বিজ্ঞাপন

বাজে রেফারিং, প্রশ্নবিদ্ধ বাফুফের ভূমিকা

January 7, 2021 | 8:46 pm

স্পোর্টস ডেস্ক

দেখতে দেখতে ফেডারেশন কাপ ফুটবল প্রায় শেষের পথে। দুদিন পরেই ফাইনাল। ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে আগের তুলনায় খেলার মান বাড়লেও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে রেফারিং! বাজে রেফারিংয়ের কারণে একের পর এক ম্যাচ পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়েও থেকে যাচ্ছে প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে অন্তরালের দুর্নীতিরও। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতি সারাবাংলাকে জানান, 'রেফারিং নিয়ে যে কথা হচ্ছে সব মিথ্যা। আমি রেফারিদের প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছি এব্যাপারে। তবে যেসব অভিযোগ এসেছে তা সত্য নয়।'

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী একাধিক ক্লাব রেফারির সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারছে না। রেফারিরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় ভুগতে হচ্ছে ক্লাবগুলোকে। আর এমন পক্ষপাতের সুবিধা যাচ্ছে দেশের অন্যতম করপোরেট ক্লাব বসুন্ধরা কিংস, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, উত্তর বারিধারাসহ কয়েকটি ক্লাবের পক্ষেই। ভুক্তভোগী ক্লাবগুলো প্রতিবাদ করলেও ধোপে টেকে না!

চলতি ফেডারেশন কাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই একাধিক ম্যাচে দুর্বল রেফারিং ছিল চোখে পড়ার মতো। যেখানে লাল কার্ড দেখানোর দরকার, সেখানে হলুদ কার্ড দেখিয়ে রেফারি দায়িত্ব শেষ করেছেন! আবার কখনও কখনও কার্ড প্রদর্শন করতেও দেখা যায়নি। কিংবা যেখানে পেনাল্টি কিংবা ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামানোর দরকার ছিল, সেখানে সেটিও করতে দেখা গেছে। রেফারির চোখ যেন সবকিছুই এড়িয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বাজে রেফারিং, প্রশ্নবিদ্ধ বাফুফের ভূমিকা

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ কমিটি ও সংশ্লিষ্টরা পালন করছে নির্বিকার ভূমিকা। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাফুফে সভাপতি সারাবাংলাকে এ ব্যাপারে জানান, ' রেফারিং নিয়ে যে অভিযোগ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এ ব্যাপারে চার-পাঁচজন রেফারিসহ রেফারিদের প্রধানের সঙ্গেও কথা বলেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দেখুন রেফারির ওপর দোষ চাপানো একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। দল জিতলে রেফারি ঠিক আছে আর দল হারলে রেফারি খারাপ।'

বাফুফে সভাপতি সারাবাংলাকে আরও বলেন, 'দেখুন রেফারিরও মানুষ, দুই চারটা ভুল তো মানুষের হতেই পারে। এটা বিশ্বব্যাপিও হয়। তবে আমার মনে হয় না ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ এই ভুল করছেন। দেখুন রেফারির কোয়ালিটি হয়তো বিশ্বমানের নয়, একটু ভুল ত্রুটি হতেই পারেই।'

বিজ্ঞাপন

তবে বাফুফে সভাপতি এসব অভিযোগ সরাসরি নাকোচ করে দলেও দেখা গেছে রেফারিদের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ। বাজে রেফারিংয়ের অন্যতম উদাহরণ আবাহনী লিমিটেড ও উত্তর বারিধারার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচে বেশ কয়েকবার নানানভাবে আবাহনীর গতিশীল খেলা ব্যহত করার চেষ্টা করেছে বারিধারা। কেবল খেলাতেই বাধা দিতে দেখা যায়নি সেই সঙ্গে বারিধারার খেলোয়াড়দেরও দেখা গেছে আবাহনীর খেলোয়াড়দের দিকে তেড়েফুঁড়েও এগিয়ে যেতে! কেবলই তাইই নয়, ম্যাচের এক পর্যায়ে দেখা মেলে বারিধারার গোলরক্ষক বল ধরে রেখে সময় নষ্ট করতেও দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এভাবে খেলার সময় নষ্ট করলে গোলরক্ষককে সতর্ক করা হয় এবং ক্ষেত্র বিশেষে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়। তবে এদিন এমন কিছুর দেখা মেলেনি। এছাড়া চট্টগ্রাম আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচেও রেফারির পক্ষপাতী সিদ্ধান্তের দেখা মিলেছে। যা পরোক্ষভাবে সেই করপোরেট দলটিকেই সুবিধা করে দিয়েছে।

বাজে রেফারিং, প্রশ্নবিদ্ধ বাফুফের ভূমিকা

বিজ্ঞাপন

একই কারণে ভুগেছে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া ব্রাদার্স ইউনিয়নসহ অন্য ক্লাবও। এতে করে ঘরোয়া ফুটবল যে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তই হচ্ছে, সেটি ফুটবলপ্রেমীরা টের পেলেও টের পাচ্ছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বরং করোনা বিরতির পর মাঠে ফুটবল ফেরাতে পেরেই যেন নিজেদের কর্ম সম্পন্ন করার আত্মতুষ্টিতে তারা ভুগছে!

অবশ্য ফুটবলে রেফারিং নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়ে থাকে সবসময়ই। কিন্তু দেশের ঘরোয়া ফুটবলে এবার শুরু থেকেই যেমনটি চলছে, তাতে খোলা চোখেই ধরা পড়ছে সেসব অনিয়ম। এর ফলে গতিশীল ভালো ম্যাচগুলো প্রভাবিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্লাবকে সুবিধা করে দিতে পক্ষপাতদুষ্ট বাঁশি বাজাতে দেখা গেছে রেফারিদের। তারপরেও শেষ পর্যন্ত সুবিধা পাওয়া সব দলগুলো নক আউট পর্বের বাধা পেরুতে পারেনি।

নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্লাব রেফারিং থেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে বাফুফে সভাপতি বলেন, 'এটা খুবই অসত্য, এটা হতেই পারে না। অসম্ভব! এটা আমি মনে করি না কোনোভাবেই ঠিক। রেফারিরা কখনোই কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবকে সুবিধা দেবে না। এটা কখনোই সম্ভব নয়, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।'

প্রতিবারই মৌসুম শুরুর আগে রেফারিদের নিয়ে হয়ে থাকে রিফ্রেশার্স কোর্স। রেফারিরা প্রত্যেকটি ক্লাবে ক্লাবে গিয়ে খেলোয়াড়দের আইন-কানুন নিয়ে সর্বশেষ তথ্য দিয়ে থাকেন। অথচ খেলোয়াড়দের সচেতন করলেও নিজেরাই যেন নিয়ম-কানুন বেমালুম ভুলে বসে আছেন তারা।

তবে ফেডারেশন কাপটিই কিন্তু শেষ টুর্নামেন্ট নয়। সামনেই আসছে প্রিমিয়ার লিগ। এছাড়াও আছে স্বাধীনতা দিবসের খেলা। রেফারিদের এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ চলতে থাকলে যেমন নির্দিষ্ট কিছু ক্লাব এর সুবিধা পাবে, বিপরীতে অন্যক্লাবগুলোও হবে ক্ষতিগ্রস্ত। সর্বোপরি যা বাংলাদেশের ফুটবলকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে। যা রুখতে এখনই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের রেফারিজ কমিটি তথা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হতেই হবে। তা নাহলে ফেয়ার প্লে যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি মাঠে আসা দর্শকরাও হবেন প্রতারিত।

সারাবাংলা/এসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন