বিজ্ঞাপন

ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান?

January 20, 2021 | 8:41 pm

তুহিন সাইফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: গত বছরের  ১৮ মার্চ থেকে মাদরাসা ছাড়া দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে । কাগজে-কলমে এই বন্ধ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি। তবে আসলেই কি শেষ হতে যাচ্ছে? নাকি প্রতিবারের মতো আরও এক দফা বাড়ছে ছুটি?

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি সূত্র ইঙ্গিত করেছে, এবার আর ছুটি বাড়ানো হচ্ছে না। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফেব্রুয়ারির প্রথমদিনেই মুখর হতে পারে বিদ্যালয়ের আঙ্গিনা। সেক্ষেত্রে প্রথমে শুরু হবে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আর নতুন করে বাড়ানো নাও হতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস শুরু হতে পারে। এরপর অন্যান্য ক্লাসেও পাঠদান শুরু করার অনুমতি দেওয়া হবে। এজন্য ক্লাস রুটিন তৈরি করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি) বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ফেব্রুয়ারিতে স্কুল খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন।

এদিকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসছে সরকারের শিক্ষা বিষয়ক দুই মন্ত্রণালয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সভা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ দুই মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা অংশ নেবেন।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই সভায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হবে। এসএসসি ও সমমানের ক্লাস শুরুর বিষয়ে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে এনসিটিবির তৈরি করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ক্লাস শুরু করা হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, এখনই প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে না। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে স্কুল-কলেজ খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এনসিটিবি এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসটি তৈরি করেছে সেটিও শিক্ষা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই বৈঠকে আলোচনা হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসটি আমরা পেয়েছি। তবে ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিদ্যালয় খোলা হবে কি না এই সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। যদি খোলা হয় তাহলে প্রথমে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আংশিক আকারে ক্লাস নিয়ে সিলেবাস শেষ করা হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদেরা দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করেছে। এ লক্ষ্যে এডুকেশন ওয়াচ ২০২০-২১ সমীক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন খসড়া প্রতিবেদনে কবে, কখন কীভাবে বিদ্যালয় খুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আমরা নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে বেধে দিচ্ছি না। সরকারকে সক্ষমতা অর্জন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে হবে। যেন পরবর্তী ধাপে ভুলগুলো শুধরে নিতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবার সুরক্ষা নিশ্চিত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দূরশিক্ষণ ব্যবস্থায় শিক্ষা বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো শিখতে পারছে না। কিন্তু শহরের শিক্ষার্থীরা এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে। এই বৈষম্য কমাতে হলে বিদ্যালয় খুলে দিতে হবে।

এডুকেশন ওয়াচের গবেষক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। সেই ক্ষেত্রে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ খুলে দেওয়া যেতে পারে। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সারাবাংলা/টিএস/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন