বিজ্ঞাপন

খুবি শিক্ষার্থী বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ

January 23, 2021 | 2:15 pm

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট

ঢাকা: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২ শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ ও তিন শিক্ষককে দেওয়া শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে না নিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণ। আমরা আজকের সমাবেশ থেকে বলতে চাই, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি মেনে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় যে তিন শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমরা স্পষ্ট করে বলছি ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে নোটিশ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশ থেকে জানানো হয়, অবিলম্বে এই দাবি মেনে নেওয়া না হলে সারাদেশে ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আল কাদেরী জয়ের সভাপতিত্বে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন প্রিন্স, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রুকনুজ্জামান ফরিদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পল্টন অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১৩ জানুয়ারি দুই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করে খুবি কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন—বাংলা ডিসিপ্লিনের মোহাম্মদ মোবারক হোসেন নোমান (১৮তম ব্যাচ) এবং ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের ইমামুল ইসলাম (১৭তম ব্যাচ)। সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে এরই মধ্যে অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি ১৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন শাস্তি প্রত্যাহার না করায় ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তারা আমরণ অনশন করেছেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত বছরের ১ জানুয়ারি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল—ছাত্রদের বেতন কমানো, আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও ছাত্রসংশ্লিষ্ট ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ওই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান কয়েকজন শিক্ষক। তাদের মধ্যে চার জনকে গত বছরের ১৩ অক্টোবর কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ওই নোটিশে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, কুৎসা রটানো এবং উসকানিমূলক কথা প্রচার করেছিলেন তারা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলে তারা। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো থাকার পরও তারা নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছেন।

পরে ওই শিক্ষকরা কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেন। অপসারণের কথা জানিয়ে এরপর গত ১৮ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়। এই নোটিশে বলা হয়, গত ১৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মোতাবেক তাদের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন- অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে খুবি’তে কেসিসি মেয়র

সারাবাংলা/এএইচএস/এসএসএ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন