বিজ্ঞাপন

পি কে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা রিমান্ডে

January 13, 2021 | 3:43 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস এ আদেশ দেন। এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদক উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত কুমার হালদার তার অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করার উদ্দেশ্যে তার মা সন্দিগ্ধ আসামি লিলাবতী হালদারের নামে স্থানান্তর করেন। লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে অবন্তিকা বড়ালসহ অন্যদের নামে স্থানান্তর করে মানি লন্ডারিং করেন। তাছাড়া প্রশান্ত কুমার হালদার নিজের অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালকে রিলায়েন্স, পি এন এল ইন্টারন্যাশনাল ও পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে চাকরি দিয়ে তার অবৈধ ব্যবসা ও মানি লন্ডারিংয়ের কাজে যোগসাজশ করেন। প্রশান্ত কুমার হালদার পরস্পর যোগসাজশে অর্জিত অবৈধ অর্থ দিয়ে তার নিকট আত্মীয় সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে আরও সম্পদ অর্জন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার সন্দিগ্ধ আসামি অবন্তিকা বড়ালও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রশন্ত কুমার হালদার তার বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের মাধ্যমে তাদের অবৈধ অর্জিত অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন করে মানি লন্ডারিং করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব বিষয়ে অবন্তিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এসময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডে পক্ষে শুনানি করেন। দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বুধবার (১৩ জানুয়ারি) ধানমন্ডির ১০ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, পি কে হালদারের মামলার তদন্তে অবন্তিকার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুদক থেকে তাকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাইবে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা। গত ২৮ ডিসেম্বর পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তবে ওই সময় তিনি হাজির হননি।

বিজ্ঞাপন

ক্যাসিনো অভিযানের ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের পরপরই প্রশান্ত কুমার হালদারের নাম উঠে আসে। পি কে হালদারের দুর্নীতির সংশ্লিষ্টতায় এখন পর্যন্ত ৮৩ ব্যক্তির প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছে দুদক।

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন