বিজ্ঞাপন

হুমায়ুন আজাদ হত্যা: সব আসামির মৃত্যুদণ্ড চায় রাষ্ট্রপক্ষ

January 18, 2021 | 7:29 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রথাবিরোধী লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীনের আদালতে মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম হেলাল। তিনি সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

এরপর আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মেদ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তা শেষ হয়নি। আদালত আগামী ২৪ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন তারিখ ধার্য করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একুশে গ্রন্থমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে মারাত্মক আহত হন ড. হুমায়ুন আজাদ। হামলার সময় তাকে চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। ওই হামলার পর হুমায়ুন আজাদ ২২ দিন সিএমএইচে ও ৪৮ দিন ব্যাংককে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে জার্মানির মিউনিখে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১২ আগস্ট তিনি মারা যান।

ওই ঘটনায় পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়। এছাড়া একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনেও অপর একটি মামলা হয়।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের ৬ অক্টোবর এই মামলার বাদী মো. মঞ্জুর কবির মামলাটির বর্ধিত তদন্তের আবেদন করলে ওই বছরের ২০ অক্টোবর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বিভিন্ন সময় মামলাটি তদন্ত করেছেন রমনা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান, সিআইডির পুলিশ ইন্সপেক্টর কাজী আব্দুল মালেক, মোস্তাফিজুর রহমান ও লুৎফর রহমান।

২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর আসামি আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে পাঁচ দফায় বিভিন্ন মেয়াদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ওই মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

এর আগে, ২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেন। ওই চার্জশিটে আবুল আব্বাস ভূঁইয়া ও গোলাম মোস্তফা নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন জেএমবির সুরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শাওন, আনোয়ার আলম, হাফিজ মাহমুদ, সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু।

বিজ্ঞাপন

আসামিদের মধ্যে সালেহীন ওরফে সালাহউদ্দিন ও নূর মোহাম্মদ ওরফে সাবু (পলাতক) ও হাফিজ মাহমুদ মারা গেছেন।

এদিকে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় এদিন সাবেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আনোয়ার ও কনস্টেবল রহিম আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন একই আদালত।

সারাবাংলা/এআই/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন