বিজ্ঞাপন

তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে চায় সরকার

January 20, 2021 | 8:42 am

ঝর্ণা রায়, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ নতুন করে আর বাড়াতে চাচ্ছে না সরকার। একইসঙ্গে পুরনো এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধের চিন্তা করা হচ্ছে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাতে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, ওই প্রস্তাবে এরই মধ্যে ইতিবাচক সম্মতিও পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে কথা বলে জানা গেছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে৭৬টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াট। যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার এক তৃতীয়াংশ। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রেন্টাল ( ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা নয়টি। যার উৎপাদন ক্ষমতা ৩৭১ মেগাওয়াট। কুইক রেন্টাল ( দ্রুত ভাড়াভিত্তিক) ১২টি। যার উৎপাদন ক্ষমতা ৯৮৩ মেগাওয়াট। এর বাইরে বেসরকারি খাতে রয়েছে ৩৬টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেসব বিদ্যুতকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৪ হাজার ২৮৯ মেগাওয়াট। আর সরকারি খাতে রয়েছে ১৯টি তেলভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র। সেসব বিদ্যুতকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত সাড়ে ছয় বছরে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের পেছনে শুধু ভাড়া দিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। অথচ এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতা দূরে থাক, ৩০ শতাংশও ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অলস বসিয়ে বসিয়ে টাকা দিচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পাঁচটি তিন বছর মেয়াদী। যদিও এগুলো তিন বছর মেয়াদ নির্ধারণ করে যাত্রা শুরু করেছিলো। পরবর্তী সময়ে একবছর করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। যা চলতি বছরেই শেষ হতে চলেছে। যদি আর এক্সটেনশন না করা হয়, তবে এগুলো মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যাবে। আর বাকি চারটি ১৫ বছর মেয়াদী। এগুলোর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। জানা গেছে, একটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের জুনে। আর তিনটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময়ে।

অন্যদিকে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে তিনটা তিন বছর মেয়াদি। বাকিগুলো ১৫ বছর মেয়াদী। এগুলোর কয়েক দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০২২ সালে বেশ কয়েকটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল এর মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, মাস্টারপ্ল্যান রিভিউ করা হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদা, উৎপাদন এবং অর্থ অপচয় সবকিছু নিরূপন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চাহিদা পূরণ ও কোনো জরুরি প্রয়োজনের জন্য তেলভিত্তিক পিকিং কেন্দ্রগুলো রাখা হবে।

জানা গেছে, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য যদি কোনো রেন্টাল বা কুইক রেন্টাল বা অন্য কোনো তেলভিত্তিক কেন্দ্র চালু রাখতে হয়, তা রাখা হবে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের জন্য কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হবে না। সেজন্য নতুন চুক্তি হবে। সে চুক্তিতে থাকবে নো পাওয়ার নো পে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। দৈনিক চাহিদা সাড়ে ৯ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট (১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যা) এর বিপরীতে উৎপাদন ১৩ হাজার ৪৫৯ মেগাওয়াট সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৯১ লাখ। মোট সঞ্চালন লাইন (সা. কি.মি) ১২ হাজার ৪৯৪ কিলোমিটার। গ্রিড সাবস্টেশন ক্ষমতা ( এমভিএ) ৪৮,০১৫। বিতরন লাইন ( কি. মি.) ৫ লাখ ৯৪ হাজার। সিস্টেম লস ৮. ৭৩% (জুন ২০২০)। মাথাপিছু উৎপাদন ( কি: ও: আ:) ৫১২। আর বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন দেশের ৯৯% শতাংশ মানুষ। চলমান মুজিববর্ষেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

অন্যদিকে বিদ্যুৎখাত নিয়ে যে মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে, সেখানে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াট হওয়ার ধারণা করা হয়। সে অনুযায়ী সরকার নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। তারমধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/জেআর/এএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন