বিজ্ঞাপন

সব্যসাচী নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ-এর ৮৭তম জয়ন্তী

January 17, 2021 | 3:19 pm

এন্টারটেইনমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

১৮ জানুয়ারি (সোমবার) সব্যসাচী নাট্যজন মমতাজউদদীন আহমদ-এর ৮৭ তম জন্মদিন। এই উপলক্ষে আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্যসংগঠন ‘থিয়েটার’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। ‘থিয়েটার’-এর এই আয়োজনের সহযোগিতায় থাকছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

বিজ্ঞাপন

মমতাজউদদীন আহমদের উপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, গান, আবৃত্তি, নাট্যাভিনয় সহ বৈচিত্রময় আয়োজনের মধ্যদিয়ে সাজানো এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ষড়ৈশ্বর্য লাকী ইনাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন থিয়েটার সভাপতি ড. নিলুফার বানু এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ‘থিয়েটার’-এর সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন অশোক রায় নন্দী।

ভাষাসৈনিক, বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। মঞ্চ, টেলিভিশন, বেতার ও চলচ্চিত্র সব মাধ্যমেই তিনি ছিলেন অগ্রগণ্য।

বিজ্ঞাপন

এ দেশের মঞ্চনাটকে পরিপূর্ণতায় রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তার রচিত ও নির্দেশিত নাটক ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’ এদেশের নাট্যাঙ্গনে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। থিয়েটার প্রযোজিত তুমুল জনপ্রিয় এই নাটকটি তৎকালীন স্বৈরশাসকের ভীত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বর্ণচোরা’ ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’, ‘জমিদার দর্পণ’, ‘বটবৃক্ষের ধরমকরম’, ‘রাজা অনুস্বারের পালা’, ‘ফলাফল নিম্নচাপ’, ‘যামিনীর শেষ সংলাপ’, ‘দুই বোন’, ‘ওহে তঞ্চক’, ‘খামাখা খামাখা’, ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’, ‘নাট্যত্রয়ী’, ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার’ ইত্যাদি। তার লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ ও ‘রাজা অনুস্বারের পালা’ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়েছিল। তার নিজহাতে গড়া নাট্যসংগঠন ‘থিয়েটার’ দেশের অন্যতম প্রধান নাট্যদল। তার লেখা গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশের নাটকের ইতিবৃত্ত’, ‘বাংলাদেশের থিয়েটারের ইতিবৃত্ত’, ‘নীলদর্পণ’ (সম্পাদনা) ও ‘সিরাজ উদ দৌলা’ (সম্পাদনা) ইত্যাদি।

২০১৯ সালে জানুয়ারিতে তার জীবদ্দশায় ৮৫তম জন্মদিনে বাংলা একাডেমি মিলনায়তনে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে তাকে ‘একুশে পদক’ দেওয়া হয়। এছাড়া বাংলা একাডেমি পুরস্কার, শিশু একাডেমি পুরস্কার, আলাউল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন নাট্যকর্মী থেকে শুরু করে দেশের অগণিত মানুষের ভালোবাসা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এএসজি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন