বিজ্ঞাপন

মুজিববর্ষেই আলো পাবে রাঙ্গাবালী

January 8, 2021 | 3:40 pm

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: পটুয়াখালীর সবচেয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে অবস্থিত উপজেলা রাঙ্গাবালী। ৩৪৩ দশমিক ৬৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙ্গাবালী ২০১১ সালে উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও সেখানে এখনো পৌঁছেনি বৈদ্যুতিক আলো। ফলে সরকারি সব কাজকর্ম হয় পুরনো পদ্ধতিতেই। অন্যান্য জেলার সঙ্গেও নেই যোগাযোগের সহজ উপায়। এবার সেই রাঙ্গাবালীর মানুষ বৈদ্যুতিক আলোর মুখ দেখবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী, মুজিববর্ষেই বিদ্যুতের আলো পাবে রাঙ্গাবালীবাসী।

বিজ্ঞাপন

অফগ্রিড অর্থাৎ দেশের যেসব এলাকায় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয় সেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করে গ্রিডলাইনে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনস্তরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

জানা গেছে, আরইবির আওতায় থাকা গ্রিডভিত্তিক উপজেলার সংখ্যা ৪৬১টি। আর মাত্র একটি উপজেলা অফগ্রিড অর্থাৎ যেখানে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়। অফগ্রিডে থাকা সেই উপজেলা পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী। অফগ্রিডে থাকায় এখানকার এক হাজার ৫৯টি গ্রাম বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। এসব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে তিন ধাপে বিদ্যুতায়নের কাজ চলমান রয়েছে বলে আরইবি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, তিন ধাপের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৪৬টি গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। রাঙ্গাবালী উপজেলা পুরোটাই চর এলাকা। এই প্রত্যন্ত এলাকায় সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে নদী অতিক্রম করে গ্রিডলাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। জানা গেছে, চলমান প্রকল্পে লাইন ও উপকেন্দ্র নির্মাণের সংস্থান বাড়ানো এবং আরইবি’র অর্থায়নে সাবমেরিন ক্যাবল কিনে গ্রামগুলোর এক লাখ ৫৫ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার কার্যক্রম শেষের পথে।

পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ে দুর্গম এলাকার ৩৮৪টি গ্রামের ৫০টি স্থানেও সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে নদী অতিক্রম করে গ্রিডলাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়ন করা হবে। নদী বা চরের প্রশস্ততা কম-বেশি হওয়ায় সাবমেরিন ক্যাবলের মূল্য ও মান নির্ধারণ করে গ্রামগুলোর ৯০ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে বাকি ২৯টি প্রত্যন্ত গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে, যেখানে স্থায়ী জনবসতি কম। মৌসুমে কাজের প্রয়োজনে বসবাস করে এমন ছয় হাজার গ্রাহকের জন্য সোলার হোম সিস্টেম স্থাপনের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে চলতি বছরেই বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ হবে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, আরইবি তার ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে গ্রিডভিত্তিক ৪৬১টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ শেষ করেছে। ২৮৮টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এরই মধ্যে উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাকি ১৭৩টি উপজেলা উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

এ প্রসঙ্গে আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দীন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আরইবি‘র আওতায় থাকা গ্রিড অফগ্রিড উভয় পর্যায়ে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎসংযোগ দিতে সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করা হচ্ছে। লক্ষ্য অনুযায়ী মুজিববর্ষেই এসব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।’

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, বর্তমানে আরইবি তিন কোটির বেশি গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। আবাসিক সংযোগের পাশাপাশি চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় দুই লাখ ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা, সাড়ে তের হাজার মাঝারি শিল্প-কারখানা, পৌনে চারশ বড় শিল্প-কারখানা, আটটি ইপিজেড এবং প্রায় চার লাখ সেচ পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। তবে এখনও আরইবির এলাকাভুক্ত আড়াই লাখ গ্রাহক রয়েছেন। মুজিববর্ষেই তারা বিদ্যুতের আওতায় আনার জন্য দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

সারাবাংলা/জেআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন