজেকে তুলে আনার জন্য নিজের যত্ন করায় মনযোগ দিন। নিজের যত্ন মানেই যে স্পাতে যাওয়া তা নয়, নিজের জন্য সারাদিনে কিছুটা হলেও সময় রাখা। সেই সময়ে শুধুই নিজের প্রতি মনযোগ দিতে হবে। অনেকেই হয়ত নখ কাটার সময় পান না অথবা ভালো করে চুল আঁচড়ানোর। দিনের সেই অবসরে শরীরের যত্ন নিতে পারেন। আবার যত্ন নিতে পারেন আপনার মনেরও। ডায়েরি লেখা, গান শোনা অথবা কাজের হিসেব করাও হতে পারে অবসর কাটানোর উপায়।

কিছু না করে খোলামেলা জায়গায় বা প্রকৃতির সঙ্গেও কিছুটা সময় কাটালে মন তাজা হয়ে উঠবে। যাই করুন, সম্পূর্ণ মনযোগ নিজের প্রতি দিতে হবে সেই সময়টুকুতে। একইসঙ্গে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় যেকোন ধরণের ব্যায়াম করুন। দিনে পাঁচ থেকে দশ মিনিটের জন্য হলেও মেডিটেশন বা ধ্যান করুন। এতে মন শান্ত থাকবে। এভাবে আপনি স্ট্রেসমুক্ত হয়ে মানসিক স্থিরতা আসবে যা আপনাকে যেকোন নেতিবাচক পরিস্থিতি শান্তভাবে কাটাতে সাহায্য করবে।

বিজ্ঞাপন

২.ডিজিটাল ডিটক্স
মনের শান্তি চাইলে অন্তত একদিন নিজেকে সবধরনের ডিজিটাল যন্ত্রপাতি থেকে দূরে রাখুন। একেই বলা হয় ডিজিটাল ডিটক্স যার গুরুত্ব আসলে বলে বোঝানো যাবে না। যেমন আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আগের বছরগুলোর ঘটনা আসতে থাকে। এর মধ্যে কিছু ঘটনা থাকতে পারে যা দেখার পর আপনি অস্থির বোধ করতে পারেন বা আপনার মন খারাপ হয়ে যেতে পারে। যদি সেইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দূরে থাকেন, তাহলে মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকবেন।

আবার পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান আপনার জানা নাই, কিন্তু ডিজিটাল যুগে সবধরনের বিষয়ে আপনি অবগত হতে বাধ্য হচ্ছেন যার সবকিছু হয়ত আপনার জন্য জরুরি না। নিজের কাজে আরও মনযোগী হতে ও ভালোভাবে করতে তাই মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ যেকোন প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকুন। আবার দুঃখজনক ঘটনার কোন দিন একটি আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা অর্জন করুন বা এমন কিছু করুন যা আপনার মুখে হাসি ফোটাবে। পরবর্তী বছর সেগুলো দেখলে ভালো থাকবেন।

বিজ্ঞাপন

৩. পরিবেশ-বান্ধব প্যাকেজিংয়ে গুরুত্ব দিন
বিশ্বপ্রকৃতি ও জলবায়ু বাঁচাতে আপনার নেওয়া একটি ছোট্ট পদক্ষেপও অনেক বড় উপকার করতে পারে। যেমন পৃথিবীজুড়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে আপনি সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে পারেন। প্লাস্টিকের মোড়কের পরিবর্তে পাট, কাগজ বা কাপড়ের মোড়ক ব্যবহারে জোর দিন। কাগজের মোড়কের সুবিধা না থাকলে বাসা থেকে আলাদা শপিং ব্যাগ নিয়ে যান। দাম একটু বেশি দিয়ে হলেও প্রকৃতি-বান্ধব প্রতিষ্ঠানের পণ্য কিনুন। এতে অন্যরাও প্লাস্টিকের মোড়ক বাদ দিয়ে প্রকৃতিবান্ধব মোড়ক উৎপাদনে উৎসাহী হবে।

৪. ক্রুয়েলটি-ফ্রি পণ্য ব্যবহার করুন
আমরা অনেকেই জানি না যে ত্বকের যত্নের প্রসাধন বানাতে আরও লাখ লাখ প্রাণিকে বিপদের মুখে ফেলা হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই তাদের পণ্য প্রাণীর উপর পরীক্ষা করে দেখে যা তাদের জন্য বিপদপজনক হিসেবে দেখা দেয় অনেকসময়। আজকাল জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার তাগিদে অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্রুয়েলটি ফ্রি বা ভেগান প্রসাধণ বানাচ্ছে। আসুন আমরা সেসব ব্র্যান্ডের পণ্য কিনি আর প্রাণিজগতের প্রতি অত্যাচার দূর করতে ভূমিকা রাখি।

বিজ্ঞাপন

৫. সুষম খাবার খাই
আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি এবছর থেকে বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে হিসেব করে সুষম খাবার খেতে শুরু করি। দীর্ঘজীবন ও সার্বিক সুস্থতার জন্য এর বিকল্প নাই। বিষয়টি অনেক কঠিন মনে হলেও অসম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানসিক জোর।

খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দাম নয়, তাজা কিনা ও পুষ্টিগুণ বিচার করুন। যেমন বেশি দাম দিয়ে বিদেশি ফল না খেয়ে দেশি আমড়া বা পেয়ারা দিয়েই মিটে যাবে ভিটামিন সিয়ের চাহিদা। অতিরিক্ত লবণ-চিনিযুক্ত ও তেলেভাজা খাবার শুধু মোটাই করে না, স্ট্রেস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। তাই চেষ্টা করুন বাইরের খাবার না খেয়ে বাড়িতে তৈরি অল্প তেলমশলাযুক্ত খাবার খেতে। এতে শরীরের পাশাপাশি মনও ভালো থাকবে। একইসঙ্গে মাছ বা মাংস খাওয়া কমিয়ে উদ্ভিদজাত খাবারে মনযোগ দিন। পৃথিবীজুড়ে পশুর খামারে যে পরিমাণ সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা গ্লোবাল ওয়ার্মিং বাড়াতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে জলজ জীবনের ইকো সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতিকে প্রকৃতির মত করে সুস্থ রাখতে চাইলে তাই আমাদের প্রাণিজ খাবার কমিয়ে দিতে হবে। আর খেলেও প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা প্রাণিজ প্রোটিন না খেয়ে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খান।

বিজ্ঞাপন

আসুন নতুন বছরে শুধু নিজেকেই নয়, পৃথিবীকেও ভালো রাখতে একটি হলেও পদক্ষেপ আমরা নেই। এভাবেই আমরা নিজেরাও ভালো থাকবো আর আমাদের চারপাশের প্রকৃতি ও প্রতিবেশও ভালো রাখতে ভূমিকা রাখবো। নতুন বছরে এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা। এভাবেই আমরা পৃথিবীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, মহামারি, ইত্যাদি থেকে রক্ষা করতে পারবো।

ছবি- আবদুল্লাহ আল-মামুন এরিন

সারাবাংলা/আরএফ/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন