বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সব নাগরিককে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি

January 14, 2021 | 9:30 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের সব জনগণকে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। টাকা থাকলে ভ্যাকসিন মিলবে, না থাকলে মিলবে না— এই নীতি পরিহার করতে হবে। দেশের সব নাগরিককে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বিনামূল্যে করোনা ভ্যাকসিন দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাসদ সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন। এসময় ভ্যাকসিন নিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়েও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

খালেকুজ্জামান বলেন, করোনা মহামারির সংক্রমণে সারাবিশ্বের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ছাড়া এ মহামারি থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ বিশ্ব দেখছে না। এরই মধ্যে যে কয়েকটি ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে, তা নিয়েও চলছে আন্তর্জাতিকভাবে রাজনীতি ও বাণিজ্য। এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণায় ৭০০ কোটি মানুষের ভ্যাকসিন সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হলেও টাকা ছাড়া কেউ তা পাবে কি না, সেটা অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে।

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান আরও বলেন, কারোনাকালে সরকারের ব্যর্থতা এবং মাস্ক-পিপিই নিয়ে দুর্নীতির চিত্র মানুষ দেখেছে। এখনো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রেজেনেকার ভ্যাকসিন ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ৩ ডলারে কিনে দেশে ৫ ডলারে বিক্রির কথা বলা হচ্ছে। আশ্চার্যের বিষয়— স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি সিরামের কাছ থেকে ভ্যাকসিন না কিনে বেক্সিমকো নামক একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কেনার চুক্তি করেছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তিনি বলেন, যখন এ ধরনের চুক্তি করা হয়, তখনই দেশবাসী আশঙ্কা করেছিল যে টিকা নিয়েও বাণিজ্য ও দুর্নীতির দ্বার খুলে দেওয়া হলো। জনগণের আশঙ্কাই আজ সত্যে রূপ নিতে দেখা যাচ্ছে। বেক্সিমকো এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে— তারা জানুয়ারি থেকেই বেসরকারিভাবে করোনা ভ্যাকসিন বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি শুরু করবে। সরকারিভাবে করোনা ভ্যাকসিন আসার আগেই বেক্সিমকোর এই ঘোষণা সাধারণ মানুষকে যার পর নাই আতঙ্কিত করেছে। ভ্যাকসিন নিয়েও সেই একই নীতি ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’, ‘টাকা আছে যার, ভ্যাক্সিন পাবে সে’ অনুসরণ করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে বাসদ নেতা বলেন, দুর্নীতি আজ রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে— করোনা টিকার অ্যাপ তৈরি করতেই নাকি ৯০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই সংবাদের প্রতিবাদ করে যে ব্যাখ্যা স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দেওয়া হয়েছে, তাতেও দুর্নীতির ছাপ স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছে— অ্যাপ নয়, অ্যাপ পরিচালনায় ব্যয় হবে ৯০ কোটি টাকা। বুঝতেই পারছেন— শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান করোনা টিকা নিয়ে সব ধরনের বাণিজ্য ও দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি বন্ধ এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সব নাগরিককে করোনা টিকা দেওয়ার দাবি জানান।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন