বিজ্ঞাপন

‘স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সুষ্ঠু রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ হয়নি’

January 21, 2021 | 10:40 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে সুষ্ঠু রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা, মুক্ত সমাজ ব্যবস্থা। দুর্ভাগ্য আমাদের, স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশে একটা সুষ্ঠু রাষ্ট্রকাঠামো নির্মাণ হয়নি; আমরা নির্মাণ করতে পারিনি। একটা চমৎকার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন— সেটা আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। আর এর জন্য দায়ী আজকে যারা ক্ষমতায় জোর করে বসে আছে তারা।’

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে দলের এক ওয়েবিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে গঠিত বিএনপির ‘সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম কমিটি’ এই ওয়েবিনার আয়োজন করে। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. মাহবুব উল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশকে ‘নতজানু’ করে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে ওয়েবিনারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে, পরিচিতি থেকে দূরে ঠেলে দিতে চাইছে। ষড়যন্ত্র চলছে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ভুলে গিয়ে বাংলাদেশকে অন্য জায়গায় নতজানু করে রাখার। এ ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।’

‘আমাদের স্লোগান একটাই— আমরা মুক্ত হতে চাই, আমরা মানুষকে বাঁচাতে চাই, দেশকে বাঁচাতে চাই। আসুন আমরা সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই,’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ— এই দুইটাকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, শহিদ জিয়াই বাংলাদেশের জনগণের জন্য নতুন একটি পরিচিত, স্বতন্ত্র একটি অস্তিত্বের সন্ধান দিয়েছিলেন। তিনি তার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তার মধ্য দিয়ে জাতিকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ উপহার দিয়েছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যারা জিয়াউর রহমানকে ভুলিয়ে দিতে চান, তার সম্পর্কে বিকৃত কথা, ইতিহাস বিকৃত করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান, নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে শুধু একটি কথা বলতে চাই— যার যে অবদান, সে অবদান স্বীকার করুন। অন্যথায় আপনারা যেটাকে মহান করে তুলে ধরতে চান, সবচেয়ে বড় এবং একমাত্র নেতা হিসেবে দেখাতে চান, তাকেও কিন্তু খাটো করা হয়।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের যেটা প্রাপ্য, সেটা তাকে অবশ্যই দিতে হবে। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশের রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার ডাকেই মানুষ যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে এসেছিল।’

ওয়েবিনার কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব ইসমাইল জবিহউল্লাহর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরুউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক খন্দকার মুস্তাহিদুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ইকতেদার আহমেদসহ অন্যরা।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এজেড/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন