বিজ্ঞাপন

সিএমএসডিতে ‘প্রভাবশালী’ তাহমিনা একাই ৩ কোম্পানির প্রতিনিধি

January 8, 2021 | 8:10 pm

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ নিয়ে নানা ধরনের দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে এর আগেই। এবারে জানা গেল, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সরবরাহ ভাণ্ডারে (সিএমএসডি) তিন কোম্পানির সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পেছনে রয়েছেন একজন ব্যক্তি। তিনটি কোম্পানিকে আলাদা আলাদা কার্যাদেশ দেওয়া হলেও সেগুলো কোম্পানির ইমেইলের পরিবর্তে পাঠানো হয়েছে তার ব্যক্তিগত ইমেইলে। সিএমএসডিতে রীতিমতো তিনটি কোম্পানিরই প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তিনি। এর মধ্যে একটি কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিলেও ওই কোম্পানি এ তথ্য অস্বীকার করেছে। অন্য একটি কোম্পানির সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে তিনি কোটি টাকা ‘কমিশন’ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম একজন ব্যক্তির তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’। এর সঙ্গে দুর্নীতির যোগসূত্রও থাকতে পারে। আর সিএমএসডি’র দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, তারা বুঝতেই পারেননি যে একজন ব্যক্তির মাধ্যমেই তিন তিনটি কোম্পানির পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের প্রতারণা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কোম্পানিগুলো বা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমন আশ্বাস দিয়েছেন সিএমএসডি’র পরিচালক।

যে তিনটি কোম্পানি নিয়ে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো হলো— মাইশা গ্রুপ, কসবা ফ্রেইট সিস্টেম ও বিসি ইউনিয়ন। তিনটি কোম্পানি আলাদা হলেও সিএমএসডি’তে তাদের প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তাহমিনা আক্তার তামিমা। সিএমএসডিতে তাহমিনা মূলত মাইশা গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত। সিএমএসডি’র একাধিক সূত্র বলছে, সরকারি এই কার্যালয়ে তাহমিনা যথেষ্ট ‘প্রভাবশালী’। সেই সুবাদেই কার্যাদেশ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে ‘কাজে লাগানো’ হয়ে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কসবা ফ্রেইট বলছে, তাহমিনা তাদের ‘সহযোগিতা’ করে থাকেন। আর বিসি ইউনিয়ন বলছে, তাহমিনা তাদের কোম্পানির পরিচালক হিসেবে আছেন। আর যে মাইশা গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে তাহমিনা পরিচিত, সেই মাইশা গ্রুপ বলছে, কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাহমিনা তাদের একটা সময় পর্যন্ত ‘সহযোগিতা’ করলেও তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক তাদের নেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিএমএসডি থেকে সাধারণত কোনো কোম্পানির ইমেইল ঠিকানা বা কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির ইমেইলে কার্যাদেশের কপি পাঠানো হয়। তবে গত আগস্ট মাসে মাইশা রাও টেলসেট জেভি, কসবা ফ্রেইটস ও বিসি ইউনিয়ন— তিনটি কোম্পানিকেই কার্যাদেশ পাঠানো হয়েছে তাহমিনা আক্তারের জিমেইল অ্যাকাউন্টে। এর মধ্যে বিসি ইউনিয়নের ৫০ হাজার পিস পিপিই (চার কোটি ৫০ লাখ টাকা), কসবা ফ্রেইটস দুই লাখ ৬০ হাজার পিস মাস্ক (১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা) ও মাইশা রাও টেলসেট জেভি ২৫ ইউনিট পোর্টেবল এক্সরে মেশিন (সাত কোটি ৭৫ লাখ টাকা) সরবরাহের কার্যাদেশ পায়।

বিজ্ঞাপন

সিএমএসডিতে পণ্য সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, তাহমিনা আক্তার তামিমা মূলত মাইশা গ্রুপের মার্কেটিং কর্মকর্তা বলে পরিচিত। তবে তিনি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের হয়েও কাজ করে থাকেন। কাজ পাওয়ার আশায় অন্যরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি এক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য প্রতিষ্ঠানের হয়ে তদবির করেন। আর সেই সব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি সরাসরি আর্থিকভাবে লাভ নিয়ে থাকেন। বলা যেতে পারে, উনি এখানকার কারিগরি বিষয়গুলো বোঝার কারণে সবাই তাকে তোয়াক্কা করে চলেন। তার প্রভাব নিয়েও অনেক কথাবার্তা হয়ে থাকে। তাই অন্যরা আসলে তেমন কিছু বলার সাহস পায় না। যে কারণে সিএমএসডিতে কারিগরি কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন বা সর্বোচ্চ দুইজন উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও দেখা যায় তিনি নিজেই কয়েকটি কোম্পানির হয়ে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেন।

সিএমএসডি সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৮ জুলাই মাস্ক সরবরাহের কাজ পাওয়া জন্য আবেদন করে ‘কসবা ফ্রেইট সিস্টেম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সিএমএসডিতে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন তাহমিনা আক্তার তামিমা। ১০ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ ৬০ হাজার পিস ‘এন-৯৫’ মাস্ক সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশে প্রতিটি মাস্কের দাম ৪৬০ টাকা হিসেবে এর আর্থিক মূল্য ছিল ১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

পরে কসবা ফ্রেইটসের পক্ষ থেকে মাস্ক আমদানি সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্রের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে আবেদন করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি দু’টি ইনভয়েসের বিষয়ে উল্লেখ করে জানায়, ‘থ্রি এম এন৯৫’ মাস্কগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার এসটিটি টেক কোম্পানি থেকে আনা হবে। ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়। তবে সারাবাংলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে জানা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় এসটিটি টেক কোম্পানি নামে কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই।

সিএমএসডির পক্ষ থেকে কসবা ফ্রেইটস সিস্টেমকে দেওয়া কার্যাদেশে ১০ দিনের মধ্যে মাস্ক সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি মাস্ক সরবরাহ করে প্রায় পাঁচ মাস পর, গত ৩১ ডিসেম্বর। ওই দিনও মাস্ক সরবরাহের সময় কসবা ফ্রেইটসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন তাহমিনা আক্তার। ওই সময় সিএমএসডি কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে মাস্ক গ্রহণ করলেও দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরীক্ষায় দেখা যায়, ১৫টি কার্টনে ২০টি করে ৩০০টি মাস্ক থাকার কথা থাকলেও সেখানে ছিল ২৪৪টি মাস্ক। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ভাবে সিএমএসডি পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি গাড়িতে থাকা মাস্কগুলো ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এ সময় তাহমিনা আক্তার তামিমাও সেখান থেকে চলে যান।

বিজ্ঞাপন

এর আগেও কার্যাদেশের তুলনায় মাস্ক কম সরবরাহের সময় একটি কোম্পানির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। কসবা ফ্রেইটসের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না— জানতে চাইলে সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান সারাবাংলাকে বলেন, কোনো ধরনের প্রতারণা বা অন্যায়কে আমাদের এখানে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। এরই মধ্যে দেরিতে মালামাল সরবরাহ করার কারণে আরও অনেক কোম্পানিকে আমরা জরিমানা করেছি, যার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এক্ষেত্রেও অবশ্যই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটবে না। আমরা তাদের কাছে জবাব জানতে চাইব এবং দেরিতে সরবরাহের জন্য আইন অনুযায়ী যা করা প্রয়োজনও তাই করব। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করা হবে।

জানতে চাইলে কসবা ফ্রেইটস সিস্টেমের স্বত্বাধিকারী মো. সিদ্দিক সারাবাংলাকে বলেন, প্রোডাকশন অনুযায়ী মাস্ক দিতে না পারার কারণে আমার পণ্য সরবরাহে দেরি হয়েছে। তবে কার্টনে কম পাওয়ায় মাস্ক ফেরত পাঠানো হয়। এখানে আসলে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

পণ্য সরবরাহের সময় তাহমিনা আক্তারের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মো. সিদ্দিক বলেন, তিনি আমাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ না। তবে তিনি সিএমএসডিতে আমাদেরসহ আরও অন্যান্য কোম্পানির পণ্য সরবরাহ করে থাকেন। সেখানে তিনি আমাদের সহযোগিতা করেন। সিএমএসডির কারিগরি কমিটির বৈঠকেও তিনি আমাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। আমাদের পক্ষ থেকে উনিই কাজ নেন। কারিগরি কমিটির বৈঠকেও তাই তিনি থাকেন।

তিনি আরও বলেন, আমি আসলে এসব বিষয় একটু কম বুঝি। স্ট্রেইট ফরোয়ার্ডিংয়ের ব্যবসা করে থাকি আমি। তাই তাহমিনাই আমার পক্ষ থেকে সিএমসডিতে কাজ করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিসি ইউনিয়নের ৫০ হাজার পিস পিপিই সরবরাহের কাজটি ‘পাইয়ে দেওয়া’র পেছনেও কাজ করেছেন তাহমিনা আক্তার। এ ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিএমএসডিতে পণ্য সরবরাহকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিসি ইউনিয়নকে পিপিই সরবরাহের কাজ নিয়ে দিয়েছিলেন তাহমিনা। তবে এ ক্ষেত্রে তাহমিনা বিসি ইউনিয়নকে পিপিই’র জন্য ৭০০ টাকা করে দিয়েছেন, আর সিএমএসডি’তে সেটি সরবরাহ করা হয়েছে ৯০০ টাকা দরে। অর্থাৎ বিসি ইউনিয়নকে কাজ পাইয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি এক কোটি টাকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তার তদবিরে বিসি ইউনিয়ন এক লাখ পিস গ্লাভস সরবরাহ করার কাজও পায়। একইসঙ্গে কসবা ফ্রেইটস সিস্টেমকেও তিনি কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। আর মাইশার পক্ষে তো তিনি আনুষ্ঠানিকভাবেই কাজ নিয়ে থাকেন। মাইশার করোনা পরীক্ষার কিট থেকে শুরু করে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, আইসিইউ বেড, হাই ফ্লো নজল ক্যানোলার অর্ডারও নিয়ে দিয়েছেন তাহমিনা, যার প্রতিটি কার্যাদেশের রিসিভিং কপিতে তার সই আছে।

এ বিষয়ে জানতে সারাবাংলার পক্ষ থেকে বিসি ইউনিয়নের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হুদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাহমিনা আক্তারকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাহমিনা আক্তার আমার প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক। হ্যাঁ, তিনি মাইশাতেও কাজ করেন। তবে কসবা ফ্রেইটস সিস্টেমের বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি গত ছয় মাস সিএমএসডিতে যাই না।

তাহমিনা আক্তার তামিমা বিসি ইউনিয়নের পরিচালক— এমন কোনো কাগজ আছে কি না, জানতে চাইলে নাজমুল হুদা বলেন, ‘কাগজ আছে। আপনারা চাইলেই দিতে পারব।’ যদিও কাগজ দেখতে চাইলে আন্তর্জাতিক কোম্পানির কথা বলে সেটি তিনি ‘শেয়ার করতে’ অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসব বিষয়ে জানতে মাইশা গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার হিসেবে পরিচিত তাহমিনা আক্তারের মোবাইল নম্বরে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তার নম্বরটি গত দুই দিন বন্ধ পাওয়া গেছে। তার বিষয়ে জানতে মাইশা গ্রুপের পরিচালক সাকি ইসলাম পান্থ’র সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তাহমিনা তাদের গ্রুপের কোনো কর্মীই নন।

সাকি ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, দেশে যখন কিট সংকটের আশঙ্কা ছিল, তখন আমরা কিট সরবরাহের জন্য এগিয়ে এসেছিলাম। ওই সময় মূলত তিনি (তাহমিনা) এসে জানান, তিনি কাজ করে দিতে পারবেন। এ বিষয়ে তার সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছিল। পরে আমরা আমরা সিএমএসডিতে আরও কিছু পণ্য সরবরাহ করেছি। কিন্তু তাহমিনার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি যদি নিজেকে মাইশা গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে থাকেন, সেটি সম্পূর্ণ ভুল।

তিনি আরও বলেন, তার সঙ্গে অন্য কোনো কোম্পানির যোগাযোগ আছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কারণ তিনি তো আমাদের এখানে স্থায়ী কোনো পদে চাকরি করতেন না। তারপরও যদি কেউ এভাবে পরিচয় দিয়ে থাকে, তবে বলব সেটি প্রতারণামূলকভাবে করা হচ্ছে।

একই ব্যক্তির পক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করা কিংবা তার ব্যক্তিগত ইমেইলে তিনটি কোম্পানির কার্যাদেশ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চাইলে সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান সারাবাংলাকে বলেন, কসবা ফ্রেইটসের পক্ষ থেকে কে এসেছিল পণ্য সরবরাহ করতে, তা আমি জানি না। কসবা ফ্রেইটসের পক্ষে যে তাহমিনা আক্তার এসেছিলেন এবং মাইশার পক্ষে মার্কেটিং বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া তাহমিনা যে একই ব্যক্তি, সেটি আগে জানা ছিল না। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরও বলেন, আসলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে প্রাধান্য দিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ যারা করছে, তাদের কার্যাদেশের সময়সীমাও দেখা হচ্ছে। আলাদা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রাধান্য দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এখানে কারিগরি কমিটি আছে। যেকোনো পণ্য নিয়ে সেখানে যাচাই-বাছাই করা হয় কার্যাদেশ দেওয়ার আগে। এরপর কার্যাদেশ দেওয়া হয়। তারপরও কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে আমরা নিশ্চয় খতিয়ে দেখব।

সরকারি কেনাকাটায় একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে কি না— জানতে চাইলে সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদ্য সাবেক সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ সারাবাংলাকে বলেন, একই ব্যক্তি যদি একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন, তবে সেখানে দুর্নীতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নীতিগতভাবেই এটি করা যায় না। কিছুদিন আগেই তো গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে মিঠু নামের একজনের বিভিন্ন নামে ১০টিরও বেশি লাইসেন্স ব্যবহার করে কাজ করার ঘটনা। এভাবেই আসলে দুর্নীতির শুরু হয়।

জানতে চাইলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর সারাবাংলাকে বলেন, এভাবে একই ব্যক্তির তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সরাসরি কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট। পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে একেকটি কোম্পানির একেক মূল্য প্রস্তাবনার বিষয় থাকে। কিন্তু যদি একই ব্যক্তি এই ধরনের ক্রয় প্রক্রিয়ায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের হয়ে অংশ নেন, তবে দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হবে।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন