বিজ্ঞাপন

বাসা-বাড়িতে ‘কাজের লোক’ নিলে থানায় জানাতে হবে

January 21, 2021 | 11:04 pm

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: এখন থেকে রাজধানীর বাসা-বাড়িতে কাজের বুয়া, মালি, দারোয়ান বা অন্য কোনো কাজে নতুন লোক নিয়োগ করা হলে তাদের তথ্য থানায় জানাতে হবে। সচেতনতা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ নিয়ম কার্যকর হলে ঢাকা শহরে বাড়িওয়ালা বা ভাড়াটিয়াদের বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে চুরি ডাকাতির মতো ঘটনাগুলোও এড়িয়ে যাবে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।

গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর শাহজাহানপুরের একটি বাসায় বৃদ্ধা গৃহকর্ত্রীকে বিবস্ত্র করে লাঠিপেটা করে মাথা ফাটিয়ে দেন গৃহকর্মী রেখা। এরপর জোর করে চাবি নিয়ে আলমারি থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাসহ মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তিন দিন পর ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল এলাকা থেকে গৃহকর্মী রেখাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল সোয়া দশটা। কিডনিসহ নানা সমস্যায় ভোগা বিলকিস বেগম শুয়ে ছিলেন বিছানায়। তিন বছর ধরে অসুস্থ ওই নারীকে সেবা করছেন গৃহকর্মী রেখা। এর কিছুক্ষণ পর জোর করে বিলকিস বেগমকে বাথরুমে ঢোকান রেখা। খুলে ফেলা হয় শরীরের সব কাপড়। শীতের সকালে বৃদ্ধার গায়ে ইচ্ছামতো ঢালা হয় ঠান্ডা পানি।

বৃদ্ধ বয়সে বিলকিস বেগমের যে লাঠি ছিল ভরসা, তা দিয়েই শুরু হয় মারধর। মার খেয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলেও থামেননি রেখা। একের পর এক আঘাত করা হয় বিলকিসের মাথায়। একপর্যায়ে হাতের কাছে যা পেয়েছে তা দিয়েই চালিয়েছে নির্যাতন। আলমারির চাবির জন্য বুকের ওপরেও চেপে বসেন। বটি হাতেও তেড়ে আসেন রেখা। একসময় অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ করেন বৃদ্ধা বিলকিস বেগম। গলা থেকে চেইন খুলে রেখা তা পরে নেন আয়েশি ভঙ্গিতে, পরখ করে নেন হাতের বালা।

বিজ্ঞাপন

তারপর আলমারির চাবির সন্ধান পান নিষ্ঠুর এ গৃহকর্মী। কিন্তু খুলতে না পেরে রক্তাক্ত, অসুস্থ বৃদ্ধাকে টেনে নিয়ে বাধ্য করেন আলমারি খুলে দিতে। আলমারি খোলার পর ড্রয়ার খুলে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল নিয়ে নেন রেখা।

এরপর বাসায় তালা দিয়ে আহত বৃদ্ধাকে রেখে পালিয়ে যান গৃহকর্মী রেখা।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকার সুকন্যা টাওয়ারের একটি ফ্ল্যাট থেকে মাহফুজা চৌধুরী পারভীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ১৫ ফেব্রুয়ারি জড়িত সন্দেহে গৃহকর্মী স্বপ্নাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর মুলহোতা রেশমাকে ২৪ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর এই দুই ঘটনাসহ আরো অনেক ঘটনা আছে যেসব ঘটনায় গৃহকর্মী, পিয়ন, দারোয়ান, নিরাপত্তারক্ষী ও মালিদের জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়নি। আবার এমন অনেক ঘটনা আছে যেসব ঘটনায় কারও ফোন নম্বরও নেই। এ কারণে অপরাধীদের ধরতে হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া অনেক ঘটনা আছে পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারে না। এতে বাদী এবং বিবাদীর ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সন্দেহ থাকে।

বিজ্ঞাপন

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, বাসা-বাড়িতে যাকেই নিয়োগ দেওয়া হোক না কেন তাদের তথ্য ভোটার আইডি কার্ডসহ নিকটস্থ থানায় অবহিত করা হলে সেক্ষেত্রে অপরাধ করে কেউ সহজে ধরা পড়বে। আর অপরাধীরা এমনটি জানতে পারলে অপরাধ করার ক্ষেত্রেও দ্বিধায় পড়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির প্রধান হাফিজ আক্তার বলেন, ‘চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধে বুধবার (২০ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীতে একইসাথে ডিবির ৩২টি টিম বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে বাসা-বাড়ি ও দোকানের গ্রিল কেটে, জানালা কেটে বা ভেঙ্গে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটছে, বাসার দুর্বল দিকগুলো টার্গেট করে অপকর্ম করছে। বাসার বাথরুম কিংবা কিচেনের পেছনের গ্রিল কেটে চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে সচেতনতার জন্য বাথরুম বা কিচেনের দরজা লাগিয়ে রাখার জন্য। এছাড়া যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন বাসায় সিসি ক্যামেরা বা আইপি ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখেন। যে বাড়িতে গৃহকর্তা-গৃহকত্রী দুজনই চাকরিজীবী, তাদের বাসার নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা রাখা খুবই উত্তম।’

এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘অনেকেই আছেন, অপকর্মের ঘটনা ঘটলেও থানায় জানান না। এক্ষেত্রে নিজের পাশাপাশি নগরের অন্য বাসিন্দার নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হয়। তাই অনুরোধ যে কোনো ধরনের অপকর্মের ঘটনা ঘটলে যেন সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করা হয়।

ডিবির কর্মকর্তারা বলেন, ডিএমপি ভাড়াটিয়া তথ্য ফরমের পূরণের জন্য বারবার তাগাদা দিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বাসা-বাড়ির তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম পূরণের ফলে রাজধানীর বাসাবাড়ি ভিত্তিক অপরাধ অনেকটাই কমে এসেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন