বিজ্ঞাপন

ওয়াজ মাহফিলে কাল্পনিক গল্প নিষিদ্ধ চেয়ে আইনি নোটিশ

January 18, 2021 | 5:07 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় বক্তৃতায় কোনো ধরনের কাল্পনিক গল্প বা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য নিষিদ্ধ চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এসব গল্পের বদলে ওয়াজ মাহফিলে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে পবিত্র কোরআন শরিফ ও সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি রেফারেন্সসহ দেওয়া বাধ্যতামূলক চাওয়া হয়েছে নোটিশে। একইসঙ্গে প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থের অনুবাদ পড়ানো বাধ্যতামূলক করারও দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান এই আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি সারাবাংলাকে নিশ্চিত করে আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এর প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করব।’

বিজ্ঞাপন

নোটিশে বলা হয়েছে, আলেম বা ধর্ম প্রচারকদের ওপর অনেক পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে আমাদের আলেমরা বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তৃতা ও ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন কাল্পনিক বক্তব্য, গালগল্প ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া যেমন— ইউটিউব, ফেসবুকের মাধ্যমে এসব বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য জনসাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও আমাদের আলেমরা বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তৃতা, ওয়াজ মাহফিলে কোরআন-হাদিসের যথাযথ রেফারেন্স উল্লেখ না করে নিজেদের মতো বক্তব্য দিয়ে সরকার ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন এবং জনসাধারণের মধ্যে অনৈক্য তৈরি করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে নোটিশে।

বিজ্ঞাপন

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সংবিধানের ২ (ক) অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তাই ইসলাম ধর্মের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং ইসলাম ধর্ম সঠিকভাবে প্রচার করা সরকারের আবশ্য পালনীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য। সুতরাং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল ও ধর্মীয় বক্তৃতায় বক্তারা যেন পবিত্র কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের রেফারেন্স উল্লেখ করে বক্তব্য দেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য পরিহার করেন, এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া আবশ্যক।

অন্যদিকে কাল্পনিক গল্প ও বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য শুনে তরুণরা যেন উগ্রবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে প্রভাবিত না হয়, এজন্য শিক্ষা ব্যবস্থার সব পর্যায়ে তথা প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পবিত্র কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের অনুবাদ পড়ানো বাধ্যতামূলক করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বলেছেন আইনজীবী। তা না হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফাইল ছবি

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/কেআইএফ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন