বিজ্ঞাপন

৬ বিতরণ কোম্পানির গ্যাস বিল পাওনা ৯ হাজার কোটি টাকা

January 20, 2021 | 10:15 am

স্পেশাল করেসপন্ডেট

ঢাকা: দেশের ছয়টি বিতরণ কোম্পানির পাওনা গ্যাস বিলের পরিমাণ ৯ হাজার ১৯ কোটি চার লাখ টাকা। এছাড়া দেশে বর্তমানে ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

সরকারি দলের সদস্য আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্যাস বিল পাওনা তিতাসের। তাদের পাওনা বিলের পরিমাণ ছয় হাজার ৬৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির ৬৯৬ কোটি ৮১ লাখ, কর্ণফুলীর ৮৪৪ কোটি ৯৫ লাখ, জালালাবাদের ৪৮৩ কোটি ৩২ লাখ, পঞ্চিমাঞ্চলের ১৯৫ কোটি ১৯ লাখ এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ১২০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা গ্রাহকের কাছে পাওনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অপর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী গত ১০ বছরে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লসের তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সিস্টেম লস প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এলেও এখন বাড়ছে। গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিস্টেম লস হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে তিতাসের ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ সিস্টেম লস হয়। এছাড়া ২০০৯-১০ অর্থবছরে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ, ২০১০-১১ অর্থবছরে এক দশমিক ৮২ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে এক দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৩২ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তিন দশমিক ৮৯ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই দশমিক ৮১ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক দশমিক ৩৫ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক দশমিক ১৭ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাঁচ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে দুই শতাংশ সিস্টেম লস হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আমদানিসহ গ্রিডভিত্তিক উৎপাদন ক্ষমতা ২১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট, ক্যাপটিভ ২৮০০ মেগাওয়াট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ৩৮২ মেগাওয়াট।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাসময়ে সেগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৪ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২১ হতে ২০২৬ সালের মধ্যে চালু হবে। মোট ২ হাজার ৮৯৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে চুক্তি সই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চালু হবে। আর ৭০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২২ হতে ২০২৩ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালু হবে। এছাড়া ১৫ হাজার ১৯ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে, যা আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে চালু হবে। এছাড়া ভারত ও নেপাল হতে এক হাজার ৯৯৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যা ২০২২ হতে ২০২৬ সালের মধ্যে শুরু হবে।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন