বিজ্ঞাপন

‘শীতকালীন রোগ ও করোনা প্রতিরোধে মাস্কও এক ধরনের ভ্যাকসিন‘

January 23, 2021 | 8:36 pm

শাহীনূর সরকার

ঢাকা: শীতকালে শিশুদের মধ্যে এমনিতেই রোগব্যাধির সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তার ওপর করোনা মহামারি যুক্ত হওয়ায় শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা আরও বেশি বেড়ে গেছে। অনেকে চিকিৎকের কাছে নিতেও ভয় পাচ্ছেন। তবে প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুদের চিকিৎকের কাছে নিয়ে যাওয়া ও কিছু বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে শীতকালীন রোগ ও করোনা প্রতিরোধে মাস্কও এক ধরনের ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) সারাবাংলা.নেটের বিশেষ আয়োজন সারাবাংলা ফোকাসে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন অতিথিরা।

সারাবাংলা.নেটের সাংবাদিক রাজনীন ফারজানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার ও ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ কিংকর ঘোষ। অনুষ্ঠানের এ পর্বের বিষয় ছিল ‘মহামারিকালে শীতকালীন রোগব্যাধি’।

বিজ্ঞাপন

শীতকালে শিশুদের যেসব রোগব্যাধির বেশি সংক্রমণ হয় তারসঙ্গে করোনা রোগের লক্ষণের অনেকটা মিল আছে। সেক্ষেত্রে পরিবারের অন্যদের মধ্যে জ্বর ছড়াচ্ছে কি না তা সবসময় খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. সাঈদা আনোয়ার।

এছাড়া শিশুদের নিউমোনিয়ার লক্ষণ আছে কি না, জ্বর কতদিন থাকছে তা অভিভাবকদের পর্যবেক্ষণে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি। সাঈদা আনোয়ার বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বেশিরভাগ শিশুই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে চার সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের কিছু জটিলতা প্রায়ই দেখা যায়। মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিন্ড্রোম ইন চিলড্রেন এর মধ্যে একটি। এই রোগে শিশুদের হাঁড় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই পরীক্ষা করাতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

এছাড়া, শীতকালে নবজাতকের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দেন ডা. সাঈদা আনোয়ার। এসময় শিশুদের একদিন পর পর গোসলের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তবে নবজাতকের ত্বকে তেল ও লোশন ব্যবহারে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। জানান, বার বার তেল দিলে ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সরিষার তেলের কারণে নবজাতকের নিউমোনিয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে অলিভ অয়েল ব্যবহারের পরামর্শ দেন সাঈদা আনোয়ার।

শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবারের ওপর জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। ছয় মাস বয়সের পর থেকে বাচ্চাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনসম্মৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়াতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে করোনাভাইরাসের কারণে অনেক অভিভাবক চিকিৎসকের কাছে আসা কমিয়ে দিয়েছেন উল্লেখ করে সাঈদা আনোয়ার বলেন, প্রয়োজন হলে অবশ্যই মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। শীতকালীন রোগ ও করোনার জন্য মাস্কও এক ধরনের ভ্যাকসিন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ কিংকর ঘোষও বলেন, মাস্ক কোভিড-১৯-এর পাশাপাশি বায়ু দূষণজনিত রোগ থেকেও মানুষকে দূরে রাখে।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারিতে লকডাউন ও স্কুল বন্ধ থাকার কারণে প্রায় একবছর ধরে অনেকটা ঘরেই সময় পার করছেন শিশুরা। এতে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বলে জানান চিকিৎসকরা। এছাড়া অনলাইনে ক্লাস করার কারণে তাদের মধ্যে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে জানান তারা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়ে এসময় মাঠে, পার্কে যেখানে জনসমাগম কম সেখানে ঘুরাঘুরি করতে হবে। অভিভাবকদের অবশ্যই শিশুদেরকে অনেক সময় দিতে হবে। ইনডোর গেমস ও ঘরের কাজে তাদের অভ্যস্ত করতে হবে।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ববিদ কিংকর ঘোষ বলেন, মহামারির সময় শিশুর মা-বাবাকে বেশি চিন্তিত থাকতে দেখা গেছে। তাই শিশুর অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা না করে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

শিশুদের যেকোনো জটিলতায় বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলারও পরামর্শ দেন সারাবাংলা ফোকাসের অতিথিরা।

সারাবাংলা/এসএসএস

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন