বিজ্ঞাপন

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

January 20, 2021 | 6:23 pm

আহমেদ জামান শিমুল

বিজ্ঞাপন

অনন্য মামুন— বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এ মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত পরিচালক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে তাকে নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। বারবার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ছেন। তবুও নির্মাণ করে যাচ্ছেন একের পর এক চলচ্চিত্র। আলোচিত এ পরিচালক সম্প্রতি মুখোমুখি হয়েছিলেন সারাবাংলা ডটনেটের সিনিয়র নিউজরুম এডিটর আহমেদ জামান শিমুলের। কথা বলেছেন তাকে ঘিরে থাকা বিভিন্ন বিতর্ক নিয়ে। দীর্ঘ ফোনালাপের সংক্ষিপ্ত রূপ থাকছে সারাবাংলার পাঠকদের জন্য।

 

বিজ্ঞাপন

পরিচালক সমিতির আজীবন নিষেধাজ্ঞা—আপনাকে কোনোভাবে শঙ্কিত করছে কিংবা আপনার কাজে কোনো বাধা তৈরি করবে কি?

প্রথমত, যেকোনো ধরনের নেগেটিভ কিছু কাজের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপনাকে ওভারকাম করে, ফাইট করে আসতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমি আসলে শঙ্কিত না। যেটা করতে হবে, সামনের দিনগুলোতে আমাকে সাবধানে পা ফেলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

বারবার কেন আপনাকেই নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হচ্ছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞাগুলো আপনার নির্মিত ছবির চেয়ে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্য।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত কারণে না, প্রত্যেকবারেই কিন্তু আমার ছবির কারণে পড়তে হয়েছে। আর যদি ব্যক্তিগত কারণে পড়তে হয়ে থাকে, সেটা মালয়েশিয়ার ঘটনায়।

নিউজ হয়েছিল— আমার নামে মানব পাচারের মামলা হয়েছে। আদৌ কি ব্যাপারটা তা ছিল? মালয়েশিয়ায় আমার নামে মামলা হয়েছিল এটার কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে?

বিজ্ঞাপন

আমার প্রথম নিষেধাজ্ঞা আসে ২০১৪ সালে— ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ নিয়ে। বলা হলো, ছবিটা যৌথ প্রযোজনার নীতিমালা না মেনে বানানো হয়েছে। ছবিটা কিন্তু ২০১০ সালের যৌথ প্রযোজনার নীতিমালায় অনুমোদন দেওয়া ছিল। অনুমতিপত্রে একটা লাইন ছিল— ‘দুই দেশের সমপরিমাণ শিল্পী নিয়ে কাজটা করতে হবে। কী পরিমাণ শিল্পী নেওয়া হবে এবং কোন দেশে কতটুকু শুটিং হবে, সেটা দুজন প্রযোজক সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’

অবশ্যই একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমার উচিত ছিল বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি শিল্পী নেওয়া, বেশি বেশি শুটিং করা। কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে, অনেকদিন পর যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণ শুরু হয়েছিল। একটা নতুন দ্বার উন্মোচন হয়েছিল, যেখানে একের পর এক ছবি মুখ থুবড়ে পড়ছিল। টাকার জন্য আমরা এফডিসিকেন্দ্রিক ছবি বানাচ্ছিলাম, লোকেশনে কোনো বৈচিত্র্য আনতে পারছিলাম না। ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’ হওয়ার পর কিন্তু বলা হলো, আমরা ছবি বানাতে পারি এবং বেশি বাজেট দিয়ে বানাতে পারি।

আমি তো অবশ্যই অন্যায় করেছি— সে অন্যায়ের কারণেই কিন্তু আমাদের সিনেমা হলগুলো অনেকদিন বেঁচে ছিল। যার জন্য একটা ‘নবাব’, ‘শিকারী’ হয়েছিল। যার জন্য শাকিব খান সাধারণ সিনেমা হল থেকে মাল্টিপ্লেক্সের নায়ক হতে পেরেছিলেন। ঈদের ছবিতে আমরা নতুন করে ২ কোটি টাকা টেবিল মানি কালেকশন করতে পেরেছিলাম। অনেকগুলো নতুন হল খুলেছিল— এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।

এখন আমি যদি আইনে যাই, আপনি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন না। যৌথ প্রযোজনার নীতিমালায় আরেকটা জটিলতা আছে। ধরেন, আমার ছবির লোকেশন হচ্ছে লন্ডন। তাহলে আমি কীভাবে ছবিটা দুই দেশে অর্ধেক অর্ধেক করে শুটিং করব?

আমার ‘তুই শুধু আমার’ ছবি নিয়েও ঝামেলা হয়েছিল— যেটার অনুমোদন দিয়েছিল যৌথ প্রযোজনার ছবির চিত্রনাট্য অনুমোদন কমিটি। চিত্রনাট্যে ছিল এ ছবির গল্প পুরোটায় লন্ডনে। বাংলাদেশের কোনো শুটিং লোকেশনের নামই ছিল না। তাহলে আপনি আমাকে অনুমোদনটা কেন দিলেন? এখন আমি বাংলাদেশকে লন্ডন বানিয়ে শুট করব? সেটা তো সম্ভব না।

দ্বিতীয়বার নিষিদ্ধ হলাম ২০১৭ সালে— মানব পাচারের অভিযোগে। আপনারা সাংবাদিকরা শিরোনাম করলেন, মামুন আদম পাচারকারী। তার নামে মামলা হয়েছে, এই হয়েছে…

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

না ‘মানব পাচারের অভিযোগ’ এমন লেখা হয়েছিল

একটা হচ্ছে আটক করা, আরেকটা গ্রেফতার করা। দু’টো শব্দের মধ্যে কিন্তু বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সন্দেহজনকভাবে আপনি যেকোনো মানুষকে আটক করতে পারেন। গ্রেফতার করতে হলে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতে হবে।

মামলাও থাকতে হবে

ঠিক। ওখানকার (মালয়েশিয়া) ইমগ্রেশন পুলিশ কিন্তু আমাকে আটক করেছিল। কিসের ভিত্তিতে? আমাকে আটক করা হয়েছিল ওখানকার কমিউনিটি থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল— যে ৫৭ জন আসছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য, তার মধ্যে সবাই শিল্পী না। এর মধ্যে আদম আছে। আমাদের টিমের সদস্যই ছিল মাত্র ৫৭। তাহলে ৫৭ জন আদম নিয়ে গেলাম কোথায় থেকে?

প্রথমত, এটা ভুল তথ্য। দ্বিতীয়ত, যখন আমাকে হাজতে নেওয়ার পর ওরা কিন্তু আমাকে একটা জায়গায় ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। কেন জানেন? আমাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৪ ডিসেম্বরে (২০১৭)। আমাদের ভিসা ছিল ১৫ জানুয়ারি (২০১৮) পর্যন্ত। এ ৫৭ জনের মধ্যে যদি কেউ আদম থেকেও থাকে, তাহলে ১৫ জানুয়ারির আগে তারা কেউ আদম না। সে একটা যুক্তিতে তারা যখন দেখল এদের কেউই অবৈধ না, তখন তারা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিয়ে আমাদেরকে ছেড়ে দিয়েছিল। যেটা মালয়েশিয়ার ইতিহাসে কখনো দেয় নাই।

আপনি আপনার কমিউনিটি থেকে যে কাউকে বঞ্চিত করতেই পারেন— ‘এটা আপনার কমিউনিটি বা সমিতির অধিকার রয়েছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, আপনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে, সেটা প্রমাণের আগে তাকে শাস্তি দেবেন?

এবার আসেন এবারের ঘটনায়— আমার মামলাটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ মামলায় এখনো প্রমাণ হয়নি আমি দোষী নাকি নির্দোষ কিংবা দোষের মাত্রাটা কতটুকু। কিন্তু আপনি কী করলেন— সে কারণ দেখিয়ে আমাকে আজীবন নিষিদ্ধ করে দিলেন। আমাদের যে সম্মানিত সদস্যরা আমাকে নিষিদ্ধ করেছেন, তারা সবাই কাটপিসের জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সিনেমাকে কলঙ্কিত, কুলষিত করেছে তারা একটা সময়ে। তাদের রায়ে কী হলো— আমার মতো ছেলেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হলো, এটার বিচার আমি কই চাইব?

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

এই যে আপনি ‘সম্মানিত সদস্য’ শব্দটা ব্যবহার করলেন, এরকম কারও নাম বলতে চান?

আমি কারও নাম বলতে চাই না। আমি একটা জিনিস দেখেছি— যদি বাংলাদেশের কোনো সংগঠনের নেতা কী, কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, সেটা দেখার জন্য আপনার দু’টা মানুষের কাছ থেকে নেতৃত্ব শিখতে হবে— শহীদুজ্জামান সেলিম ও এস এ হক অলিক।

কেন বলছেন এ কথাটা?

আমার সঙ্গে শাহীন মৃধাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সে কিন্তু অভিনয়শিল্পী সংঘের সদস্য। তার সমিতি কিন্তু একবারও বলে নাই, কেন শাহীন তোমার মুখ দিয়ে গালি বের হয়েছে? তারা প্রথমে আসছে তাদের সমিতির সদস্যকে বাঁচানোর জন্য। সারাটা দিন তারা ডিবি অফিসে ছিল। ডিবি অফিস থেকে যখন আদালতে চালান করা হয়েছে— আমি নিজে দেখছি, রাস্তায় (শহীদুজ্জামান) সেলিম সাহেবের মতো লোক দাঁড়িয়ে ছিলেন তার সদস্যকে বাঁচানোর জন্য। সেলিম সাহেব, এ এস এ হক অলিক সাহেব শাহীন মৃধার বাসায় ফোন দিয়েছে, ‘ভাবি, বাসায় বাজার আছে? ভাবি, আপনাদের কিছু লাগবে? উকিল ধরতে হবে? কী করতে হবে বলেন। সব আমরা করব। ও অন্যায় করে থাকলে ওকে আগে নিয়ে আসব, তারপর বিচার করব।’

এটাকেই বলে সংগঠন। আমার খুব কান্না লাগছে, খুব খারাপ লাগছে, নিজেকে ঘৃণিত একজন ব্যক্তি মনে হয়েছে— যখন আমি দেখি নাই যে আমার একটা সংগঠনের লোক গেছে ওখানে আমাকে বাঁচানোর জন্য। সংগঠনটা কী? আপনি আমাকে আগে বাঁচাবেন। তারপর মজলিশের মতো বসাবেন। আমরা গ্রামে যেরকম দেখি— আগে আমার লোককে ওখান থেকে নিয়ে আসি, তারপর বিচার-সালিশে ওকে শাস্তি দিই। দেখলাম না তো নাট্যসংগঠনের নেতারা বলছেন— শাহীন মৃধার কাজটা করা ঠিক হয়নি। তারা তো তাকে সাপোর্ট করেছে। তাদের কথা হচ্ছে, একটা ভুল হয়েছে। এটাকে মুছে দাও। কিন্তু এটা তো এতদূর যাওয়ার কথা না।

সেক্ষেত্রে আপনি বলতে চাইছেন আপনার সংগঠনের (চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি) নেতৃত্বের দুর্বলতার কারণে আপনাকে জেলে যেতে হয়েছে?

আমি ওইভাবে বলতে চাই না। ওই সমিতির যদি একজন মানুষকে আমি শ্রদ্ধা করি, সেটা হচ্ছে আমাদের (মুশফিকুর রহমান) গুলজার ভাইকে।

কিন্তু উনিও তো আপনার বিপক্ষে বলেছেন

তা বলুক, উনি অন্যায় দেখেছেন তাই বলেছেন। কিন্তু উনি আমার নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। আমি আবারও বলছি, আমি অন্যায় করলে আপনি শাস্তি দিতেই পারেন। কিন্তু সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুই জন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না। একটা মানুষও কি আমার স্ত্রীকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছে— ভাবি আপনি আপনার দু’টা বাচ্চাকে নিয়ে কেমন আছেন? আমি অন্যায় করছি, আমার স্ত্রী, বাচ্চারা কি কোনো অন্যায় করেছে?

সমিতির বক্তব্য হচ্ছে— এর আগে যখন অভিযোগ উঠেছিল, তখন ১ হাজার টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছিলেন যে পরবর্তী সময়ে কোনো সমস্যা হলে আপনাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হবে  

অভিযোগ অন্য জিনিস। আমি কি চুরি করেছি? আমি একটা ছবি বানিয়েছি, আমার ছবির সংলাপ নিয়ে আপনার আপত্তি। আমার ছবি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লিখেছেন না! আমার ছবিটা নিয়ে এলিটার মতো সংগীতশিল্পী প্রতিবাদ করেছেন তো। তার মানে কী! আমার ছবিটা সবশ্রেণির মানুষের খারাপ লাগেনি।

আমি যে স্ট্যাম্পে দিয়েছি সে স্ট্যাম্পে কি লেখা ছিল— আমার সিনেমায় এরকম কিছু হলে এরকম হবে? ডিবি কি অভিযোগ করেছে, অনন্য মামুনকে আপনারা তাড়াতাড়ি নিষিদ্ধ করেন!

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

তাহলে কি আপনি মনে করেন, আপনি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার?

আমি ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার না। সবচেয়ে বড় কথা, আমি এটাকে আমার জীবনের চরম ব্যর্থতা মনে করি। আমি খুব খারাপ ভাগ্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করা একটা মানুষ। আমি করোনার সময়ে একজন প্রযোজক ম্যানেজ করে একশটা পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করে ছবি বানাতে গিয়ে জেল খেটেছি। আমার মতো ব্যর্থ মানুষ একটাও নেই।

পরিচালক সমিতির একজন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আপনি চাইলে আপিল করতে পারবেন অথবা পুনরায় সদস্য পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আপনি কি এসব প্রক্রিয়ায় যাবেন?

কোথায় বলেছেন, কখন বলেছেন? আমার জানা নেই এ নিয়ে।

এটা নিয়ে আদালতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে নাকি?

আমার আদালতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। আমার কথা হচ্ছে— আমি যদি ব্যর্থ পরিচালক হয়ে থাকি, আমার সংগঠন যদি না চায়, তাহলে সিনেমা বানাব না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য বানাব, যেখানে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্যপদের দরকার নেই। ক্রিয়েটিভ মানুষ আমি। আমার ক্রিয়েটিভিটি কেউ আটকে রাখতে পারবে না, কখনই না। পৃথিবীতে কারও ক্ষমতা নেই, ঈশ্বরের দেওয়া, আল্লাহর দেওয়া জিনিস আটকে রাখার। আমি কোনো না কোনোভাবে কাজ করব। এটার জন্য আমাকে সিনেমাই বানাতে হবে— এমন কোনো কথা নেই।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে একজন পরিচালকের নাম অর্ধেক উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন, তার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছেন

আমি শুনেছি— ওই সম্মানিত পরিচালক হাত উঠিয়ে বলেছেন, ‘অনন্য মামুনের মতো মানুষ বা তার মতো সদস্য যে সংগঠনে আছে, আমি সে সংগঠনে থাকব না। আজকে এই মিটিংয়ে আমি এসেছি পদত্যাগ করার জন্য।’

এটা কি কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিংয়ে নাকি সাধারণ সভায়?

সাধারণ সভায় বলেছেন।

ওই পরিচালকের সঙ্গে আপনার আগে কোনো ধরনের সমস্যা হয়েছিল কি?

না, হয়নি। আমার কারও সঙ্গেই ব্যক্তিগত শক্রতা নেই। আমি আমার অফিসে থাকি। অফিসে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি।

আপনি মুনসন ফিল্মস, এসকে মুভিজ, লাইভ টেকনোলজিসে কাজ করেছেন কিন্তু তাদের সঙ্গে প্রথমে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকলেও পরে সবার সঙ্গেই সম্পর্ক খারাপ হয়েছে

আমার তো এসকে মুভিজের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না। এখনো এসকে মুভিজ, বিডি যেটা ওটার পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আমার নামে। লাইভ টেকনোলজিসের সঙ্গে তো আমার রক্তের বন্ধন। আপনি একটা প্রোডাকশনে কাজ করছেন না মানে এই না যে তাদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক খারাপ হয়ে গেছে। সম্পর্ক আর কাজ করা— দু’টো দুই বিষয়। সবচেয়ে বড় কথা— আমি বট গাছের নিচে আগাছা হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। একটা জায়গায় যখন থাকি তখন আমার মনে হয় আমি বট গাছের একটা পাতা, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি থাকি। যখন অনুভব করি, আমি বট গাছের নিচে একটা আগাছা, তখন আমি সরে যাই অথবা তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নষ্ট হয়।

অনন্ত জলিলের সঙ্গে

অনন্ত জলিলের মুনসন ফিল্মসের সঙ্গে কোনো সমস্যা নেই। অনন্ত জলিল ভাই যখন পরিচালক হলেন, তখন তো তিনি নিজেই পরিচালক, অন্যদের দরকার নেই। সম্পর্কের খারাপের কোনো বিষয় নেই। বাংলাদেশের কোনো পরিচালক একটি প্রযোজনা সংস্থায় আজীবন ছিল?

না, ছিল না কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে তো এত সম্পর্ক খারাপের অভিযোগও ছিল না

না। এই যে বললেন সম্পর্ক খারাপ লাইভ টেকনোলজিসের সঙ্গে, কিন্তু লাইভের আরাফাত ভাইয়ের সঙ্গে তো আমার প্রতিদিনই কথা হয়। এসকে মুভিজের সঙ্গে তো এখনও ডিড আছে, বললামই। এটা তো মানুষ স্বপ্নে দেখে। আমি তো স্বপ্নে বিশ্বাসী না।

আপনি পাঁচটি ছবির ঘোষণা দিয়েছেন, সবই কি এ বছর বানাচ্ছেন?

ইনশাআল্লাহ।

সবার আগে ‘প্যাড’ বানাবেন?

হ্যাঁ।

এটা কি অক্ষয় কুমারের ‘প্যাডম্যান’-এর অনুপ্রেরণায়? কবে থেকে শুটিং?

না, এরকম কিছু না। এটা অন্য একটা জিনিস। এটায় নারীর অধিকার আদায়ের একটা বিষয় আছে। প্রত্যেকটা ছবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবো মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে।

প্যাড, ক্রেজি, ভাইজান ২, পাইলট ও ঈদ মোবারক— সবগুলোই কি সেলিব্রেটি প্রোডাকশন থেকে আসবে?

এটাও এখন বলতে চাই না। সময়মতো সব বলব। একটি ব্যাপার এখানে বলে রাখি— আমি কিন্তু কোথাও লিখিনি যে আমি পাঁচটি ছবি পরিচালনা করব। বলেছি, আমি পাঁচটি ছবি বানাব।

সমিতি মানে এফডিসি বসে চা খাওয়া না, দুজন মানুষকে নিষিদ্ধ করা না

তার মানে আপনি প্রযোজক হিসেবে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে

আমি প্রযোজক হিসেবে, ইপি (এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার), প্রোডাকশন ডিজাইনার হিসেবে থাকতে পারি। এখন তো পোস্টের অভাব নেই। কিন্তু পাঁচটি ছবির সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত থাকব এবং এই বছরই বানাব।

সেক্ষেত্রে কি আপনি আপনার সহকারীদের ব্রেক দেবেন?

আমার সহকারীরা হতে পারে, বাইরের কেউ হতে পারে। আমি নিজেও হতে পারি।

ব্যক্তি অনন্য মামুনের ২০২১ সালের পরিকল্পনা কী?

আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে শুধু একটা কথায় বলতে চাই— আল্লাহ্ তুমি আমার খারাপ ভাগ্যকে ভালো করে দাও।

সারাবাংলা/এজেডএস/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন