বিজ্ঞাপন

করোনা সংক্রমণের ২য় ঢেউ: জাপানে আত্মহত্যা বেড়েছে ১৬ শতাংশ

January 17, 2021 | 10:54 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাপানে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন জাপানে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে শতকরা ১৬ ভাগ। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) এক হংকং ইউনিভার্সিটি এবং টোকিও মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট পরিচালিত জরিপের বরাতে গণমাধ্যমে এ তথ্য প্রচারিত হয়েছে।

জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯ সালের জুলাই-অক্টোবর মাসের তুলনায় ২০২০ সালের একই টাইমলাইনে জাপানিদের আত্মহত্যা প্রবণতা ১৬ শতাংশ বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি-জুন মাসের টাইমলাইনে আত্মহত্যার প্রবণতা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ন্যাচার হিউম্যান বিহেভিয়র জার্নালে প্রকাশিত ওই জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় মহামারির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জাপানের শিশু, কিশোর এবং নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তবে, করোনা সংক্রমণের প্রথম ঢেউ চলাকালীন সরকারি প্রণোদনা, কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে এসেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি, মহামারি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেওয়ার কারণে জাপানের নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। যা দেশটির পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতার তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি। এছাড়াও, কর্মজীবী নারীদের মধ্যে হতাশা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ২০১৬ -২০২০ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে – করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন দেশটির শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৪৯ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদো সুগা করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় রাজধানী টোকিওসহ তিন প্রিফেকচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিলেন। এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেই বিধিনিষেধের পরিধি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

এ ব্যাপারে জাপানের প্রশাসনিক সংস্কার বিষয়কমন্ত্রী তারো কানো বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নতুন বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব অর্থনীতির ওপরও পড়ছে। তবে, মানুষ করোনার ভয়ে আত্মহত্যা করছে এমনটা নয়। অধিকাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে চাকরি হারানো এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কমে যাওয়ার কারণে। ভবিষ্যতে, করোনা মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে সরকার।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এ জাপানে মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন লাখ ১৫ হাজার ৯১০ জন। করোনায় মৃত্যু হয়েছে চার হাজার ৩৮০ জনের।

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন