বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলন ডেকে সিএনএন’র খবর পাঠ বিসিএসআইআর’র!

January 13, 2021 | 4:24 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: শ্রীলঙ্কা, সুরিনাম ও বাংলাদেশের গবেষণা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন খবর প্রকাশ করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কনফারেন্স রুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দেশে কোভিড-১৯ জিনোম সিকোয়েন্সের বিষয়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার কথা জানায় বিসিএসআইআর। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার প্রায় সব সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেল ও সংবাদ সংস্থার বার্তা সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ জরুরি সংবাদ সম্মেলন আমন্ত্রণ জানানো হয় গণমাধ্যমকর্মীদের।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলন ডেকে সিএনএন’র খবর পাঠ বিসিএসআইআর’র!

সংবাদ সম্মেলনে শিরোনাম দেওয়া হয় ‘বিসিএসআইআর-জিনোমিক রিসার্চ ল্যাবরেটরির কোভিড-১৯ গবেষণার অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি’। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খোদ বিসিএসআরআই’র চেয়ারম্যান। তিনি তার লিখিত বক্তব্যে মূলত মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাঠ করেন। এ সময় বাংলাদেশে জিনোম সিকোয়েন্স অগ্রগতির নিয়ে জানতে চাইলে এ বিষয়ে নতুন কিছু বলতে পারেননি তিনি।

ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, ‘অগ্রগতি আগের মিটিংয়ে যেটি জানানো হয়েছিল সেটিই। পরবর্তী আপডেট থাকলে এভাবেই সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। আজ আমরা লিখিত বক্তব্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন’র একটি প্রতিবেদনে আমাদের যে প্রশংসা করা হয়েছে সে বিষয়ে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছি।’

বিজ্ঞাপন

লিখিত বক্তব্য পাঠ শেষে সাংবাদিকরা যুক্তরাজ্যের মতো কোভিড-১৯ এর ভ্যারিয়েন্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি এখনও বলা যাবে না। এর আগে গণমাধ্যমে যা এসেছে তা বিসিএসআইআর এর বক্তব্য না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। এখনও কিছু বলা যাবে না।’

এ সময় গবেষক দলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো সেলিম খান তার পাশে বসা ছিলেন। তবে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, ‘না, উনি কিছুই বলবেন না। আমরা আপনাদের পরে আরও বিস্তারিত জানাব।’

বিজ্ঞাপন

তাহলে কীসের জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন?- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘সিএনএন’র প্রতিবেদন সম্পর্কে জানাতেই এই সংবাদ সম্মেলন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিসিএসআইআর’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ৩০৪টি সিকোয়েন্স জমা দিয়েছি। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি আলাদা বৈশিষ্ট্যের ভাইরাস পাওয়া গেছে। এখনো কনক্লুশন করা হয়নি। হলে সবাইকে জানানো হবে খুব দ্রুত।’ সিকোয়েন্সিংয়ের ক্লিনিক্যাল ডাটা যোগাড় করা হয়েছে কিনা?- এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে অত্যাধুনিক জিনোমিক গবেষণাগার স্থাপন করা হয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, করোনা আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসটির উৎস, গতি প্রকৃতি ও বিস্তার রোধে উপায় নিয়ে গবেষণা করছে বিসিএসআইআর। তিনশ’র বেশি SARS-CoV-2 ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা Global Initiative on Sharing All Influenza Data (GISAID)-এ জমা দেওয়া হয়েছে। এই গবেষণায় সহায়তা করেছেন ড. সমীর উজ্জামান সমীর, সিনিয়র কনসালটেন্ট, সাইটেক কনসালটিং অ্যান্ড সল্যুশন লিমিটেড ইউকে ও ইশরার ওসমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট সাইটেক কনসালটিং অ্যান্ড সল্যুশন লিমিটেড, অস্ট্রেলিয়া। এই গবেষণায় নমুনা সরবরাহ করেছেন National Institute of Laboratory Medicine and Referral Centre-এর পরিচালক অধ্যাপক এ কে এম সামসুজ্জামান ও তার গবেষক দল।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. আফতাব আলী শেখ জানান, সম্প্রতি বহুল প্রচারিত আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন কোভিড-১৯ এর গবেষণায় অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশের গবেষকদলের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে– কম রিসোর্স থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা এবং সুরিনামের মতো দেশগুলো স্যাম্পল প্রক্রিয়াকরণের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও দ্রুতগতিতে কাজ করে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থা জিসএইডের (GISAID) এর মুখপাত্র হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়েও প্রশংসা করেছেন সবার। এ জন্য বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সুরিনামের মন্ত্রী, চেয়ারম্যান, পরিচালক ও সহযোগীরা আনন্দে ভেসে যাবে বলেও উল্লেখ করা হয় লিখিত বক্তব্যে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিনোম সিকোয়েন্সে আটটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে বলে জানায় বিসিএসআইআর। এদিন তারা ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (এনসিবিআই) ও গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডাটায় (জিএসএআইডি) ১৭১টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ডাটা জমা দেওয়ার কথা জানায়।

পরবর্তী সময়ে ৭ সেপ্টেম্বর করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি। ওইদিন তারা বলে, কোভিড-১৯-এর জিনগত বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করার জন্য সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের সর্বমোট ২৬৩টি জিনোম সিকোয়েন্সিং ও ডাটা বিশ্লেষণ করা হয়ে।

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন