বিজ্ঞাপন

‘গুণগত মানসম্মত সেবা দিতে অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে’

January 16, 2021 | 10:00 pm

এমদাদুল হক তুহিন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশের মোবাইল গ্রাহকরা গুণগত মানসম্পন্ন সেবা পায় না। এটি একটি বড় সমস্যা। গ্রাহকদের গুণগত সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটররা এখন পর্যন্ত অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের অপারেটরা ‍গুণগত মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, সেই জায়গাটায় আমাদের যেতে হবে। সেই লক্ষ্যে টাওয়ার নির্মাণ ও তরঙ্গ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এই কাজটিও এগিয়ে চলেছে। এছাড়া গ্রাহক স্বার্থবিরোধী যেকোনো সেবাই ভবিষ্যতে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সঙ্গে সারাবাংলা ডটনেটের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি আলাপকালে এসব কথা বলেন।

সৌজন্য সাক্ষাতে সারাবাংলা ডটনেটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) মোবাইল গেইম অ্যান্ড অ্যাপ ও ভ্যাস সার্ভিস সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও সারাবাংলার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক রফিক উল্লাহ রোমেল, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট এমদাদুল হক তুহিন ও সাব্বির আহমেদ এবং সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট হাবিবুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- ‘শ্রীলঙ্কা বাদে এ অঞ্চলে বাংলাদেশেই ইন্টারনেট সবচেয়ে সস্তা’

সম্প্রতি বিটিআরসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্যাম সুন্দর সিকদার। এর আগে তিনি সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাবাংলা ডটনেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিটিআরসিকে নিয়ে তার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। খোলামেলা আলোচনায় বলেছেন, অপারেটর ও গ্রাহক— উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেই বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করে এগিয়ে চলতে চান। কাঠামোগত কিছু পরিবর্তন এনে বিটিআরসিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যও রয়েছে তার।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলাকে দেওয়া বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

সারাবাংলা: মাসখানেক হতে চলছে নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। কেমন লাগছে?

বিজ্ঞাপন

শ্যাম সুন্দর সিকদার: এখানে নিয়োগ হওয়ার পর এক ধরনের মানসিক প্রস্তুতি হয়েছে। সেটা হলো— কেমন লাগেছে সেটার আগে কেমন লাগাতে হবে।  আমি বলব, যায়গাটা খুব চ্যালেঞ্জিং। সারাদেশের মানুষকে আমরা যে ডিজিটাল সেবা দিয়ে থাকি, সেখানে সেবাদাতাদের মধ্যে নানা ধরনের স্টেকহোল্ডার রয়েছেন। তাদের অনেকগুলো অসুবিধা আছে। আবার ১৭ কোটি মানুষ যারা সেবা নিচ্ছে, তাদেরও অনেক সমস্যা আছে। তাদের সমস্যাই আমি বলব বেশি। আমরা জানি, গ্রাহকরা মানসম্মত সেবা পায় না— এই অভিযোগ আছে। আমি যোগ দেওয়ার পরই এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে মিটিং বা মতবিনিময় করেছি। সেসব মিটিংয়ের মাধ্যমে আমি অনেকগুলো বিষয় জানতে পেরেছি, যেই বিষয়গুলো অনেক আগে থেকেই আমার জানা আছে। সবখানেই কিছু না কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। এখানে চ্যালেঞ্জটা হয়তো একটু বেশি। এই বেশি চ্যালেঞ্জকে অবশ্য আমি ভয় পাই না। আমি এগুলো উত্তরণের জন্য চেষ্টা করব।

‘গুণগত মানসম্মত সেবা দিতে অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা: পথচলায় আপনার সামনে সুনির্দিষ্ট কোনো টার্গেট রয়েছে কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: সুনির্দিষ্ট টার্গেটটি আমি ওইভাবে নিউমারিক্যালি বলব না। আমরা যে অবস্থায় এখন আছি, তার থেকে আরও উন্নততর অবস্থায় আমরা যেতে চাই, যাব। আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলতে গেলে— বাংলাদেশের তুলনায় উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তিগত দিক থেকে কতটুকু উন্নত, সেই বিষয়গুলো বুঝতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে না হোক, আমরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে উন্নত দেশগুলোর সমান সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করতে পারি। উদাহরণ হিসেবে বলব পদ্মাসেতুর কথা। প্রথমে বিদেশি অর্থায়ানে এটি নির্মাণের প্রস্তুতি ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সাহসের সঙ্গে বিদেশি অর্থ না নিয়ে নিজেদের অর্থে এই সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্তটি নিলেন, আজ কিন্তু আমরা সেই সেতু নিজেদের টাকাকেই করে ফেলেছি। কাজেই অনেকগুলো বিষয়ে আমাদের অবস্থা একেবারেই দুর্বল ভেবে নিয়ে সেটি করব না— এমনটি করা যাবে না। আমাদের লক্ষ্য থাকবে যেন উন্নত রাষ্ট্রগুলো যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেমন— আইওটি, ব্লক চেইন, বিগ ডাটা, এআই— এগুলোতে আমাদের যেতে হবে। বাংলাদেশের অবস্থানটা এখন থেকে ১০ বছর আগে কেমন ছিল, ভাবুন। ডিজিটাল প্রযুক্তির দিক থেকে ১০ বছরে আমরা এখন যেখানে আছি— এটি একটি বড় ধরনের সাফল্য। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও তাই আমরা উন্নত দেশগুলোর কাতারে চলে যেতে পারব বলে আশা করি।

সারাবাংলা: নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে বসেছেন। তাদের বক্তব্যে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা উঠে এসেছে?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: এগুলোকে আমি ঠিক প্রতিবন্ধকতা বলতে চাই না। কিছু সমস্যা আছে। সমস্যা সব মানুষের সঙ্গেই আছে। পারিবারিক জীবনেও কিছু না কিছু সমস্যা থাকে। আমাদের যারা অংশীজন, তাদেরও কিছু সমস্যা আছে। এর মধ্যে একটি বড় সমস্যা ভ্যাট। আর যে বিষয়টিকে বড় সমস্যা মনে করছি, সেটি হলো গ্রাহকদের সন্তুষ্ট করার মতো মানসম্মত সেবা দিতে না পারা। এই জায়গাটিতে আমরা এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছি। আমাদের অপারেটররা গুণগত মানসম্পন্ন সেবা দেওয়ার সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি। সেই জায়গাটায় আমাদের যেতে হবে।

সারাবাংলা: এছাড়াও অন্য কোনো চ্যালেঞ্জ...

শ্যাম সুন্দর সিকদার: আরও চ্যালেঞ্জ যেগুলো থাকবে, সেগুলো সময় বলে দেবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাকে চলতে হবে। প্রযুক্তির ব্যাপারটি এই রকম— আজ যে প্রযুক্তিটি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, দু’দিন পরই হয়তো হয়তো দেখবেন সেটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হবে।

সারাবাংলা: ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথকে সুগম করতে বিটিআরসিতে কোনো সংস্কার করার ইচ্ছে আছে কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: আমি ওই অর্থে সংস্কার বলব না। আমি বলব বিটিআরসির সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সাংগঠনিক উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের যে অর্গানোগ্রাম আছে, সেই অর্গানোগ্রামটা নিয়ে একটু নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ ঢাকাকেন্দ্রিক অফিস কার্যক্রম দিয়ে সারাদেশ চালানো সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। সারাদেশ চালাতে হলে আরও দক্ষ জনবল প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়েও কিছু অফিস আমাদের থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছি। এই বিষয়গুলো নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। এগুলো নিয়ে সকারের নীতিনির্ধারক যারা আছেন, তাদের সঙ্গে এবং আমাদের এখানে কমিশনার বা এক্সপার্ট যারা আছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

‘গুণগত মানসম্মত সেবা দিতে অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে’

সারাবাংলা: বিটিআরসি অপারেটরদের স্বার্থ দেখে এমন অভিযোগ রয়েছে। এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে কী কী করবেন?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: বিটিআরসি শুধু অপারেটরদের স্বার্থ দেখে— আমি বলব এটি আংশিক সত্য। বিটিআরসিকে অপারেটরদের স্বার্থ দেখতেই হবে। বিকজ বিটিআরসি ইজ দ্য রেগুলেটর অব অপারেটরস। বিটিআরসি তাদের রেগুলেট করবে, কিন্তু ফ্যাসিলিয়েট করবে না— এটা তো হয় না। নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি তাদের সুবিধাও (ফ্যাসিলিটি) দিতে হবে। তবে সেটি আইন মেনে দিতে হবে, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নয়। অপারেটররা যদি কোনো অনিয়ম করে, তাদের শাসন করতে হবে। কিন্তু নৈতিকভাবে বা আইনি কাঠামোর মধ্য থেকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাদের যেখানে যতটুকু সুবিধা দেওয়া যায়, সেটিও দিতে হবে। এই সুবিধাগুলো এ জন্য দিতে হবে যে এতে সরকারেরও লাভ আছে। সরকার তাদের কাছ থেকেই রাজস্ব আহরণ করবে। কিন্তু তাই বলে বিটিআরসি কেবল অপারেটরদের স্বার্থ দেখে— এ অভিযোগ সঠিক নয়। যারা ব্যবহকারকারী আছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, অর্থাৎ দেশের জনগণ— তাদের স্বার্থটাও বিটিআরসির দেখার একটি বিষয় আছে এবং সেটি সরকারের ম্যান্ডেট। সরকারের এই ম্যান্ডেট বিটিআরসি বাস্তবায়ন করবে।

সারাবাংলা: সেবার মান বাড়াতে নতুন কোনো উদ্যোগ নেবেন?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: সেবার মান বাড়াতে এর আগে একটি কোয়ালিটি সার্ভিস রেগুলেশন করা হয়েছে। সেগুলোতে সংশোধনীর প্রয়োজন হতে পারে। সুনির্দিষ্টভাবে বললে আমাদের মোবাইল কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি বিটিএস স্থাপন করতে বলা হয়েছে। তারা এ সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছে। টাওয়ার শেয়ারিংয়ের বিষয়েও কাজ চলছে। তবে এগুলোকে আরও জোরদার করতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে— আমাদের তরঙ্গ ঘাটতি রয়েছে। আমরা মোবাইল অপারেটরদের আরও বেশি তরঙ্গ বরাদ্দ দিতে চাই, তারা নিতেও সম্মত হয়েছে। অচিরেই আমরা সেটা তাদের দিতে পারব। এভাবে ধাপে ধাপে আরও যে জায়গাগুলো আছে, সেই জায়গাগুলোতে আমরা যদি কিছু কাজ করি তাহলে সেবার মানটা বাড়ানোর জন্য সম্পূরক কাজ হবে।

সারাবাংলা: অনেকেই বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারনেটের মূল্য অনেক বেশি। তা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেবেন?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: এটি একেবারেই অবান্তর কথা। বিশ্বের কোন দেশে বাংলাদেশের চেয়ে সস্তায় ইন্টারনেট পাওয়া যায়? বাংলাদেশের চেয়ে কোন দেশে সস্তায় ইন্টারনেট সরবরাহ করা হয়? এমন নজির নেই। আমি যতটুকু জানি, শ্রীলঙ্কা হয়তো এদিক থেকে আমাদের চেয়ে একটু এগিয়ে থাকবে। কিন্তু আমরা দ্বিতীয় অবস্থানে আছি। এই তথ্যটি বছর দুয়েক আগের কথা। পরের বিষয়টি আমি এই মুহূর্তে বলতে পারব না। ভারতেও ইন্টারনেটের খরচ আমাদের চেয়ে কম নয়। দেশে ইন্টারনেটের মূল্য বর্তমানের চেয়ে আরও কমানোর প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডইউথের দাম যেটা ৭২ হাজার টাকা ছিল, সেটি এখন মাত্র ৩৫০ টাকা। আর কত কম চান? যারা কমানোর পক্ষে বলছেন, আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই— কোন যুক্তিতে কমানোর কথা বলছেন?

সারাবাংলা: ভয়েস কলরেট কমানোর ব্যাপারে কোনো চিন্তা আছে কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: ভয়েস কলরেট নিয়ে কিছু জটিলতা আছে। এই মূহূর্তে বলব না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। দেখা যাক কোথায় যাওয়া যায়, কিংবা কিভাবে করা যায়। এটি নিয়ে কাজ করছি আমরা।

সারাবাংলা: নতুন আইনে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিআরসির স্বকীয়তা ম্লান করে দেওয়ার শঙ্কা আছে বলে মনে করেন কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: নতুন আইনটি আমি এখনো দেখিইনি। খসড়াটাও এখনো আমার কাছে আসেনি। যতটুকু আমি শুনেছি, তার মধ্য দিয়ে কিছু আলাপ-আলোচনা বাইরে হচ্ছে। এই আলোচনাগুলো কতটা যৌক্তিক, এই মুহূর্তে সেটি আমি কমেন্ট করতে পারব না। তবে আমি এটুকু বলব, বিটিআরসির এই মুহূর্তে যেটুকু অবয়ব আছে, কাজের যে প্রেক্ষাপট আছে, এই প্রেক্ষাপট বা এই ধরনের অবস্থান থেকে সরানোর কোনো কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। সেটা হয়তো সরকার করবেও না। বিটিআরসির স্বাধীনতা নিয়ে যেটি বলছেন, শুরুতে প্রস্তাবনা (প্রিয়্যাম্বল) অংশে একটি শব্দ ছিল— ইন্ডিপেন্ডেন্ট। পরে ২০১০ সালে সংশোধনী হয়েছে। আমরা এখন যত কাজ করি, প্রায় সব কাজই কিন্তু সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়েই করি। সব কাজ না হলেও বিশেষ করে লাইসেন্স দেওয়া বা বাতিল করার ক্ষেত্রে অনুমোদন নেওয়া হয়। এটার জন্য যে আমাদের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে, আমি সেটি বলব না। কারণ বিটিআরসি তো বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। বিটিআরসি সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। সরকারের নীতি বা পলিসি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যা করার দরকার, আমরা সেটিই করছি। এতে বিটিআরসির মান বা স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে, আমি এটা মনে করি না। আর ওই রকম (ক্ষুণ্ন হওয়ার) কিছু থাকলে, খসড়া এলে আমি সেটা দেখব।

সারাবাংলা: গ্রাহকের অজান্তে টাকা কেটে নেওয়া ভ্যাস সার্ভিস সাময়িক বন্ধ করে আবারও চালু করার প্রসঙ্গ জানতে চাই।

শ্যাম সুন্দর সিকদার: ভ্যাস সার্ভিস নিয়ে আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ এসেছে। আমরা সেগুলো আমলে নিয়েছি। মোবাইল অপারেটরদের শোকজ করা হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার তাদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে ছাড়া হয়েছে যে এই রকম ভুল যদি আবার হয়, তাহলে আমরা খুব সিরিয়াস অ্যাকশনে যাব। আর আমি যোগ দেওয়ার পরে যেহেতু এটি প্রথম উদ্যোগ ছিল, তাই বলেছি— এবারই আপনাদের সুযোগ দেওয়া হলো। কিন্তু ভবিষ্যতে আর কোনো সুযোগ নয়।

‘গুণগত মানসম্মত সেবা দিতে অপারেটরদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে’

সারাবাংলা: ট্র্যাডিশনাল বা পুরোনো ভ্যাস সার্ভিস বন্ধ বা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: এগুলো আমরা আপডেট করতে চাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে আপডেট করতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলো ভ্যাস সার্ভিসের ক্ষেত্রে ভালো কিছু করে, আমরা সেগুলো নেব না কেন? এক্ষেত্রে অমাদের তাদের অনুকরণ করা উচিত। জনস্বার্থেই এখানে তা প্রচলন করা দরকার।

সারাবাংলা: নেটফ্লিক্স, জি ফাইভসহ বিদেশি বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তো সরকারকে কর না দিয়ে বিরাট অঙ্কের রাজস্ব নিয়ে যাচ্ছে। বিটিআরসির পক্ষ থেকে এসব প্ল্যাটফর্মকে আইনের আওতায় আনতে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি?

শ্যাম সুন্দর সিকদার: তারা রেভিনিউ নিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, এটি অত্যন্ত সত্য কথা। এটি নিয়ে আমি এনবিআর চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা এরই মধ্যে এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এসব প্ল্যাটফর্ম যেন রাজস্ব ফাঁকি না দিতে পারে, তার জন্য তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। তবে এই কাজটি কতদিনে শেষ হতে পারে, এনবিআর সেই সুনির্দিষ্ট তারিখ আমাদের জানাতে পারেনি। আমি বলেছি, আমাদের এখান থেকে কোনো সাপোর্ট লাগলে আমি দেবো। আমি নিজেও চাই, তারা একটি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসুক। বাংলাদেশ সরকারের যে নিয়ম-নীতি আছে, এখান থেকে যদি আয় নিতে হয়, সেটি কর দিয়েই নিতে হবে। কর আদায়ের বিষয়টি কিন্তু বিটিআরসির নয়, সেটি কিন্তু এনবিআর করবে।

সারাবাংলা: কর তো একটি বিষয়, সেটি ছাড়াও শ্লীলতাহানিকর যেসব কনটেন্ট তারা প্রচার করছে, সেটি নিয়ে কিছু করবেন কি না।

শ্যাম সুন্দর সিকদার: আমরা এই জায়গায় সেগুলো অ্যালাউ করব না। অ্যালাউ না করার জন্য যে কাজগুলো করা দরকার, অলরেডি আমাদের এখানে সেই কাজগুলো শুরু হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সেই কনটেন্টগুলো বন্ধ করার জন্য। আর সমাজকে তো আমাদের বাঁচাতে হবে। আমার প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। সেটি অবশ্যই আমরা করব।

সারাবাংলা: ধন্যবাদ আপনাকে।

শ্যাম সুন্দর সিকদার: সারাবাংলাকেও ধন্যবাদ।

সারাবাংলা/ইএইচটি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন