বিজ্ঞাপন

‘প্রতি ভ্যাকসিনে ২ ডলার নিয়ে যাবে সরকার’

January 13, 2021 | 2:41 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘নভেল করোনাভাইরাসের প্রতি ভ্যাকসিনে সরকার ২ ডলার নিয়ে যাবে’— এমনটিই অভিযোগ বিএনপির মহাসচিব সাবেকমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির ভারপ্রপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এ সমাবেশ আয়োজন করে।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন যেখানে ভারতে বিক্রি হচ্ছে ২ টাকা ৪০ পয়সা (২ ডলার, ৪০ সেন্ট) করে, সেখানে বাংলাদেশে মানুষের কাছ ৫ টাকা (৫ ডলার) করে নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি ভ্যাকসিনে বাড়তি দুই টাকা (ডলার) আপনারা (সরকার) নিয়ে যাবেন।’

‘আপনারা (সরকার) চুরি এবং লুটপাট করে দেশে ডাকাতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। এই কোভিড-১৯! এত ভয়াবহ মহামারি! এই মহামারিতেও আপনারা লুটপাট বন্ধ করেননি। এখন ভ্যাকসিন আমদানির মধ্য দিয়ে সেই লুটপাটের ষড়যন্ত্র করছেন’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে চার্জশিট ও গ্রেফতারি পরোয়ানা— এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য গত ১২ বছর ধরে এ ষড়যন্ত্র চলছে। ‍শুধু তারেক রহমান নয়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো— তাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিয়ে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বন্দি হয়ে আছেন। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ও হুলিয়া। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বিএনপির লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে প্রায় ১২ বছর ধরে বিরোধীদলগুলোর ওপর অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করেছে যে, এই অত্যাচার, নির্যাতন, মামলা-হুলিয়া দিয়ে এই দেশের গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাকামী মানুষকে দমন করে রাখা যাবে। কিন্তু তা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী মানুষ। বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রকে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে অর্জন করেছে। এবারও প্রয়োজনে বুকের রক্ত ঢেলে গণতন্ত্র রক্ষা করবে।’

‘তারেক রহমানকে এত ভয় কেন? ভয়ের একটাই কারণ, তারেক রহমান এ দেশের মানুষের যে রাজনীতি, সেই রাজনীতির পতাকা তুলে ধরেছেন। যে পতাকা নিয়ে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রমান ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। যে পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। আজকে সেই জন্যই তারেক রহমানকে তাদের এত ভয়’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান একা নন। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষ তারেক রহমানের সঙ্গে আছে। সুতরাং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

সরকারের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা বিচার বিভাগ শেষ করে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের কোনো মান-মর্যাদা আপনারা রাখেননি। তারেক রহমানকে একটা মামলায় পুরোপুরিভাবে খালাস দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার সেই মামলা হাইকোর্টের নিয়ে গিয়ে আপনারা (সরকার) তারেক রহমানকে সাজা দিয়েছেন। সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন।’

সরকারকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়েছে। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন এই সরকারকে সরাবার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী ও দেশপ্রেমিক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের পরাজিত করতে হবে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলায় হুলিয়া দেওয়া হয়েছে, তা তুলে নিতে হবে। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মামলা দেওয়া হয়েছে, সেই মামলা তুলে নিতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে যে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মামলা তুলে নিতে হবে এবং আটক রাজনীতিবিদদের মুক্তি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমাবেশের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই— এখন সময় এসেছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, সময় এসেছে প্রতিবাদ করবার, সময় এসেছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করবার।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন