বিজ্ঞাপন

রোহিঙ্গা সংকট: চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক মঙ্গলবার

January 18, 2021 | 11:19 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মিয়ানমার সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের মধ্যস্ততায় মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু বিষয়ে জোর দেবে ঢাকা। বাংলাদেশ চাচ্ছে, আগামী এপ্রিল-মে’র আগেই মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করুক।

বিজ্ঞাপন

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চীনের মধ্যস্ততায় এবারের বৈঠকটি ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে বৈঠকটি ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে করার সিদ্ধান্ত হয়। যা মঙ্গলবার বেলা দুইটায় শুরুর কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর প্রত্যাবাসন চুক্তি, ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং ২০১৮ সালের ১৫-১৬ জানুয়ারি দুই দিনব্যাপী বৈঠকে প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত মাঠ পর্যায়ের বিষয় সই করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমার এখনও এসব চুক্তির কিছুই মানেনি। মাঝে ২০১৮ সালে চীনের সহায়তায় ত্রি-পক্ষীয় উদ্যোগ এবং বৈঠকও হয়েছে। তাতে রোহিঙ্গা সংকটের কোনো সমাধান আসেনি। তবে মঙ্গলবারের ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক নিয়ে আশাবাদী ঢাকার কূটনীতিকরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন:  এপ্রিল-মে’র আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায় ঢাকা

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রত্যাবাসন শুরু করতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েক দফায় কয়েক লাখ রোহিঙ্গার তথ্য-উপাত্ত মিয়ানমারকে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার ৫০ হাজারেরও কম রোহিঙ্গার তথ্য-উপাত্ত চূড়ান্ত করে ফেরত পাঠিয়েছে। শুধু তাই নয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর তথ্য-উপাত্ত বিচ্ছিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করেছে। যার অর্থ হচ্ছে যে, একটি রোহিঙ্গা পরিবারের পাঁচজন সদস্য থাকলে মিয়ানমার তিনজনের পরিচয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করেছে। বাকিদের বিষয়ে কিছু জানায়নি। যা মিয়ানমার ইচ্ছা করে করেছে। একই পরিবারের অর্ধেক সদস্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করার অর্থ হচ্ছে- পরিবারের একাংশ মিয়ানমারে ফেরত যাবে আর বাকিদের বেলায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা কোনো পরিবারই ফেরত যেতে রাজি হবে না। তাই মিয়ানমার এভাবেই যাচাই-বাছাই করেছে যাতে প্রত্যাবাসনে বিঘ্ন ঘটে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের বৈঠকে পরিবার ভিত্তিক যাচাই-বাছাই করার বিষয়ে জোর দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে জাতিসংঘ অধিবেশনে রাখাইনে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ প্রতিষ্ঠার যে সুপারিশ করেছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার তরফ থেকে নেপিডোকে বলা হবে।

সারাবাংলা/জেআইএল/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন