বিজ্ঞাপন

‘জাতির জনকের জন্মই হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য’

March 18, 2018 | 5:17 pm

।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ।।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা:  আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন আমাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়ার জন্যই। তাই আমরা তারই নেতৃত্বে স্বাধীনতা পেয়েছি।

তিনি যদি জন্মগ্রহণ না করতেন তাহলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ হিসাবে একটি দেশ পেতাম কি না সেটাই সন্দেহ ছিল।

রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনায় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশ একটা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে তখনও অনেকগুলি শর্ত ছিল। এই শর্তগুলো তখনকার যুগেও পূরণ করে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছিল। এটা মনে হয় পৃথিবীতে কেউ কোনদিন ভাবতেও পারবে না। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে একটা যুদ্ধ বিধস্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলে, সেই বাংলাদেশ স্বল্পোনত দেশের অবস্থানে চলে আসাটা ছিল কল্পনাতীত।

তিনি আরও বলেন, আর সেইখান থেকে আমরা আজকে স্বীকৃতি পেয়েছি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। যদিও ‘৭৫এর পর প্রায় ৩৭বছর। এই ৩৭ পরেই কিন্তু আমরা এই অজর্নটা করতে পারলাম। এই অর্জন বাংলাদেশ করতে পারত আরও অনেক পূর্বে। যদি না ৭৫’র ১৫ আগস্টের মতো একটা কালো দিবস বাঙালীর জীবনে না আসত। ৭৫’র পর যারা এই দেশের স্বাধীনতা চায় নাই, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। যারা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়টাকে মানতে পারে নাই। ষড়যন্ত্র তো তারা করেই যাচ্ছে- বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের পর থেকে বাংলাদেশ এগুতে পারে নাই কেন? এমন প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, যে অর্জনটা মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব করে যেতে পারলেন। এর পরে ২১ বছর যারা ক্ষমতায় তারা বাংলাদেশকে এক কদমও এগিয়ে নিতে পারেনি কেন? পারবে কি করে? না পারাটাই খুব স্বাভাবিক। আলবদর, রাজাকার যুদ্ধাপরাধী। যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতির পিতা কারাগারে বন্দী করেছিলেন। শাস্তি দিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইন মার্শাল’ল অডিন্যান্স দিয়ে বাতিল করে তাদেরকে মুক্তি নিয়ে তাদের নিয়ে আসা হল। যারা বাংলাদেশ থেকে চলে গিয়েছিল, পাকিস্তানের পাসপোর্ট নিয়ে তারা পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়েই এদেশে ফেরত আসলো। আর তারাই পেল মন্ত্রিত্ব। তাদের হাতে পতাকা।

আমার লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত পতাকা। তারা যেহেতু স্বাধীনতাই চায়নি। বাংলাদেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাক এটাও তারা চায়নি। বাংলাদেশের মানষের একটু মাথা গোজবার ঠাঁই হবে বা বাসস্থান হবে এটাও তারা চায়নি। বাংলাদেশের মানুষে রোগে ধুকে ধুকে মারা যাক এটাই তারা চেয়েছিল। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক এটাও তার কোনদিন চায়নি। বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করবার জন্য যা যা করণীয়, এরা তাই করেছে। আর নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়েছে। নিজেদের স্টাইল বেড়েছে। পৃথিবীর কোন ব্রান্ড আছে সেটা পড়ার জন্য তারা ব্যস্ত হয়েছে। কোন দেশ থেকে কোন ফার্নিচার কিনবে সেটা নিয়ে তারা ব্যস্ত ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ঘরে যে চাল নাই। তাদের ঘর দিয়ে পানি পড়ে। তারা যে কুঁড়ে-ঘরে বাস করে। তারা যে রোগে ধুকে ধুকে মরে সেটা দেখার তাদের সময় নাই। বা ইচ্ছাও ছিল না। ইচ্ছা যদি থাকত বাংলাদেশ অনেক আগেই এগিয়ে যেতে পারত। যদি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন। তিন বছরের মধ্যে যেহেতু আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হয়েছিলাম হয়ত আর মাত্র৫টা বছর হাতে পেলে পরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে পারত। এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি যে, স্বাধীনতার দশ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ উন্নত হতে পারত। আর যাতে বাংলাদেশ এগুতে না পারে, সেই জন্যইএই  ষড়যন্ত্র ছিল, এটা আমি নিজেই উপলব্ধি করতে পারি। কারণ ৭৫’র পর তো পাঁচটা বছর তো বিদেশে থাকতে হয়েছে রিফিউজি আকারে। ৮১ সালে যখন বাংলাদেশে এসেছি, রাজনীতি শুরু করেছি। প্রতি পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ২৬মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। কাজেই এই স্বাধীনতা দিবসও আমরা যথাযোগ্য মর্যাদায় ভিন্ন আকারে হবে উদযাপন করবো বলেন শেখ হাসিনা। কারণ যারা একসময় মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে বলেছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে আবার কি করবো।ওরা তো স্বাধীন হলে একটা তলাবিহীন ঝুড়ি হবে। আজকে তাদেরকে সেই জবাবটাই দিয়ে দিয়েছি। বটমলেস বাস্কেট না, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। সেই জবাইটাই আমরা দিতে পেরেছি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, শিল্পী হাশেম খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আব্দুল মান্নান খান, আবদুল মতিন খসরু। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/এমএস

অন্য দেশ যদি পারে, আমরা কেন পারব না : প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন