বিজ্ঞাপন

নির্বাচনি সংঘাত: কাউন্সিলর প্রার্থী কাদেরসহ ১১ জন রিমান্ডে

January 13, 2021 | 6:44 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে নির্বাচনি সংঘাতে একজন নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিন এ আদেশ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন-

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনি সংঘাত: কাউন্সিলর প্রার্থী কাদেরসহ ১১ জন রিমান্ডে

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহাদাত হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ’১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেছেন। আসামিদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আবদুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন— এম কে কবির হেলাল উদ্দিন (৪০), ওবায়দুল কবির মিন্টু (৪০), আসাদুজ্জামান নূর রায়হান (২৯), ইমরান হোসেন ডলার (২৪), দিদার উল্লাহ দিদু (৪৮), মিনহাজ হোসেন ফরহাদ (২০), শহীদুল আলম সাহেদ (৩৭), জাহিদুল আলম জাহিদ (২৫), শহিদুল ইসলাম (৩৩), আব্দুর রহমান (৪৪)।

নির্বাচনি সংঘাত: কাউন্সিলর প্রার্থী কাদেরসহ ১১ জন রিমান্ডে

বিজ্ঞাপন

এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নগরীর মগপুকুর পাড় এলাকায় পাঠানটুলি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও ‘বিদ্রোহী’ আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল (৫৫) নামে একজন মারা যান। এছাড়া মাহবুব নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং পাঠানটুলি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

বাহাদুর ২০০৫ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী আবদুল কাদেরের কাছে তিনি পরাজিত হন। এবার আবদুল কাদের দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিহত আজগর আলী বাবুল ও আহত মাহবুব উভয়ই বাহাদুরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

সংঘর্ষ শুরুর পর আবদুল কাদের ও তার কয়েকজন অনুসারী মগপুকুর পাড়ে তাহের ভবনের দোতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর ডবলমুরিং থানা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে ভবনটি ঘিরে কাদেরসহ তার অনুসারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে আবদুল কাদেরসহ ২৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রাতেই কাদেরকে মূল অভিযুক্ত করে মোট ১৩ জনকে আসামি করে নগরীর ডবলমুরিং থানায় মামলা করেন নিহত আজগর আলী বাবুলের ছেলে সিজান মোহাম্মদ সেতু। মামলায় আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মনজুর মোরশেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আটক ২৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন এজাহারভুক্ত এবং বাকি ৫ জন সন্ধিগ্ধ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইবাছাইয়ে বাকিদের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

সারাবাংলা/আরডি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন