বিজ্ঞাপন

নারী কাজী নিয়ে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ ২১ বিশিষ্ট নাগরিকের

January 12, 2021 | 2:18 pm

সারাবাংলা ডেস্ক

ঢাকা: সম্প্রতি ‘নারী বিয়ের কাজী হতে পারবে না’—এই মর্মে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ে মর্মাহত ও সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দেশের ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, “নারীর শরীর প্রাকৃতিক নিয়মে মাসে একবার নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুমতি হয়, এটি প্রকৃতির নিয়মে সংঘটিত একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। নারীর ঋতুমতি হওয়া যদি বন্ধ হয়ে যায় তবে মানুষের জন্ম হবে না এবং মানবজাতি নিশ্চহ্ন হয়ে যাবে।”

বিজ্ঞাপন

তারা বলেছেন, “এই ঋতুমতির নির্দিষ্ট সময় নারী, গৃহ ও বাইরের সকল কাজ সম্পাদন করে থাকে। পারিবারিক, সামাজিক, দাফতরিক, রাষ্ট্রীয় এবং উৎপাদন পদ্ধতিতে সর্বাংশে অংশগ্রহণ ও সকল দায়িত্ব সূচারুরূপে পালন করে থাকেন।”

“নিকাহ বা বিয়ে নিশ্চয়ই মসজিদেই হতে হবে এটা ইসলাম ধর্মে বাধ্যতামূলক নয়। সিংহভাগ বিয়ে বাসায়, বিয়ে-অনুষ্ঠানস্থলে ও কাজী অফিসে সম্পন্ন হয়ে থাকে। অতএব মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ে নারীদের প্রবেশাধিকারে নিয়ন্ত্রিত কারণে প্রদত্ত এ রায় কার্যত নারী অধিকারকে সঙ্কুচিত করেছে”—বিবৃতিতে উল্লেখ করেন বিশিষ্টজনেরা।

বিজ্ঞাপন

রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বিজ্ঞ উচ্চ আদালতকে এ রায় পুনর্বিবেচনা করে সংবিধান প্রদত্ত নারী-পুরুষ সমঅধিকারের ভিত্তিতে রায় প্রদানের অনুরোধ জানাই।”

বিবৃতিদাতারা হলেন—আব্দুল গাফফার চৌধুরী, হাসান আজিজুল হক, অনুপম সেন, শামসুজ্জামান খান, ফেরদৌসী মজুমদার, সারওয়ার আলী, আবদুস সেলিম, সেলিনা হোসেন, মামুনুর রশীদ, মফিদুল হক, মুনতাসীর মামুন, শফি আহমেদ, শাহরিয়ার কবীর, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, সারা যাকের, লাকী ইনাম, গোলাম কুদ্দুছ, শিমূল ইউসুফ, মোহাম্মদ সামাদ, হাসান আরিফ এবং আহকামউল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

নারীরা বিয়ের কাজী হতে পারবে না, হাইকোর্টের রায়

এর আগে দেশের ‘সামাজিক ও বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে’ নারীরা নিকাহ রেজিস্ট্রার হতে পারবে না মর্মে নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। দিনাজপুরের এক নারী রেজিস্ট্রার প্রার্থীর রিট খারিজ করে দেওয়া এ রায়ের অনুলিপি ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন