বিজ্ঞাপন

‘রাখাইনের পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা এখনই মিয়ানমারে ফিরতে চায় না’

January 19, 2021 | 6:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মিয়ানমারের রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখান থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গারা এখনই নিজ দেশে ফিরে যেতে প্রস্তুত না। অন্যদিকে বাংলাদেশ আশা করছে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

তার আগে প্রত্যাবাসন শুরু করার পরিবেশ তৈরিতে চীনের মধ্যস্থতায় ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক, তারপর সচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং প্রয়োজন হলে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। সবগুলো বৈঠকেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে থাকবে চীন। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কেউ যুক্ত হতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে চীনের পক্ষে দেশটির ভাইস মিনিস্টার ও মিয়ানমারের পক্ষে দেশটির ডেপুটি মিনিস্টার নেতৃত্ব দেন।

বিজ্ঞাপন
‘রাখাইনের পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গারা এখনই মিয়ানমারে ফিরতে চায় না’
বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে বৈঠকে অতিরিক্ত সচিব মাশফি বিনতে শামস, রোহিঙ্গা ডেস্কের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ জাতিসংঘ ও পূর্ব এশিয়া ডেস্কের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ডেস্কের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে রাখাইনের যে পরিস্থিতি, তাতে রোহিঙ্গারা এখনই মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত না। এ ছাড়া মিয়ানমার যেসব রোহিঙ্গাদের ভেরিফিকেশন করেছে, তারা সবাই রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। যেমন— ৮৪০ জনকে মিয়ানমার ভেরিফিকেশন করে পাঠিয়েছে, যারা ১২টি গ্রামের বাসিন্দা। এতে দেখা যাচ্ছে, কোনো পরিবারের সব সদস্য একসঙ্গে মিয়ানমারে ফিরতে পারছে না। ফলে রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনেও আগ্রহী হচ্ছে না। যে কারণে গত দুই বার প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমরা অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মিয়ানমারকে বলেছি যে প্রত্যাবাসনের জন্য ছোট ছোট গ্রাম বা গুচ্ছভিত্তিক রোহিঙ্গাদের নির্বাচন করতে হবে, যেন যারা ফিরে যাবে তাদের সবার মধ্যে পূর্বপরিচয় থাকে।’

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘চীনের মধ্যস্থতায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ত্রিপাক্ষিক ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। এই বৈঠকও ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এই পর্যায়ের বৈঠক বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মহাপরিচলাক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হতো। এবার এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে, যেখানে চীনের একজন প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকবেন। প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের (বাংলাদেশ-মিয়ানমার) মহাপরিচালক পর্যায়ে হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আগামী মাসেই আবার ত্রিপাক্ষিক সচিব পর্যায়ের বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে— এ তথ্য জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো দেশ যুক্ত হতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাতে বৈঠকে সবাই রাজি হয়েছে। এ ছাড়া ত্রিপাক্ষিক মহাপরিচালক ও সচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে প্রয়োজন হলে ত্রিপাক্ষিক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যাবাসন শুরু করার আশা করছি— এমন জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা চলতি বছরের প্রথম ভাগে প্রত্যাবাসন শুরু করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মিয়ানমার বলেছে যে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি নেই। তারা বছরের দ্বিতীয়ার্ধের কথা বলেছে। আমরা আশাবাদী।’

সারাবাংলা/জেআইএল/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন